জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ © সংগৃহীত
চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় পাঠ্যক্রমে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করার আগেই অন্তত একটি প্রাযুক্তিক বা ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে ডেইলি স্টার ও গ্রামীণফোন আয়োজিত ‘ফিউচার-রেডি বাংলাদেশ: এআই, স্কিলস অ্যান্ড ইয়ুথ এমপ্লয়্যাবিলিটি ইন দ্য ডিজিটাল ইকোনমি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা জানান তিনি।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষার প্রায় ৭০ শতাংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী ও আড়াই হাজার কলেজ নিয়ে এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। তাই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শুধু সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। বর্তমান ও ভবিষ্যতের শ্রমবাজার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা অ্যানালিটিক্স ও ডিজিটাল দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সেই বাস্তবতায় পাঠ্যক্রম পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
আইসিটির শিক্ষক সংকট থাকায় বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষকদের আইসিটি প্রশিক্ষণ দিয়ে মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সেশনজট ও উচ্চশিক্ষার রাজনৈতিকীকরণের কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নানা সংকটে রয়েছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে রাষ্ট্রীয় পলিসি সাপোর্ট প্রয়োজন।
উপাচার্য বলেন, বর্তমান সিলেবাস এতটাই পিছিয়ে যে, তা দিয়ে প্রথম বা দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাও কঠিন। অথচ বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আধুনিক ও সময়োপযোগী বিষয় চালুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী করতে ইংরেজি ও আইসিটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি আইটি, কোডিং, এআই লিটারেসি এবং সফট স্কিলসকে মূলধারার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার কাজও এগিয়ে চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ এবং অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রোগ্রাম চালু করা হচ্ছে জানিয়ে ড. আমানুল্লাহ বলেন, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে মাইক্রো লার্নিং ও মাইক্রো ক্রেডেনশিয়াল কোর্স চালু করা হয়েছে। সঠিক সময়ে সঠিক দক্ষতা দিতে পারলে বাংলাদেশের তরুণরা বৈশ্বিক প্রযুক্তিনির্ভর কর্মবাজারেও নেতৃত্ব দিতে পারবে।
গোলটেবিলে স্বাগত বক্তব্য দেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও শ্রম কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।