নিয়োগপত্রবঞ্চিতা অনশন কর্মসূচি পালন করছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে © সংগৃহীত
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে আবেদন জমা দিতে বলেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আবেদন পাওয়ার পর তাঁদের বিষয়গুলো যাচাই করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে। আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রার্থীদের কাগজপত্র পুনঃভেরিফিকেশনও হতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় কত দিন লাগবে বা কবে নাগাদ নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। এ অবস্থায় নিয়োগপত্রের দাবিতে অধিদপ্তরের সামনে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা। টানা অনশনে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রার্থীদের সঙ্গে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আলোচনা এবং পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এসব তথ্য জানান নিয়োগবঞ্চিতরা।
নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী জাহিদ হাসান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে আমরা পাঁচজন প্রার্থী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের সঙ্গে দেখা করি। প্রায় ২০ মিনিটের আলোচনায় তিনি আমাদের প্রত্যেককে পৃথকভাবে আবেদন জমা দিতে বলেন।’
অনশনরত প্রার্থীদের আবেদন পাওয়ার পর অধিদপ্তর যাচাই করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। এরপর মন্ত্রণালয় যদি মনে করে যে পুনঃভেরিফিকেশনের প্রয়োজন তাহলে তা করা হবে। তারপর নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তারা।
নব নিয়োগপ্রাপ্ত প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের পদায়নের তারিখ আগামী ১৮ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে বঞ্চিত প্রার্থীরা আগামী ১৮ অক্টোবর তাদের সঙ্গে তাঁদের নিয়োগপত্র পাওয়া সম্ভব কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন। তবে আবেদন জমা এবং মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের আগে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বলা সম্ভব নয় বলে তাঁদের জানানো হয়েছে।
ওই প্রার্থী আরও বলেন, ‘আমরা আবেদন জমা দেওয়ার পর ১৮ তারিখ তাদের সাথে পদায়ন করা হবে কী না জিজ্ঞেস করলে ‘এটা লং টাইম দেরি হতে পারে বলে জানা তিনি (অতিরিক্ত মহাপরিচালক)।’
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের সঙ্গে দেখা করেছেন প্রার্থীরা।
এ বিষয়ে প্রার্থী জাহিদ হাসান বলেন, আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনজন প্রার্থী অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছি। যাদের ফৌজদারী মামলা মোকাদ্দমা নেই তাদের জন্য সুপারিশ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। তাই তখনই ২৬ জন প্রার্থীর প্রবেশপত্রের কপি ও একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে এলাম।’
তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেকের পৃথক আবেদনও আজ জমা দেবো।'
যা জানালো অধিদপ্তর
নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুর রহিম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী অনশনকারীদের ডেকে বলেছি ‘আপনারা এখানে অবস্থান করছেন, অবস্থান করার তো কোনো লাভ নেই। আপনার বক্তব্যটা লিখে আবেদন করেন। আমরা এটা গভর্মেন্টের কাছে পাঠাবো।'
প্রার্থীদের ব্যক্তিগত আবেদন জমা দেওয়ার পর তাঁদের বিষয়ে পুনরায় যাচাই করা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
আবেদন জমা দেওয়ার পর নিয়োগবঞ্চিতদের বিষয়ে কী প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আজ আবেদন জমা দেবেন প্রার্থীরা।
প্রার্থীদের দাবি, চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও তাদের নিয়োগপত্র না দেওয়ার কারণ স্পষ্ট করা হয়নি। নিয়োগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবো। নিয়োগপত্র দিতেই হবে।
গত রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অনশন শুরু করেন ২০২৫ ব্যাচের নিয়োগপত্রবঞ্চিত প্রার্থীরা। অনশনরত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ময়মনসিংহের জাহিদ হাসান ও মাশরুর হাসান নাসিফ, নেত্রকোনার আমানুর রহমান শৈবাল ও সাকিব চৌধুরী, কুমিল্লার ওমর ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রুবেল মিয়া ও মো. যোবায়েরুল ইসলাম, গাইবান্ধার মো. রিপন মিয়া, হবিগঞ্জের সোহেল আহমদ, জামালপুরের আরফিনা আক্তার, সানজিদা শেলী টুম্পা, ইস্রাফিল ইসলাম রতন, শামিমা ইয়াসমিন সুমী ও রিক্তা পারভীন, ভোলার মো. নুরুন্নবী এবং বরগুনার মো. আতিকুর রহমানসহ আরও অনেকে।
অনশনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মো. রিপন মিয়া সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে স্যালাইন দেওয়া হয়। এ ছাড়া অন্য প্রার্থীরাও একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বক্তব্যে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তবে নিয়োগপত্র না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্মকর্তাদের কেউই বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি।
ময়মনসিংহের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ময়মনসিংহে সাতজন প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। তবে কেন তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কারণ আমার জানা নেই। মন্ত্রণালয় থেকে যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, আমরা সেভাবেই কাজ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাঁদের কারও বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও আমার কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে হবে।’
জামালপুরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী আহসান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘জামালপুরে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে দুজন বাদ পড়েছেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই। মন্ত্রী মহোদয়ের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করেছি।’
এদিকে, বরগুনার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু জাফর মো. ছালেহ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ভোলা, নেত্রকোনা, বরগুনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।