জবিতে ছাত্রদল, ইশা, আহলে হাদিসের সঙ্গে কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ কর্মীরাও

জবিতে ছাত্রদল, ইশা, আহলে হাদিসের সঙ্গে কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ কর্মীরাও
শনিবারের মানববন্ধনে ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের কর্মীরাও যোগ দিয়েছেন  © টিডিসি ফটো

রাজনৈতিক মতাদর্শের দিক থেকে ভিন্নতা থাকলেও ধর্মীয় একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইসলামিক শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন (ইশা) ও আহলে হাদিসের মতো ধর্মভিত্তিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের কর্মীরা।

জবির এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে তার শাস্তি দাবিতে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলেন তারা।

অভিযুক্ত জবির ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক তিথী সরকারের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজধানীর পল্লাবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।

জিডিতে তিথী বলছে, ফেসবুক আইডি কে বা কারা হ্যাক করে বিভিন্ন ধরনের পেজ ও গ্রুপে আমার আইডি ব্যবহার করে মন্তব্য করে আসছে। যাতে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির অবক্ষয় হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমার ক্ষতি করতে পারে বলে আমি আশংকা করছি।

গত বছরের শুরুর দিকে ফাহাদ নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উঠলে তার শাস্তির দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক সোসাইটি নামের একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে, ওই সংগঠনের উদ্যোগেই শনিবার ক্যাম্পাসে এই কর্মসূচি পালিত হয়। সংগঠনটির নেতৃত্বে থাকা আল ইমরান বাবু বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র শিবির, আহলে হাদিস, তাবলীগ ও চরমোনাইয়ের অনুসারীসহ সব মতাদর্শের শিক্ষার্থীরাই অংশ নিয়েছেন। আমাদের কাছে যখন তথ্য আসে তখন আমরা সবাই মিলে মানববন্ধনের ডাক দেই।

ওই কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছিলেন কি না- জানতে চাইলে সংগঠনটির জবি শাখার একাধিক নেতা তা স্বীকার করেন। আসন্ন কমিটিতে পদপ্রত্যাশী শাহবাজ হোসেন বলেন, ইসলামকে কটূক্তি করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়েছে, যার ফলে আমাদের কিছু কর্মীও এই কর্মসূচিতে গিয়েছিল। এখন কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে কোনো নির্দেশনা দিলে আমরা সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব।

এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে জবি ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আমাদের কিছু নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে আজকের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার স্থায়ী বহিষ্কারসহ আইনি ব্যবস্থা চাই।

এদিকে, ওই ছাত্রীকে এরইমধ্যে ছাত্র অধিকার পরিষদের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিশু।

তিনি বলেন, তাকে সাত কর্ম দিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। কারণ দর্শানোর পর আমরা সিদ্ধান্ত নেব তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেব। তার যে ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়েছে তাতে দখা যায়, সে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। সে সংগঠনের নিয়ম অমান্য করেছ, সে কারণে তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ইসলামিক শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনসহ ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে গঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক সোসাইটির নেতা আল ইমরান বাবু বলেন, ওই ছাত্রীর স্থায়ী বহিষ্কার চেয়ে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেবেন তারা। আমরা তার স্থায়ী বহিষ্কার চাই। রাষ্ট্রীয়ভাবে যে ধর্ম অবমাননার শাস্তি আছে, তা তাকে দেওয়া হোক।

এ বিষয়ে জবির প্রক্টর মোস্তফা কামাল বলেন, মঙ্গলবার যেহেতু অফিস খোলা, ওই দিন আমরা এটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ দিলে ভালো হয়। কেউ যদি অভিযোগ দেয় তাহলে আমরা সেই অভিযোগের আলোকে সিদ্ধান্ত নেব।

রাজধানীর মিরপুরে বসবাসকারী ওেই ছাত্রী তার ক্ষতি করা হতে পারে শঙ্কা প্রকাশ করে পল্লবী থানায় একটি জিডি করেছেন বলে জানিয়েছেন ওই থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী। তিনি বলেন, মেয়েটি বলেছে, আমার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে কেউ উল্টা-পাল্টা লিখেছে। তার বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ে আমরা সাইবার ক্রাইমের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতেছি। বিষয়টি কালকে আমরা সাইবার ক্রাইমে পাঠাব।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ