অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী কেলভিন © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
রাজশাহী কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসে সিট দখল করে একজনকে অবৈধভাবে তোলার পর সেই কক্ষে আরেক শিক্ষার্থী কীভাবে উঠলেন, তা জানতে চাইলে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসের বখতিয়ার খলজি (নিউ ব্লক) ভবনের ৫০৪ নম্বর কক্ষে থাকেন ভুক্তভোগী কলেজের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম হোসেন। ওই কক্ষে আরেকজনের বরাদ্দকৃত সিটে ছাত্রদল কর্মী ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে তুলে দেন আরেক ছাত্রদল কর্মী কেলভিন। ওই শিক্ষার্থীকে কর্তৃপক্ষ সিট বরাদ্দ দিয়েছে কি না জানতে চাওয়ায় ডি ব্লকের সামনে নিয়ে গিয়ে নাঈমকে মারধর করেন কেলভিনসহ ছাত্রদলের কর্মীরা।
রবিবার (৫ জুলাই) ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে রয়েছেন জানিয়ে ভুক্তভোগী নাঈম বলেন, সেই দিন রাত থেকে ওই বিষয় নিয়ে ঘুমাতে পারছি না, কিছু করতে পারছি না। খাওয়া-দাওয়া নেই, শরীর অসুস্থ হয়ে গেছে।
প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি অনুরোধ করে বলেন, ঘটনাটি আরও ছড়িয়ে পড়লে ওরা আমাকে ছাত্রাবাস থেকে বের করে দেবে, মারধর করবে। তাই আমি ভয় পাচ্ছি বিষয়টি প্রকাশ করতে। তবে বিভাগের কয়েকজন পরিচিত শিক্ষকের মাধ্যমে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল শিক্ষককে অবহিত করা হয়েছে। ওই শিক্ষক বিষয়টি গোপনীয়ভাবে সমাধান করতে চেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা কেলভিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনা সত্য নয়। আমি তাকে মারধর করিনি। তবে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছিল।
শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশিকুজ্জামান প্রীতম এ বিষয়ে বলেন, হল দখল বা মারধরের ঘটনা আমি শুনিনি। এখন শুনলাম। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
হোস্টেল তত্ত্বাবধায়ক ও কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তফা নাছিরুল আজম এ বিষয়ে বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। আমি উভয়পক্ষকে ডেকেছি। ওই সিটে যে ছেলেকে তুলে দেওয়া হয়েছিল, তাকে নেমে যেতে বলা হয়েছিল। তবে শারীরিকভাবে হেনস্তার বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। হলে অবৈধভাবে কারও থাকার সুযোগ নেই। কোনো দলের মিছিল করা কোনো ছেলে মেধাবী ছেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সিট দখল করবে, এটা হতে দেওয়া হবে না। আমি খোঁজ নিচ্ছি এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।