অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস © ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের প্রবাসী নেতাকর্মীদের হেনস্তার শিকার হয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ঘটনার প্রায় ১১ ঘণ্টা পর প্রথম দল হিসেবে বিবৃতি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এর নিন্দা জানিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছান ড. ইউনূস। বিকেল পৌনে ৪টার (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা) দিকে বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় তিনি হেনস্তার শিকার হন। এর প্রায় ১১ ঘণ্টা পর ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
দলটির প্রেস উইং থেকে পাঠানো বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা আবারও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির নির্মম, সহিংস ও অমানবিক চরিত্রকে উন্মোচিত করেছে। আমরা ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের এমন অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, এ দেশের জনগণের কাছে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর চরিত্রে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি। তাদের মধ্যে অতীতের অপকর্মের জন্য ন্যূনতম অনুশোচনার কোনো লক্ষণও নেই।
দেশে-বিদেশে সক্রিয় এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করতে হবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিস্ট আমলের গুম, খুনে জড়িতদের বিচার শেষ করে দ্রুত রায় কার্যকর করতে হবে। এছাড়া গণহত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে অবিলম্বে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতির ক্রান্তিকালে দেশের হাল ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অর্থনীতি পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা। তাঁদের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্য খবর: আ’লীগের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশনের কোনো সম্ভাবনা দেখি না
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে করে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় ড. ইউনূসকে লক্ষ্য করে ‘ইউ আর টেররিস্ট’, ‘ইউ কিল্ড বাংলাদেশিজ’ ও ‘গো ব্যাক’সহ বিভিন্ন মন্তব্য করেন উপস্থিত প্রবাসীরা। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেন। এ সময় ড. ইউনূস ও তার সঙ্গে থাকা লামিয়া মোর্শেদ দ্রুত বিমানবন্দরের ভেতরে চলে যান বলে জানিয়েছেন সেখানে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি।
হেনস্তাকারী ব্যক্তিদের মধ্যে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজান চৌধুরী, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, জ্যাকসন হাইটস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর কায়সার এবং যুবলীগ নেতা সাগর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অন্তর্র্বতী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। তবে দলীয়ভাবে বিএনপি বা দলটির নেতাদের কারও এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি।