শিক্ষার্থীদের ভাবনায় ঈদুল আজহা 

২৩ মে ২০২৬, ০৯:৫৯ PM
শিক্ষার্থীদের ভাবনায় ঈদুল আজহা

শিক্ষার্থীদের ভাবনায় ঈদুল আজহা © টিডিসি ফটো

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব, যা ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের মহান শিক্ষা দেয় আমাদের। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে এই দিনটি আনন্দ ও উৎসাহের মধ্য দিয়ে পালিত হয়। তবে আজকাল অনেকেই শুধু উৎসবের বাহ্যিক রীতিনীতি পালনেই সীমাবদ্ধ থাকে। ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা হচ্ছে আত্মত্যাগ, পারিবারিক সৌহার্দ্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা। এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন হাটহাজারী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন। 


কুরবানি : নিজের পশুবৃত্তি বিসর্জন ও সুন্দর সমাজ গড়ার অঙ্গীকার।
কুরবানির ঈদ কেবল পশুর রক্ত ও মাংসের আনুষ্ঠানিকতা নয়, তা মানুষের ভেতরের অহংকার, স্বার্থপরতা ও পশুবৃত্তিকে বিসর্জন দেওয়ার এক পরম মহোৎসব। এই ত্যাগের মূল শিক্ষা হলো আত্মশুদ্ধি, যা আমাদের ব্যক্তিজীবন ছাড়িয়ে এক বৃহৎ সামাজিক দায়বদ্ধতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা তখনই, যখন আমরা বিত্তহীন ও সুবিধাবঞ্চিত প্রতিবেশীদের ঘরে মাংস পৌঁছে দিয়ে আনন্দের সমভাগ নিশ্চিত করি। এটি কোনো দয়া নয়, বরং সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গঠনের এক মানবিক অঙ্গীকার। পাশাপাশি, কুরবানি-পরবর্তী বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের পরম নাগরিক দায়িত্ব। আসুন, লৌকিকতা ভুলে ত্যাগের আলোয় উদ্ভাসিত হই। নিজের ভেতরের পশুকে পরিহার করে ভালোবাসার চাদরে জড়িয়ে নিই সবাইকে। তবেই কোরবানি হয়ে উঠবে অর্থবহ, সমাজ হবে শান্তিময় ও সুন্দর।
আশিক বিন আলম সোহাগ, শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম কলেজ।

আত্মত্যাগের মহিমায় ঈদুল আজহা 

মুসলিম জাতির দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে একটি হলো ঈদুল আজহা। যার অর্থ ‘ত্যাগের উৎসব’ বা ‘আত্মোৎসর্গের আনন্দ’। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই যেন এক মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ওঠে এই উৎসবকে ঘিরে। কেননা, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কুরবানি করেন এবং সেই কুরবানির মাংস গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করেন। ফলে ঈদের আনন্দ সমাজের সব স্তরের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বর্তমান সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির চর্চা অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ, মানুষে মানুষে বিভেদ ও মনোমালিন্য আজকাল সম্পর্কগুলোকে অনেকটাই অসহনীয় করে তুলছে। কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা আমাদের মাঝে সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই শিক্ষা কেবল পশু জবাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আমাদের হিংসা, অহংকার ও স্বার্থপরতাকে ত্যাগ করার মধ্যে নিহিত। যখন ঈদের আনন্দ আমরা শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের সকল স্তরের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেব, তখনই ঈদুল আজহার প্রকৃত তাৎপর্য ফুটে উঠবে।

সৈয়দা নাজিফা আক্তার, শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম কলেজ 


কুরবানির শিক্ষা হোক বিনয় ও তাকওয়া অর্জন

ঈদুল আজহা আমাদের শেখায় আত্মত্যাগ, অনুগত এবং বিনয়ী হওয়ার শিক্ষা। কুরবানি শুধু পশু জবাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়। বরং এটি অন্তরের অহংকার, লোভ ও আত্ম অহং ত্যাগ করার মূর্ত প্রতীক। হজরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর নির্দেশে নিজের প্রিয় পুত্রকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুুত ছিলেন, যা ছিল আত্মত্যাগ-এর অন্যতম উদাহরণ। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন,"কখনো আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না এগুলোর গোশ্‌ত এবং রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া"(সূরা হাজ্জ, ৩৭)। এই আয়াত আমাদের শেখায়, কুরবানির আসল উদ্দেশ্য হলো- তাকওয়া অর্জন করা, লোভ, হিংসা এবং অহংকার ত্যাগ করা। পরিশেষে, কুরবানির উদ্দেশ্য হোক নিজের ভিতরের  সত্তাকে আলোকিত করা ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা।

নাদিরা জাহান প্রীতি, শিক্ষার্থী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ 


ত্যাগের মহিমায় গড়ে উঠুক মানবিক সমাজ

ত্যাগ মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং সমাজকে করে তোলে সুন্দর ও মানবিক। শুধু কুরবানির পশু জবাই নয়, প্রকৃত ত্যাগ হলো নিজের স্বার্থ, অহংকার, লোভ ও হিংসাকে বিসর্জন দেওয়া। সমাজে স্বার্থপরতা, হিংসা ও বিভেদ দিন দিন বাড়ছে। তাই প্রয়োজন ত্যাগের মানসিকতা গড়ে তোলা। একজন মানুষ যখন নিজের সুখের চেয়ে অন্যের কল্যাণকে প্রাধান্য দেয়, তখন সমাজে সৃষ্টি হয় ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও শান্তি। কুরবানির শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়— মানবতার সেবাই শ্রেষ্ঠ ইবাদত। আসুন, আমরা শুধু উৎসবে নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ত্যাগের আদর্শ ধারণ করি। তাহলেই গড়ে উঠবে বৈষম্যহীন, সহানুভূতিশীল ও মানবিক এক সুন্দর সমাজ।

তানজিনা আক্তার চৈতি, শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম কলেজ

ঈদুল আজহা হলো মুসলিমদের জন্য একটি বড় আনন্দ ও উৎসবের দিন। ঈদুল আজহা শুধুই একটি উৎসব নয়, এটি ত্যাগ, শিক্ষা এবং আত্মশুদ্ধির এক অনন্য মাধ্যম। এটি আমাদের জীবনের প্রতিটি স্তরে নিজের স্বার্থ, অহংকার কিংবা সামাজিক অসমতার বিরুদ্ধে কোরবানির বার্তা দেয়। মূলত কোরবানির পশুর রক্ত কিংবা গোশ্‌ত কোনোটাই আল্লাহ তায়ালার কাছে পৌঁছায় না। আল্লাহ তায়ালা দেখেন মানুষের অন্তরের তাকওয়া এবং আনুগত্য। তাকওয়ার নিয়ত ঠিক থাকলে কুরবানি করা পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায়, আর তা কবুল করে। পশু উৎসর্গ করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ এবং মেলবন্ধনের সৃষ্টি হয়। ঠিক তখনই  সহানুভূতিশীল ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে ওঠে। যদি ঈদুল আজহার এই অন্তর্নিহিত শিক্ষা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিফলিত হয় তবেই তা হবে প্রকৃত কোরবানির বাস্তবায়ন এবং বৈষম্যের দেয়াল ভেঙে মানবতার সেতুবন্ধন গড়ে উঠবে।

আইইউবিএটি ও লে মেরিডিয়ান ঢাকার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
  • ২২ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রাম-বান্দরবানে বন্যাকবলিত ২৯০ পরিবারকে ত্রাণ দিল আইইউ…
  • ২২ জুলাই ২০২৬
দক্ষ সফটওয়্যার ডেভেলপার গড়তে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে …
  • ২২ জুলাই ২০২৬
ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত
  • ২২ জুলাই ২০২৬
প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে রিট করলে ব্যবস্থা, হুঁশিয়ারি মন্ত্রণা…
  • ২২ জুলাই ২০২৬
ফরিদপুরে কমিউনিস্ট পার্টির বিক্ষোভ সমাবেশ
  • ২২ জুলাই ২০২৬