জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সানোয়ার সিরাজের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকারী ছাত্রীর সাথে যৌন নিপীড়নের তদন্তের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে আবারো অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার ও যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের সদস্য সচিব বরাবর ভুক্তভোগীর এক আবেদনপত্র ডেইলি ক্যাম্পাসের হাতে এসেছে।
আবেদনপত্র থেকে জানা যায়, ‘শারিরীক অসুস্থ্যতার কারণে ওই শিক্ষার্থী গ্রামেরবাড়িতে অবস্থান করায় তার পক্ষে ক্যাম্পাসে এসে সকল প্রমাণাদি ও আবেদনপত্র দাখিল করা সম্ভব ছিল না। সেই ভিত্তিতে গত ২৯ তারিখ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ফোন দিয়ে ১ দিনের মধ্যে যাবতীয় প্রমাণাদি ও আবেদনপত্র দাখিল করতে চাপ প্রদান করা হয় এবং তা করতে দেরি হলে ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে তদন্তকাজে অসহযোগিতা করার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করারও হুমকি দেয়া হয়।
এর প্রেক্ষিতে ওই শিক্ষার্থী গ্রামের বাড়ী থেকে কাগজপত্রগুলো ইমেইল করার জন্য ইমেইল আইডি চেয়ে বসেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এবং গ্রামে ইন্টারনেট না থাকায় মেইল করতে হলেও দূরের বাজারে যেতে হয় বলে জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। কর্তৃপক্ষ একটি ইমেইল আইডি প্রদান করলে সেখানে বার বার চেষ্টা করার পরও মেইল প্রবেশ করানো সম্ভব হয় না, পরে তাদের ফোন করলে জানা যায় যে তাদের টাইপিং মিসটেকের কারণে ভুল ইমেইল আইডি পাঠিয়েছেন তারা।
পরবর্তীতে আরেকটি ইমেইল আইডি পাঠান তারা, দূর্ভাগ্যজনকভাবে সেটিও ভুল ইমেইল, এইভাবে মোট তিনবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে কাগজপত্র পাঠাতে চাপ প্রদান করে ইচ্ছকৃতভাবে ভুল (একই জিনিস পরপর তিনবার কী ভুল হবার কথা?) ইমেইল আইডি পাঠানো হয়"।
আবেদনপত্র থেকে আরো জানা যায়,"ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী যখন ভুল আইডির কারণে কোনোভাবেই মেইল পাঠানো যাচ্ছিলো না তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয় এখন না পাঠিয়ে ১০ তারিখে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে জমা দিলেও হবে, কোনো সমস্যা নাই । অথচ তার কিছুক্ষণ আগেই ১ দিনের মধ্যে সব কাগজ জমা না দিলে প্রেস বিফ্রিং করে করে অসহযোগিতার অভিযোগ আনার হুমকি দেয়া হচ্ছিলো"।
আবেদনপত্রের ব্যাপারে জানতে সহকারী রেজিস্ট্রার জনাব শাহনাজ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে কাজ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্র সংগঠন "দাগকাটা"। সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের, যারা নারী পুরুষ-অপরাপর লিঙ্গের মানুষজনের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক জারি রাখার পাশাপাশি, এই পরিসরে লিঙ্গ ভিত্তিক বৈষম্য, নিপীড়ন, হয়রানীর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ প্রতিরোধে প্রয়াসী।
এ বিষয়ে "দাগকাটা" ফেসবুক পেজে তাদের একটি মতামত ব্যক্ত করে। দাগকাটা মনে করে একজন নিপীড়িত শিক্ষার্থীর সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন যথেচ্ছাচারী আচরণ শিক্ষার্থীকে পুনরায় নিপীড়নের সামিল এবং এমন আচরণের মাধ্যেমে নিপীড়িতের স্বরকে দমিয়ে দেবার প্রচ্ছন্ন চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলের বিরুদ্ধে পূর্বেও একইভাবে নিপীড়িত শিক্ষার্থীদের পুনঃপুনঃ নিপীড়ন করা এবং হুমকিধামকি দেবার অভিযোগ আছে যা কী শেষমেশ নিপীড়ককেই পার পাইয়ে দেয়, পুনর্বাসন করে। দাগকাটা প্রত্যাশা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের এই নিপীড়নমূলক আচরণ থেকে বের হয়ে এসে কান্ডজ্ঞান ও সততা প্রদর্শনের মাধ্যমে নিপীড়িত শিক্ষার্থীদের সত্যিকারের আশ্রয়ের জায়গা হয়ে দাঁড়াবে।