সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় তোপের মুখে ববি প্রশাসন, তিন দফা দাবি

১০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৯ PM
সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় তোপের মুখে ববি প্রশাসন, তিন দফা দাবি

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় তোপের মুখে ববি প্রশাসন, তিন দফা দাবি © টিডিসি

সড়ক দুর্ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন উপাচার্যসহ  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগ। আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপাচার্যের কার্যালয়ে আলোচনায় বসলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন তারা। 

এসময় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। বিকেল পাঁচটার মধ্যে তিন দাবি মেনে না নিলে মহাসড়ক (ঢাকা-কুয়াকাটা) অবরোধ করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

ঘটনার জন্য শিক্ষার্থীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলাকে দায়ী করেছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আরাফাতের আহত হওয়ার দুই ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও খোঁজ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শেরে বাংলা মেডিকেলে অবহেলায় পড়েছিল আহত আরাফাত। আরাফাতকে আরও আগে যদি ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাহলে হয়ত আরাফাত বেঁচে থাকতে পারতো।


শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবি উত্থাপন করেছেন- ‘নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হল প্রভোস্টের অবহেলার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে’, ‘সাথে সাথে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কেন ব্যবস্থা করা যায়নি তার দায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নিতে হবে’। শিক্ষার্থীরা এই তিনটি দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান বিকেল ৫টার মধ্যে জানানোর আল্টিমেটাম দিয়েছেন। প্রশাসন দাবিগুলোর বিষয়ে ৫টার মধ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না দিতে পারলে শিক্ষার্থীরা পুনরায় মহাসড়ক অবরোধ করবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রশাসনের আলোচনার সময় উপাচার্যের কক্ষে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিমের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ হন শিক্ষার্থীরা। পরে তোপের মুখে তিনি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন। 

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাসেল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবি দিয়েছি দাবিগুলোর বিষয়ে বিকেল পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে জানাবে। জানানোর পর আমাদের আন্দোলনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবো। এমন একটা দুর্ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখেছি। আরাফাতের মৃত্যুর দায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের রয়েছে তারা যদি আরো দ্রুত ব্যবস্থা নিতো তাহলে ভালো কিছু হতে পারতো। 

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাজিব বলেন, আমরা দুই ঘন্টা যাবৎ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে যোগাযোগ করে কোনো সাড়া পায়নি। আরাফাতের মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলার দায় রয়েছে এই দায় তারা কোনোভাবে এড়িয়ে যেতে পারে না। এই দায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রক্টরসহ প্রশাসনের সবাইকে নিতে হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির বলেন, আমরা যখন দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়েছি সাথে সাথে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের প্রক্টর ঢাকায় অবস্থান করছিলেন তিনি অহত শিক্ষার্থীর সাথে ঢাকা মেডিকেলে ছিলেন। ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়েছেন প্রক্টর। আমরা আমাদের দিক থেকে কোনো গাফিলতি রাখিনি। এরপর আমাদের অবহেলা বা দায় থাকলে সেটা আমরা মাথা পেতে নিচ্ছি। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, আমরা ঘটনা যখন জানতে পেরেছি সাথে সাথে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। দুর্ঘটনা ঘটায় রাস্তায় জ্যাম থাকায় আমাদের যেতে কিছুটা দেরি হয়েছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কেন ম্যানেজ করা যায়নি এমন প্রশ্নে উপাচার্য বলেন, ঐসময় তাৎক্ষণিক আমরা এসি অ্যাম্বুলেন্স করে তাকে ঢাকায় পাঠিয়েছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বিজয় চব্বিশ হলের প্রভোস্টকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসতে পারবো।

জিপিএ-৫ পেয়ে গাছ উপহার পেলেন মাদ্রাসাটির পরীক্ষার্থীরা
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আল…
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
এইচএসসি পাসেই চাকরি আড়ংয়ে, আবেদন ১৫ আগস্ট পর্যন্ত
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
অসহনীয় লোডশেডিংয়ে দুর্বিষহ অবস্থায় ইবি শিক্ষার্থীরা
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
মালয়েশিয়াকে নিয়ে ছেলেখেলা, সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
  • ১০ আগস্ট ২০২৬