ইউআইইউতে ইএসজি ও জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত © সংগৃহীত
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) নারী পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের জন্য ইএসজি ও জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা বিষয়ক সেমিনার সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্সে’র (এসওবিই) উদ্যোগে নেক্সাস সেমিনার সিরিজের তৃতীয় সেমিনার হিসেবে ‘নারী পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের জন্য ইএসজি ও জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন, এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্নেন্স (ইএসজি) মানদণ্ড নারীদের জন্য কর্মজীবন ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করছে। তবে যথাযথ পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা ও কার্যকর বাস্তবায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এসব মানদণ্ড পরিপালনের ক্ষেত্রে নারী-মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত ও অসম চাপের মুখে পড়তে পারে।
সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপ আইএফসি’র সিনিয়র এনভায়রনমেন্টাল স্পেশালিস্ট ড. আফিফা রাইহানা। তিনি তার বক্তব্যে কীভাবে ইএসজি ও জলবায়ু-সুম্পর্কিত আবশ্যকতা ব্যবসায়িক কৌশল, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত, বাজারে প্রবেশাধিকার, প্রতিযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিস্থাপকতার ওপর ক্রমবর্ধমান প্রভাব ফেলছে, সেগুলো তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, পরিবেশ ও সামাজিক ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইএসজি রিপোর্টিং, টেকসই অর্থায়ন, পরিবেশগত পরামর্শ এবং জলবায়ু-ঝুঁকি মূল্যায়নের মতো ক্ষেত্রগুলোতে নারীদের জন্য নতুন ও সম্ভাবনাময় কর্মজীবনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এসব সুযোগ কাজে লাগাতে কারিগরি জ্ঞানের পাশাপাশি কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা, অংশীজনদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং নীতিমালা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ড. রাইহানা আরও বলেন, জটিল পরিবেশগত ও সামাজিক বিধিবিধান পরিপালনের ক্ষেত্রে অর্থায়ন, তথ্য ও কারিগরি দক্ষতার সীমাবদ্ধতার কারণে নারী-মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে কার্যকরভাবে এসব বিধিবিধান পরিপালন করতে পারলে ব্যবসার বিশ্বাসযোগ্যতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে করপোরেট সরবরাহ শৃঙ্খল, রপ্তানি বাজার, সরকারি ক্রয় এবং টেকসই অর্থায়নের সুযোগ আরও সহজতর হতে পারে।
মূল বক্তব্যের পর স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও শিক্ষা খাতের তিনজন বিশিষ্ট পেশাজীবীর অংশগ্রহণে একটি প্রাণবন্ত প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রীতি চক্রবর্তী, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব জীবনের টেকসই অনুশীলনের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্র ও ব্যবসায়িক পরিবেশের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতের কর্মজীবনের জন্য আরও দক্ষ ও প্রস্তুত হয়ে উঠতে পারে।
পুরুষ-প্রধান নির্মাণশিল্পে নিজের দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতার আলোকে ফ্রান্সভিত্তিক মেনার্ড গ্রুপের বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার ফাহিমা শাহাদাত প্রযুক্তিগত কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ এবং নেতৃত্বের পর্যায়ে এগিয়ে যেতে নারীদের মুখোমুখি হওয়া বিভিন্ন পেশাগত ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। তিনি নারী পেশাজীবী ও নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডাস্ট্রি, নীতিনির্ধারক এবং পেশাজীবীর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।
স্যার জন উইলসন স্কুলের প্রিন্সিপাল সাবরিনা শহীদ, শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের আগেই পরিবেশগত দায়বদ্ধতা, উদ্যোক্তা মানসিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শৈশব ও কৈশোর থেকেই মেয়েদের আত্মবিশ্বাস, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং দায়িত্বশীলভাবে ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে স্কুল পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
নেক্সাস সেমিনার সিরিজের আহ্বায়ক এবং মডারেটর প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, শীর্ষস্থানীয় শিল্প বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের ইউআইইউর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যুক্ত করার মাধ্যমে একাডেমিক শিক্ষা ও পেশাগত বাস্তবতার মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করা হচ্ছে। ইএসজি রূপান্তর আমাদের স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে কেন এই সেতুবন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার্থীদের শুধু উদীয়মান বৈশ্বিক মানদণ্ড সম্পর্কে জ্ঞান দিলেই হবে না, বরং কীভাবে এসব মানদণ্ড বাস্তবায়ন করা যায় এবং কিভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নেওয়া যায়, সেই সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইউআইইউ’র বিবিএ প্রোগ্রামের ডিরেক্টর প্রফেসর ড. সালমা করিম। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালায়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন কর্পোরেট সেক্টরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অংশগ্রহণকারীদের সরাসরি প্রশ্ন ও আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে সেমিনারটি সমাপ্ত হয়। ব্যবসা, অর্থনীতি ও সমাজকে প্রভাবিত করে এমন উদীয়মান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে এই নেক্সাস সেমিনার সিরিজে একাডেমিক জ্ঞান, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও পেশাগত বাস্তবতাকে একত্রিত করা হয়।