‘দ্যা আর্কাস ১.০’ শিরোনামে আঞ্চলিক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিযোগিতা © টিডিসি ছবি
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টস (এসিইএস)-এর উদ্যোগে ‘দ্যা আর্কাস ১.০’ শিরোনামে আঞ্চলিক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল (২২ আগস্ট) ইউআইইউ ক্যাম্পাসে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষাথীদের মধ্যে বিভিন্ন শাখার জ্ঞান, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও ব্যবহারিক দক্ষতাকে তুলে ধরার লক্ষ্যে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
এই প্রতিযোগিতায় ঢাকা অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩০০+ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন সহযোগীতায় ছিলো আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট’র (এসিআই) ইউএপি স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার, এনএসইউ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাব, এসিআই আইইউবিএটি স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার, ইডব্লিউইউ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাব, এসিআই ইউআইটিএস স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার, বিইউবিটি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাব এবং ডিআইইউ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এম. শামীম জেড. বসুনিয়া। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর এবং আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট’র (এসিআই) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার সভাপতি প্রফেসর ড. মো: তারেক উদ্দিন, পিইঞ্জি.। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইউআইইউর উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: আবুল কাসেম মিয়া এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ইউআইইউর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো: মুজিবুর রহমান।
প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. শামীম জেড. বসুনিয়া, তাঁর বক্তব্যে একজন প্রকৌশলীর পেশাগত জীবনে পরিশ্রম, অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়াও তিনি, ভূমিকম্প সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো, নির্মাণকাজের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পুনর্ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথি ড. মো: তারেক উদ্দিন, তাঁর আলোচনায় টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী নির্মাণব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা, কম-কার্বন, কার্বন-নিরপেক্ষ এবং কার্বন-ঋণাত্মক কংক্রিট নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনে শিক্ষাথীদের উৎসাহিত করেন। এছাড়াও তিনি ভবিষ্যতের নির্মাণ খাতকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করার জন্য তরুণ প্রকৌশলীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
প্রফেসর ড. মো: মুজিবুর রহমান তাঁর স্বাগত বক্তব্যে - ভবিষ্যৎ প্রকৌশলীদের সামনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন এবং এসব সমস্যা মোকাবিলায় উদ্ভাবনী ও টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে এসিইএস আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
ইউআইইউর উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: আবুল কাসেম মিয়া, দ্যা আর্কাস ১.০ আয়োজনের জন্য এসিইএস ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি নিজেদের আগ্রহ ও সক্ষমতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে সততা, নৈতিকতা ও কার্যকর সময় ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
আর্কাস ১.০-এ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সর্বমোট পাঁচটি প্রতিযোগিতা বিভাগ ছিল। আর্কস্প্যান - ট্রাস নির্মাণ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইউআইইউর ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ দল। আর্কড্রিফট - সিসমিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আইইউবিএটির ‘ডাইনামিক ফ্রেমস’ দল। আর্কটাইট্রন - পেপার টাওয়ার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এনএসইউর ‘টিম কংক্রিট এভিডেন্স’ দল। আর্কোলজি - পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এনএসইউর ‘জিরোহিরো’ দল এবং আর্কোগ্রাফি - ভিডিও প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইউআইইউর ‘উপলব্ধি’ দল।
এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন ভাবনা, দলগত কাজ ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করবে। ভবিষ্যৎ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের আরও দক্ষ, দায়িত্বশীল ও উদ্ভাবনী পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, পুরকৌশল বিশেষজ্ঞ এবং বেসরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।