১৯৭৮ সালে যাত্রা শুরু করে শরীয়তপুর সরকারি কলেজ। এরপর কেটে গেছে ৪০ বছর। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৫০টি বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে ৪০ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী উৎসবের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি। বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভাঙবে দিনব্যাপী মিলনমেলা।
সকাল নয়টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী স্মৃতিচারণা ও মতবিনিময় হয়। বিকেল চারটা থেকে হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই মিলনমেলা। বেলুন ও কবুতর ওড়ানোর পর ৪০ বর্ষের ফলক উন্মোচন করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত, গার্ড অব অনার ও পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর শুরু হয় আলোচনা সভা।
শরীয়তপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় উদ্বোধক ছিলেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা অপু উকিল, জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবদুর রব মুন্সী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল হাশেম তপাদার। এ সময় কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শরীয়তপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ৪০ বছরে এ জেলার ঐতিহ্যবাহী কলেজ থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছেন।
পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক বলেন, শেখ হাসিনা সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার। তাই বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন। তাই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হয় না। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভাবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি বলেন, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ । নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা নদীর ওপর সেতুর (পদ্মা সেতু) বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ সরকারের আমলে ১০ বছরে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নত হয়েছে। আমাদের বহু দূরে যেতে হবে। তাই সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতা চাই।
শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নোট ব্যবহার ও কোচিং এ উৎসাহিত করবেন না। আমি যেন শুনতে না পাই আপনারা কোচিং করাচ্ছেন। প্রাইভেট কোচিং শিক্ষকদের কাজ হতে পারে না। শিক্ষাকতার পেশা ন্যায়, নৈতিকতার সাথে করতে হবে। ক্লাসে পাঠ্যসূচী খুব যত্ন করে পড়াবেন। শিক্ষার্থীদের মনোযোগী করে তুলবেন। নতুন প্রজন্মকে বর্তমান যুগের সঙ্গে সংগতি রেখে বিশ্বমানের জ্ঞান ও প্রযুক্তিসম্পন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। তারাই উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশের নির্মাতা হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গোল্ডেন এ প্লাস এবং এ প্লাসের আসায় দৌঁড়াবে না। ভালো লেখা-পড়া করতে হবে। সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। নারীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। নারীরা এগিয়ে গেলে বিশ্ব এগিয়ে যাবে। শিক্ষা, জ্ঞান ও বিজ্ঞানে নারীরা এগিয়ে যাবে। সাথে পুরুষরাও এগিয়ে যাবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে, ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এ বাংলাদেশ। যারা বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে দিতে চায় না, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। মৌলবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতিবাজ, মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।
কলেজ সূত্র জানায়, ৬ দশমিক ২ একর জমির ওপর ১৯৭৮ সালের ৯ জুন কলেজের যাত্রা শুরু হয়। তৎকালিন মহাকুমা প্রশাসক মো. আমিনুর রহমান কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ১৯৮০ সালের ১ মার্চ কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়। এরপর কেটে গেছে ৪০ বছর। ১৯৭৮-৭৯ শিক্ষাবর্ষে ১৮৯ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয় কলেজটিতে। বর্তমানে কলেজে শিক্ষার্থী ৮ হাজার ৫৬৬ জন।