জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ইবি প্রশাসনের সৌন্দর্যবর্ধক আলোকসজ্জা 

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫০ PM , আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৩ PM
ডায়না চত্বর ও প্রশাসন ভবন চত্বরে সারি সারি লাগানো সৌন্দর্যবর্ধক বোলার্ড লাইট

ডায়না চত্বর ও প্রশাসন ভবন চত্বরে সারি সারি লাগানো সৌন্দর্যবর্ধক বোলার্ড লাইট © টিডিসি ফটো

মার্কিন-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয়ে বাংলাদেশ সরকারের নানা উদ্যোগের মধ্যেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্বলছে অপ্রয়োজনীয় সৌন্দর্যবর্ধক আলোকসজ্জা। ক্যাম্পাসে বিদ্যুতের এহেন অপচয়ে ক্ষোভ জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে ডায়না চত্বর ও প্রশাসন ভবন চত্বরে সারি সারি লাগানো সৌন্দর্যবর্ধক বোলার্ড লাইটের। দুই চত্বর মিলিয়ে প্রায় দেড়শো লাইট সন্ধ্যা নামলেই জ্বলে ওঠে। এতে চারপাশ আলোয় ঝলমল করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীরের ওপার এলাকা ডুবে থাকে ঘুটঘুটে অন্ধকারে। 

জ্বালানি সংকট ও অন্যান্য কারণে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তীব্রভাবে বেড়েছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। ইতোপূর্বে দিনে ১-২ ঘণ্টা লোডশেডিং চললেও ইদানীং তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০/১২ ঘন্টায়। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে লোডশেডিংয়ের এই হাল, বলছেন সংশ্লিষ্ট হরিনারায়ণপুর উপকেন্দ্রের কর্মকর্তারা। কবে নাগাদ এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে তাও বলতে পারছেন না তারা। 

এদিকে সংশ্লিষ্ট এলাকার অভ্যন্তরে বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত হওয়ায় ক্যাম্পাসে ও আবাসিক হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চাপ রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত আশপাশের এলাকায় অধিক পরিমাণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তীব্র গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়ায় নাভিশ্বাস উঠেছে ক্যাম্পাসের আশপাশে শেখপাড়া, শান্তিডাঙ্গায় বিভিন্ন মেসে থাকা শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর জীবনে। 

এ পরিস্থিতিতে সন্ধ্যা নামলেই যেখানে শুরু হয় লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা, সেখানে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই বিলাসিতা দাগ কেটেছে শিক্ষার্থীদের মনে। সরকার যেখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে অফিসের সময় কমানোর পাশাপাশি সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে দোকানপাট, শপিংমল বন্ধ, বিয়েবাড়ি সহ অন্যান্য জায়গায় অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে সেখানে সন্ধ্যা থেকে রাত ১১-১২ টা পর্যন্ত সৌন্দর্যবর্ধন আলোকসজ্জা সরকারি সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের টুরিজম বিভাগের  শিক্ষার্থী রায়হান বলেন, দেশে এখন এমনিতেই জ্বালানি সংকট চলছে। এরমধ্যে ডায়নায় ছোট ছোট লাইট জ্বলে। এগুলো না জ্বালালেও ক্যাম্পাস আলোকিত থাকে। মানুষ যেখানে প্রয়োজনীয় জ্বালানী পাচ্ছে না সেখানে এই সৌন্দর্য নাহয় না-ই দেখলাম আমরা। প্রশাসনের কাছে দাবি, এই অপ্রয়োজনীয় লাইট গুলো বন্ধ রাখা হোক। 

আরেক শিক্ষার্থী সিনথিয়া বলেন, আমাদের মেসে বলতে গেলে দিনের অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এরমধ্যে দেখা যায় সন্ধ্যা হলেই ক্যাম্পাসে দেখা যায় বোলার্ড লাইট জ্বলজ্বল করছে, দিনের বেলায়ও বিভিন্ন জায়গায় লাইট জ্বলে। তারা এরকম বিলাসিতা করছে অথচ মেসে ৪০/৪৫ মিনিট পরপরই লোডশেডিং হয়। এতে আমাদের পড়াশোনা, খাওয়াদাওয়া, ঘুম সবকিছুর ব্যাঘাত ঘটছে। অথচ ক্যাম্পাসে এভাবে বিদ্যুতের অপচয় হয়। এসব অব্যবস্থাপনা বন্ধ হওয়া উচিত। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম শরীফ উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সৌন্দর্যবর্ধক লাইট গুলো লাগানো হয়েছিল। তবে এখন যেহেতু জ্বালানি সংকটের কারণে একটা প্রেক্ষাপট চলছে, সরকারের পক্ষ থেকেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে চাইলে এই লাইট গুলো বন্ধ রাখা যায়। এ ব্যাপারে আমি প্রক্টর ও ভিসি স্যারের সাথে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 

অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় এনসিপি’র
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
বৃষ্টি নিয়ে সুখবর দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
তরুণ কলাম লেখক ফোরাম জবি শাখার উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ছাত্রদলের মারধরে ফেটে গেছে ঢাবির হল সংসদ নেতার কানের পর্দা 
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
কৃষ্ণচূড়ার রঙে রাঙা বরগুনা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
সন্তানের সামনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নারী
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬