শিঘ্রই চালু হচ্ছে ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য’

পড়তেই হবে বাংলা, চেপে ধরেছে সরকার

১১ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:২৮ PM
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা কোর্স চালুর উদ্যোগটা বছর কয়েক আগের। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বাঙালীর ইতিহাস না জানা, জঙ্গি সম্পৃক্ততায় জড়িয়ে পড়া সর্বাপরি হলি আর্টিজান হামলার পর বেশ ভালোভাবেই কোসর্টি পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন- ইউজিসি। বলা হয়েছিল, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকেই কোর্সটি পড়ানো শুরু হবে। তবে কারিকুলাম তৈরিতে দীর্ঘসূত্রিতা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনীহা এবং বাংলা বিষয়টি তুলনামূলক অলাভজনক হওয়ায় মালিকপক্ষের গড়িমসির কারণে আড়ালেই থেকে যায় এটি চালুর প্রক্রিয়া।

তবে সরকারের নির্দেশনায় এবার চেপে ধরেছে মঞ্জুরি কমিশন। কোর্স পড়ানো বাধ্যতামূলক তো বটেই, ‘ইউজিসি পুস্তক তহবিলে’ টাকা পাঠিয়ে এ সংক্রান্ত  ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য’ বইটি ক্রয়ের জন্য চিঠিও দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কমিশনের জনসংযোগ ও তথ্য অধিকার বিভাগ থেকে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই চিঠি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘পূর্ণ কমিশনের ১৪৪তম সিদ্ধান্ত মোতাবেক দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য’ শীর্ষক কোর্স চালু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক গঠিত কোর্স প্রণয়ন কমিটি রচিত পাণ্ডুলিপিটি কমিশন থেকে প্রকাশিত হলে গত ২৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর মোড়ক উন্মোচন করেন।’ চিঠিতে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের গ্রন্থাগারের জন্য কমপক্ষে ২০কপি বই ক্রয়ের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

ইউজিসি সূত্র জানায়, প্রতিটি বইয়ের দাম ৫১৬টাকা; যা ৩০শতাংশ কমিশনে বিক্রি হচ্ছে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, বাংলা পড়া বা পড়ানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; বিষয়টি এমন নয়। নিজেদের তাগিদেই বাংলার কাছে আসতে হবে। তিনি বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ছেলে-মেয়েরা টাকা দিয়ে বাংলা পড়তে আসে না। সে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এ বিষয়ে আগ্রহ দেখায় না। এর ফলেই সমস্যা তৈরি হয়। 

ইউজিসি বলছে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছিল- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে হঠাৎ করে বাংলা বিভাগ না খোলা গেলেও অন্তত অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে কোর্স চালু করা উচিত। আবার স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে সম্ভব না হলেও সহায়ক বিষয় হিসেবে কমপক্ষে ১০০ নম্বরের বাংলা বিষয় চালু করা প্রয়োজন। মূলত সেই পরামর্শের আলোকেই তারা বাংলা কোর্সটি প্রণয়ন ও চালু করা হচ্ছে।

তাছাড়া চলতি বছরের ২৫ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য পড়ানোর ওপর অধিকমাত্রায় গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সভায় তিনি বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। সেখানে বাংলা ভাষা শেখার ব্যবস্থা থাকবে না কেন? অবশ্যই থাকতে হবে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য পড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দাওয়াত কার্ডও এখন ইংরেজিতে লেখা হয়। এটা কেন লিখতে হবে? ইংরেজি ভাষাভাষীর জন্য সেটা হতে পারে। তবে আমাদের দেশে বিয়ের কার্ড কেন ইংরেজি ভাষায় লিখতে হবে? এর মধ্যে তো কোনো আলাদা মর্যাদা নেই। এসব কারণেই বাংলা কোর্সটি পড়ানোর উদ্যোগটি জোরেশোরে চলছে।

ইউজিসি তথ্যে জানা গেছে, দেশের শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৮১টিতে নেই বাংলা বিভাগ। আছে মাত্র ১৪টি প্রতিষ্ঠানে। তবে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ চালু রয়েছে, সেখানেও আবার শিক্ষার্থী-খরা। বৃত্তি ঘোষণা করেও এই বিভাগে শিক্ষার্থী পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, দেশের মানুষের মাতৃভাষা বাংলা হলেও দেশটির বেশির ভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা হিসেবে বাংলা পড়ার সুযোগ নেই। কারণ সেখানে বাংলার জন্য আলাদা কোনো বিভাগ নেই। যদিও এর কারণ হিসাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের আগ্রহের অভাবকে দায়ী করছেন। 

ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ইফাত চৌধুরী বলেন, বৃত্তি ঘোষণার পরও তাদের এই বিভাগে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে তারাই প্রথম তিন-চার বছর আগে বাংলা বিভাগ খোলেন জানিয়ে এই অধ্যাপক বলেন, ‘প্রথম বছর থেকেই আমরা প্রথম ভর্তি হওয়া পাঁচজনের জন্য বৃত্তি ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু স্নাতকোত্তর পর্যায়ে কয়েকজন ছাত্র পেলেও স্নাতক পর্যায়ে একজন শিক্ষার্থীও পাইনি। আমাদের শিক্ষক আছে, ক্লাস আছে; কিন্তু শিক্ষার্থী নেই।’

এর কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি ধারণা আছে যে, বাংলায় পড়ে ভালো চাকরি পাওয়া যাবে না। অথচ আমরা আমাদের নিজেদের স্কুল বা কলেজেই বাংলার জন্য ভালো শিক্ষক খুঁজে পাচ্ছি না।

সামাগ্রিক বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আমি মনে করি, বাংলা ভাষা না পড়ানো হলে শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। কারণ, এই ভাষাতেই আমাদের সব লুকিয়ে আছে। এ কারণেই আমরা চাপ দিচ্ছি। আশা করি, শীঘ্রই এটি বাস্তবায়ন হবে।

নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে ছাত্রদলের সাবেক নেতার গাড়…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও প্র…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আইইউবি ও দৃষ্টি চট্টগ্রাম আয়োজিত ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিত…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিইউবিটির রিসার্চ উইক ২০২৬: উদ্ভাবনা ও গবেষণায় উৎকর্ষের সম্…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভাঙা ও পরিত্যক্ত টেবিলে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়েছে কুবিতে ভর্…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১২ তারিখ দেশের জনগণ চাঁদাবাজ ও নারী নিপীড়কদের লালকার্ড দেখা…
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬