প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
বিসিএস পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় করা মামলায় আত্মসমর্পণের পর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন।
জানা গেছে, এদিন আসামি কৌশিক দেবনাথ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তার আইনজীবী মো. শরিফুল ইসলাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামির বিরুদ্ধে এজাহারে এবং অভিযোগপত্রে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট। তিনি ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নয়।
এসময় রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ৭ জুলাই হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তাকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।
২০২৪ সালের ৮ জুলাই রাজধানীর পল্টন থানায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইনে সিআইডির উপপরিদর্শক নিপ্পন চন্দ্র চন্দ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে গত ১৮ মে আবেদ আলীসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দেয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রশ্নফাঁসচক্রের মূলহোতা আবেদের নেতৃত্বে পরীক্ষার আগেই নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্নসহ উত্তর পৌঁছে দেওয়া হতো। প্রার্থীদের নির্দিষ্ট স্থানে এনে প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করানো হতো। এরপর পরীক্ষার দিন তাদের কেন্দ্রে পাঠানো হতো। বিনিময়ে তারা মোটা অঙ্কের টাকা আগাম নিয়ে নিতেন। চক্রটির বিস্তার ছিল দেশের বিভিন্ন জেলায়। এতে সরকারি চাকরিজীবী, পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ যুক্ত ছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।
এতে আরও বলা হয়, নেটওয়ার্কটি বিজি প্রেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি এনজিও পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। প্রশ্নফাঁস কার্যক্রম পরিচালনায় সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘ সময় সক্রিয় ছিল এবং তারা পরীক্ষার গোপনীয়তা ভেঙে রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০২৩-এর ১১ ও ১৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।