বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তারেক রহমান © সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিভ্রান্তি ছড়ার মাধ্যমে যারা দেশে অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার। অবশ্যই আমরা গণতন্ত্রের ধারাকে সমন্বিত রাখবো। গণতান্ত্রিক যে নীতি-নৈতিকতা আছে, আমরা চেষ্টা করব আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে সেগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। কিন্তু কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, অবশ্যই দেশের আইনে বলে দেওয়া আছে কিভাবে অরজকতাকে কন্ট্রোল করতে হবে। কাজেই সরকার হিসাবে এবং শুধু সরকার হিসেবে নয় একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই প্রত্যেকে প্রত্যেকের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্লোগানকে ধারণ করে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে দলটি।
আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের শাসনামলে আমরা দেখেছি একটি রাজনৈতিক দল গুপ্ত বেশ ধারণ করেছিল। তারা স্বৈরাচারের ভেতরে গুপ্তভাবে লুকিয়েছিল। পরবর্তীতে আমরা দেখেছি তাদের নিজেদের লোকজনই বেরিয়ে এসে নিজেরাই স্বীকার করেছে এবং বলেছে। আমরা খেয়াল করছি, বেশ কিছু রাজনৈতিক দল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এই বিভ্রান্তির মাধ্যমে যে স্বৈরাচারকে বাংলাদেশের মানুষ এদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে তারাও এই বিভ্রান্তের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এমনও তো হতে পারে, স্বৈরাচারের সময়ে যে সকল গুপ্তরা তাদের আড়ালে লুকিয়েছিল এখন সেই গুপ্তরাই এই অরাজকতা উসকে দিতে চাইছে।
তারেক রহমান বলেন, যারা গুপ্ত, তারা সেই স্বৈরাচারকেই আবার সামনে নিয়ে আসার কাজ করছে। কারণ কয়েকদিন আগে আমরা দেখলাম গুপ্তদের একজন নেতা বলেছে যে, তারা (পতিত স্বৈরাচার) ফিরে আসলে আমাদের কোন আপত্তি নেই। দেখা যাচ্ছে একজন আরেকজনকে বিভিন্নভাবে গুপ্ত রাখার চেষ্টা করছে। কাজেই জাতীয়তাবাদী শক্তির সব নেতাকর্মীকে আহ্বান করব, আসুন আমরা জনগণকে আরো সচেতন করি। কে কাকে গুপ্ত করার দায়িত্ব নিচ্ছে সেটি জনগণের সামনে আমরা উন্মুক্ত করে দেই। কারণ এই গুপ্তরা যে বাহিনী এরা ‘৭১ সাল থেকে আমরা দেখেছি বছরের পর বছর যুগের পর যুগ বিভিন্ন সময়-অসময় একজন আরেকজনকে আড়াল করেছে। একজন আরেকজনকে আশ্রয় দিয়েছে। সেটি ৭১ সাল হোক, ৮৬ সাল হোক বা ৯৬ সাল হোক সেটি গত এক যুগ হোক, সেটি বর্তমানে হোক না কেন; বিভিন্ন সময় তারা একজন আরেকজনকে আড়াল করে আড়াল দিয়ে চলছে। কাজেই আজ তাদের এই রাজনীতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। জনগণকে পরিষ্কার করে দিতে হবে।
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদের সভাপতিত্বে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আলোচনা সভার আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় অধ্যাপক প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ, দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার প্রমুখ।
এছাড়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা ছাড়াও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, কৃষকদল, মহিলাদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।
আলোচনা সভা পরিচালনা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।