বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে কোণের এক সীটে বসে, কখনও ক্লাসের ফাঁকে, আবার কখনও বন্ধুদের সাথে আড্ডার মাঝেও বিড়বিড় করে কি যেন পড়তে দেখা যায় তাকে। হাতে হ্যান্ডনোট, চোখে লেন্স লাগানো মোটা চশমা, কানে ইয়ারফোনে বন্ধুরা দেখতে অভ্যস্ত তাকে। দূর থেকে প্রথমবার দেখলে যেকেউ ভাবে প্রলেব বকছে ছেলেটি। কিন্তু না, কাছে গিয়ে একটু কান পেতে শুনলেই ভুল ভাঙ্গে সবার। ছেলেটি তো প্রলেপ বকছে না, দেশের ৬৪ জেলার নাম বার বার উচ্চারণ করে যাচ্ছে। সবাই কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে গান শুনতে অভ্যস্ত, কিন্তু ও কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে নিজের রেকর্ড করা পড়া শুনতেই বেশি ভালোবাসে। উদ্দেশ্য সব চেয়ে কম সময়ে দেশের ৬৪ জেলার নাম মুখস্থ বলতে পারা।
অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় এর মাধ্যমে ছেলেটি এখন দেশের ৬৪ জেলার নাম মাত্র ১৬ সেকেন্ডেই বলতে পারে। শুধু তাই নয়, মাত্র ৩ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে সংবিধান, ২ মিনিট ৫ সেকেন্ডে বিশ্বের ১৯৬টি স্বাধীন দেশের নাম ও রাজধানী শহরের নাম মুখস্ত বলতে পারে ছেলেটি।
বিশেষ প্রতিভার অধিকারী এই ছেলেটির নাম হাসিব আহমেদ। পড়াশোনা করছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগে। এর আগে ঢাকার সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে ২০১৭ সালে এইচএসসি, পিরোজপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে কৃতিত্বে সাথে এসএসসি পাশ করেন তিনি। দুই ভাই-বোনের মধ্যে হাসিব সবার ছোট। বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা। গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরে কেটেছে শৈশব-কৈশোর।
ছোটবেলা থেকেই মুখস্থে পারদর্শী হাসিবকে বন্ধুরা আদর করে বিসিএস পাগলা বলে ডাকে। তবে এখানেই থেমে থাকতে চায় না সে। বাংলা সাহিত্যের সকল কবি, উপন্যাসিকের নাম ও তাঁদের লেখা কবিতা, উপন্যাস, নাটক প্রবন্ধের নাম সবচেয়ে কম সময়ে মুখস্থ করতে চায়ও। লেখাতে চায় গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ডে নিজের নাম। হতে চায় প্রশাসন ক্যাডার, যেন দেশ-মাতৃকার জন্য বৃহত্তর পরিসরে কিছু করতে পারে।
হাসিব বলেন, বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হলেও আমার মুখস্থ করার আগ্রহ বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পরে একদিন ইউটিউবে দেখলাম একজনকে ১৬ সেকেন্ডে ৬৪ জেলার নাম বলতে পারে (এটাই বোধহয় বাংলাদেশে দ্রততম রেকর্ড)। আমার বিশ্বাস ছিল যে, আমিও পারবো। ঠিকই পারলাম। এরপরে টার্গেট ছিল পৃথিবীর সবগুলো দেশ-রাজধানীর নাম দ্রততম সময়ে মুখস্থ করা।
তিনি আরও বলেন, কাজটা অনেক কঠিন। কিন্তু আমি সুশান্ত পালের একটা কথা সব সময় মেনে চলি, ‘কোন কাজ করতে গিয়ে যদি আপনি ৮-১০ বার ভাবেন। আপনি কাজটা পারবেন না, আপনাকে দিয়ে হবে না। তার মানে হচ্ছে আপনি কাজটা কেবল শুধু করেছেন, এখন যেভাবেই হোক শেষ করতেই হবে।’ তারপরে ৬০০-৭০০ বারের প্রচেষ্টায় আমি কাজটা করতে সক্ষম হই। বাংলাদেশের সংবিধানটাও এভাবে মুখস্ত করতে সক্ষম হয়েছি। মুখস্থের বিষয়টা যতই কঠিন হোক না কেন, নিজের মতো প্যাটার্ন বানিয়ে নোট করে চেষ্টা করলে কাজটা সহজ হয়ে যায়।