স্নাতক ও স্নাতকোত্তর— দুটিতেই প্রথম শ্রেণীতে প্রথম। স্নাতকের ফল সিজিপিএ-৩.৯৮ আর স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ-৪.০০। বলছিলাম রাজধানীর পুরান ঢাকার শীর্ষ বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উদ্ভিদ বিজ্ঞানবিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের ছাত্রী যারীন তাবাসসুমের কথা।
একাডেমিক ফলাফলে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, শুরু থেকে ভাল করার প্রচেষ্টা ছিল তবে প্রথম হব এমন কোনো লক্ষ্য ছিল না। প্রতিকূলতা ছিল, অসম্ভব প্রতিযোগিতাও ছিল। সব কিছুর পর নিজের অবস্থানটি ধরে রাখতে পারা অবশ্যই অনেক বড় পাওয়া আমার জন্য।
ঢাকায় জেলাতে বেড়ে ওঠা যারীন তাবাসসুমের। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন তুখোড় মেধাবী। রাজধানীর মতিঝিল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫.০০ পেয়ে মাধ্যমিক পাশ করেন। পরে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫.০০ পেয়ে এইচএসসি পাশ করেন। স্বপ্ন ছিলো দেশের একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার।
তারই ধারাবাহিকতায় তিনি ২০১৩-১৩ সেশনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। যারীন তাবাসসুমের বাবাও ছিলেন তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের ছাত্র। বাবার কাছে সবসময়ই ঐতিহাসিক এই বিদ্যাপীঠের গল্প শুনেছিলেন তিনি।
ভর্তি হাওয়ার পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ, বিভাগের বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ, সম্মানিত শিক্ষকগণের অসাধারণ পাঠদান কৌশল এবং সবার আন্তরিকতায় খুব দ্রুতই অসম্ভব ভালো লাগা তৈরি হয় উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ এবং প্রাণের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি।
জানা গেছে, যারীন তাবাসসুম কখনো প্রতিদিন নিয়ম করে পড়াশোনা করতেন না। তবে চেষ্টা করতেন নিয়মিত ক্লাস লেকচারগুলো সুন্দর করে নোট করে রাখতে। যা পরবর্তীতে তার পড়ার সময় বেশ কাজে লাগতো। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। বোটানী ডিবেটিং ক্লাবের সদস্য হিসেবে বিতর্ক করতেন তিনি। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত বিভাগের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সেমিনারে অংশগ্রহণ করতেন তিনি। তিনি জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফলোশিপ ২০১৯-২০ এবং সাইন্স ফিকশন মেধাবৃত্তি ২০২০ অর্জন করেন।
ভবিষ্যতের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে প্রসঙ্গে যারীন তাবাসসুম বলেন, ভবিষ্যতে নিজ যোগ্যতায় সম্মানজনক কিছু করতে চাই। আর সুযোগ হলে উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণামূলক কাজ করার আগ্রহ আছে। স্রষ্টার অশেষ কৃপায় অনার্স এবং মাস্টার্স দু’বারই প্রথম হতে পেরেছি যার অনুভূতি সত্যি অন্যরকম ভাল লাগার।
‘উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকগণের আন্তরিকতা এবং সর্বোপরি সকলের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। ভবিষ্যতে সবার দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে দেশের সেবায় নিয়োজিত হবার স্বপ্ন দেখি’-যোগ করেন তিনি।