৩৫ বছরে ১৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ

নেপথ্যে ‘দুর্নীতি-ব্যর্থতা’, পদত্যাগ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে—তালিকায় বিএনপির ৭, আওয়ামী লীগের ৮

০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১১ AM , আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৭ PM
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকারের সময়ে পদত্যাগ করা মন্ত্রী-এমপিরা

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকারের সময়ে পদত্যাগ করা মন্ত্রী-এমপিরা © টিডিসি সম্পাদিত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমপি মন্ত্রীদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের নজির কম। ১৯৯১ সালের দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর ৩৫ বছরে দুর্নীতি, অনিয়ম, রাজনৈতিক বিরোধ ও নানা বিতর্কের জেরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পদত্যাগের নজির রয়েছে। তবে একজন ছাড়া বাকি সবাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন।

সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ৩৫ বছরে বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত ১৫ জন এমপি, প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের রয়েছেন ৮ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির রয়েছেন ৭ জন। এদের মধ্যে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন শুধু সোহেল তাজ। আওয়ামী লীগের দুই মেয়াদে একই নেতা দুবার পদত্যাগ করেন।

সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। মিষ্টি ১ অক্টোবর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তবে অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং তিনি তা অস্বীকার করেছেন।

মিষ্টি পদত্যাগপত্রে ‘সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায়’ পদত্যাগের কথা উল্লেখ করেন। পরে সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী ওই আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন হবে। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সময়ে পদত্যাগের তালিকায় ছিলেন শিল্পমন্ত্রী জহিরউদ্দিন খান ও তথ্যমন্ত্রী নাজমুল হুদা।

১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তার প্রথম মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন শিল্পমন্ত্রী জহিরউদ্দিন খান ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী নাজমুল হুদা। 

দুর্নীতি, অনিয়ম, রাজনৈতিক বিরোধ ও নানা বিতর্কের জেরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পদত্যাগের নজির রয়েছে। তবে একজন ছাড়া বাকি সবাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ৩৫ বছরে বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত ১৪ জন এমপি, প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের রয়েছেন ৭জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির রয়েছেন ৭ জন।

জহিরউদ্দিন খান

১৯৯১-৯৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের শিল্পমন্ত্রী ছিলেন জহিরউদ্দিন খান। সার সংকটকে কেন্দ্র করে এক ডজনের বেশি কৃষক নিহত হওয়ার ঘটনায় তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী জহিরউদ্দিন খান বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। সার সংকটের পর দাম বাড়ানোর কারণে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার জন্য তিনি সরাসরি দায়ী ছিলেন না। তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল সার উৎপাদন করা। অন্যদিকে সারের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব ছিল কৃষি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের। পরে ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।  

নাজমুল হুদা

১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসেল নাজমুল হুদা তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের পক্ষে মন্তব্য করেন।  কারণে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগে বাধ্য করেন, তখন বিষয়টি জহিরউদ্দিনের তৈরি করা সেই নজিরের বিপরীত হিসেবে দেখা দেয়। তৎকালীন বিএনপি সরকারের নীতির সঙ্গে তার অবস্থান সাংঘর্ষিক ছিল। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি পদত্যাগ করেন। ২০০১ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় এলে তিনি যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। 

১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা শুরুতে তার মন্ত্রিসভাকে বিতর্কমুক্ত রাখতে বেশ সতর্ক ছিলেন। তিন মন্ত্রী—মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, আফসারউদ্দিন আহমদ ও সৈয়দ আবুল হোসেন—পদত্যাগে বাধ্য হন। তবে তাদের কেউই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি, যদিও তাদের কর্মকাণ্ড ও মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। 

মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম

১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম। ১৯৯৯ সালে যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলার পর হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেড নিয়ে তার একটি বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তিনি বলেছিলেন, হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেড বেসামরিক মানুষের হাতে থাকার কথা নয়, কারণ এসব গ্রেনেড শুধু সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে। বিতর্কিত ওই বক্তব্যের পর তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

আফসারউদ্দিন আহমদ

আফসারউদ্দিন আহমদ ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ছয় মাস পর ১৯৯৭ সালে পদত্যাগ করেন তিনি। রাজধানীর একটি বস্তি উচ্ছেদের ঘটনার পর পদত্যাগ করতে বলা হয়। 

সৈয়দ আবুল হোসেন

সৈয়দ আবুল হোসেন ১৯৯৬ সালের ২৫ জুন স্থানীয় সরকার, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং  ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট পদত্যাগ করেন। তার বিরুদ্ধে একই সময়ে দুটি পাসপোর্ট রাখার এবং সরকারি কাজে লাল পাসপোর্টের পরিবর্তে সবুজ পাসপোর্ট ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি পদত্যাগ করেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় আসলে তিনি যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১২ সালে পদ্মাসেতু প্রকল্প দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তিনি ২০১২ সালে আবারও পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। বিশ্বব্যাংক প্রকল্পটিতে উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে অর্থায়ন বাতিল করার পর তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সময়ে পদত্যাগ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তৎকালীন প্রতিবেদনে বলা হয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে দেওয়ার জন্য একটি সিন্ডিকেটকে সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ এবং তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের সঙ্গে বিরোধের জেরে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। পরে তিনি পদত্যাগ করেন।

এ কে এম মোশাররফ হোসেন

২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেনকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকো রিসোর্সেসের দেওয়া একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি। গাড়িটির মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা বলে তখন সংবাদে আসে। এটিকে ঘুষ বা অবৈধ সুবিধা হিসেবে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই সময়ে নাইকোর সঙ্গে বাংলাদেশের গ্যাস চুক্তি নিয়েও বিতর্ক চলছিল।

অভিযোগের পর প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাকে পদত্যাগ করতে বলেন এবং ২০০৫ সালের ১৮ জুন তিনি পদত্যাগ করেন। মোশাররফ অবশ্য গাড়িটি ঘুষ হিসেবে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। পরে নাইকোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া হয়।

ইকবাল হাসান মাহমুদ

২০০১-০৬ মেয়াদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। সে সময় দেশে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ছিল। তৎকালীন প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল বলে জানা যায়।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত

২০১২ সালে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়। তার সহকারী একান্ত সচিব ও দুই রেল কর্মকর্তাকে বহনকারী একটি গাড়ি থেকে ৭০ লাখ টাকা উদ্ধারের পর অভিযোগ ওঠে, ওই অর্থ রেলে নিয়োগের জন্য ঘুষ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার পর সুরঞ্জিত রেলমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং রাজনৈতিক দায় স্বীকার করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তার পদত্যাগ গ্রহণ না করে তাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করেন। পরে রেলওয়ের তদন্তে সুরঞ্জিতের সঙ্গে ওই অর্থের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়।

তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ

২০০৯ সালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পর পদত্যাগ করেন তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। তার পদত্যাগের চিঠিতে ব্যক্তিগত কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে তৎকালীন বিভিন্ন প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের কাজে হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মতবিরোধের বিষয়টি উঠে আসে।

সরকার তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করায় বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন বিতর্ক ছিল। ২০১২ সালে সংসদ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন সোহেল তাজ এবং এবার তার পদত্যাগ গ্রহণ করা হয়।

আবদুল লতিফ সিদ্দিকী

২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এক অনুষ্ঠানে হজ, তাবলিগ জামাত ও সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তৎকালীন মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। এর পর তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়।

২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার পর টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পদত্যাগের আগে সংসদে নিজের বক্তব্যে দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও চান। পরে স্পিকার তার পদত্যাগ গ্রহণ করেন।

ডা. মুরাদ হাসান

২০২১ সালে বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের জেরে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়েন ডা. মুরাদ হাসান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে পদত্যাগ করতে বলার পর ৭ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ও বক্তব্য নিয়ে তার বিরুদ্ধে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে তার বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক হয়। এর মধ্যে একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে অভিনেতা ইমন ও অভিনেত্রী মাহিয়া মাহির সঙ্গে তার কথোপকথন ছিল। ওই কথোপকথনে মাহিয়াকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এসব বিতর্কের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি পদত্যাগ করেন।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলের অবসান ঘটে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে ফের ক্ষমতায় আসে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রীসভা পুনর্বিন্যাসের সময় তিনি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন জহির উদ্দিন স্বপন এবং রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় পদত্যাগ করেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। 

জহির উদ্দিন স্বপন

২০২৬ সালের আগস্টে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন জহির উদ্দিন স্বপন। তবে তার পদত্যাগের সঙ্গে দুর্নীতি বা অপরাধের কোনো অভিযোগের বিষয় সামনে আসেনি। এটি ছিল মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের অংশ। তার পদত্যাগ রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেন। পরে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। উপদেষ্টা হিসেবে তিনি মন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি

সর্বশেষ পদত্যাগের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর দলীয় হাইকমান্ড তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়।

আরও খবর: ‘জাবিতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না’ পোস্ট দিয়ে নেত্রীর পদত্যাগ

মিষ্টি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বলেছেন, তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কোনো সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

১ অক্টোবর মিষ্টি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এতে তিনি ‘সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায়’ পদত্যাগের কথা উল্লেখ করেন। একই দিন তার আসন শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এভাবে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের পদত্যাগের পেছনে কখনো দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ, কখনো রাজনৈতিক অবস্থান, কখনো প্রশাসনিক ব্যর্থতা, আবার কখনো দলীয় সিদ্ধান্ত বা মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাস কাজ করেছে। তবে সব ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়; কিছু ঘটনায় তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের ভিন্ন পরিণতিও হয়েছে।

শিক্ষাজীবনে কখনও সেকেন্ড হননি, বিসিএস ক্যাডার দুই বোনের পর …
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
এইচএসসি পাসে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, …
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
ট্রাম্পের হুমকির পর ১০ কোটি ব্যারেল তেল-ডিজেল ছাড়বে জি৭
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
স্লিপার বাসে পুরোনো চেসিস নিষিদ্ধ, বাধ্যতামূলক হচ্ছে এয়ার স…
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
৬ পদে চাকরি দেবে মার্কস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, আবেদন ১০ অ…
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
‘আম্মুর মুখের দিকেই তাকিয়ে আমার কামব্যাকের জার্নিটা শুরু হয়…
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬