নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আলোচনা সভা ও দোয়া © সৌজন্য প্রাপ্ত
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং দোয়া পরিচালনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. শামীম কায়সার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন এনএসইউর ডিপার্টমেন্ট অব ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউল হক আদনান।
দোয়া পরিচালনা করেন এনএসইউ’র ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সিনিয়র লেকচারার এম এম নওয়াজ আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী, এবং স্বাগত বক্তব্য দেন এনএসইউর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ।
স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ আমাদের প্রত্যেকের জন্য, প্রতিটি পরিস্থিতিতে অনুপ্রেরণার উৎস। আল্লাহ আমাদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সক্ষমতা দিয়েছেন। আমাদের উচিত এই সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা অনুধাবন করা এবং তা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনুসরণ করা।
প্রধান অতিথি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. শামীম কায়সার বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পবিত্র কোরআন নিয়ে এসেছেন। এই কোরআনের মধ্যে বিজ্ঞান আছে, প্রযুক্তির কথা আছে, ব্যবসা-বাণিজ্যের কথা আছে, আছে আমাদের জীবন কীভাবে পরিচালনা করতে হবে তার দিকনির্দেশনা। আমরা যদি কোরআনকে শুধু পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অন্তর থেকে ধারণ করতে পারি এবং এর শিক্ষা আমাদের জীবনে প্রয়োগ করতে পারি, তাহলে আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
বিশেষ অতিথি বেনজীর আহমেদ বলেন, ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) আমাদের জন্য মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ও মানবিক শিক্ষাকে নতুন করে স্মরণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তার জীবন, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, বিনয় ও উত্তম চরিত্র আমাদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। তার আদর্শ অনুসরণ করে আমরা ব্যক্তিজীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারি।
প্রধান আলোচক ড. জিয়াউল হক আদনান মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন থেকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরে বলেন, “নিজের লক্ষ্য ও আদর্শের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার ও বিশ্বাস রাখা, কখনো হতাশ না হওয়া, আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজায় রাখা এবং অন্যদের সঙ্গে কীভাবে সদয়, সম্মানজনক ও সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হয় তা শেখা। মহানবী (সা.)-এর জীবন আমাদের ধৈর্য, মানবিকতা ও উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দেয়।
এনএসইউ’র কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব খান বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও তার সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হোক।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন একজন নিঃস্বার্থ ও মানবতাবাদী মানুষ। তিনি মানুষের কল্যাণে তার জীবনের সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করেছেন এবং মানবতার কল্যাণে সম্ভব সবকিছু করার চেষ্টা করেছেন। তার জীবন আমাদের দেখায়, একজন মানুষ কীভাবে শুধু একটি জাতির কল্যাণেই নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে পারেন।