রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ

অবশেষে দুঃসময়ের আন্দোলনের সঙ্গীদের মান ভাঙাতে উদ্যোগ বিএনপির

১৯ জুলাই ২০২৬, ১০:২৮ PM
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান © ফাইল ফটো

অবশেষে বিগত ফ্যাসিবাদ বিরোধী দুঃসময়ের আন্দোলন সঙ্গীদের অভিমান ভাঙাতে উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। সেই লক্ষে আগামীকাল সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিগত যুগপৎ আন্দোলন-সংগ্রামের শরিকদের সঙ্গে বসছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

গেল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যায় বিএনপি। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে যুগপৎ আন্দোলন শরিকদের দুয়েকজন নেতা প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টাসহ ক্ষমতার ভাগ পান। কিন্তু বেশিরভাগ শরিক দল বা জোটের নেতারা কার্যত ছিটকে পড়েন জাতীয় সংসদ বা ক্ষমতা থেকে। সেই থেকে ধীরে ধীরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে প্রকাশ পেতে শুরু করে নানা সংকট। অভিমান বাড়তে থাকে জোট শরিক দলের নেতাদের মধ্যে। পাশাপাশি জোট প্রধানের বিরুদ্ধে অন্য দলগুলোর নানা ধরনের অভিযোগের কথাও শোনা যায়। আর এর নেতিবাচক প্রভাব আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পড়তে পারে বলে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা মনে করছেন। সেই সংকট কাটাতে অবশেষে জোট প্রধান বিএনপির চেয়ারম্যান শরিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বসতে যাচ্ছেন। 

জানা গেছে, নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলেও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে যেসব দল বিএনপির শরিক ছিল, তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের সময় এবং সরকার গঠনের পর যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ এসব দলের নেতাদের। এমন পরিস্থিতিতে শরিকদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মাথায় সোমবার সন্ধ্যায় দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শরিকদের অভিমত, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির হাইকমান্ড প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘একসঙ্গে আন্দোলন, একসঙ্গে সরকার।’ বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সকলের অংশগ্রহণে জাতীয় সরকারের আদলে সরকার গঠন করার ঘোষণাও ছিল বিএনপির হাইকমান্ডের। বিএনপির এমন স্লোগান সামনে রেখে শরিক দলের অনেকে এখন চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ হতাশ হয়ে জোট রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। আবার কেউ নিজেদের মতো করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।

কয়েকটি শরিক দলের নেতা জানান, যুগপৎ আন্দোলনে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে রাজপথে থেকে সরকার গঠনের পর প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাদের আশা, প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে সরকার পরিচালনায় শরিকদের ভূমিকা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমন্বয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের জন্য ১০টি আসন ছাড়ে বিএনপি। এর মধ্যে নিবন্ধিত শরিকদের জন্য আটটি আসন ছাড়া হয়। অনিবন্ধিত দুটি দল ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এ ছাড়া চার নেতা বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তাদের মধ্যে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকারে সুযোগ পেয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চের গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)। সরকারের অংশ এই তিন দল বাদে ১২ দলীয় জোট, হেফাজতে ইসলাম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশসহ অন্যান্য শরিক দলগুলোর মূল্যায়ন না থাকায় জোটের বড় অংশটির মধ্যেই অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

অন্যদিকে, মিত্র দলগুলোর মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার জন্য কোনো আসন ছাড় দেয়নি বিএনপি। অভিযোগ আছে-বিএনপির এক নেতার কারসাজিতে মান্নার নিজ জেলার নির্বাচনী আসনের মনোনয়নপত্র বাতিল করানো হয়। রাজধানী ঢাকাতেও (ঢাকা-১৮) তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরে ‘অসহযোগিতা’র পরিবেশ দেখে তিনি নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। আর দীর্ঘদিনের আন্দোলন সঙ্গী গণফোরাম ও গণতন্ত্রমঞ্চের কোনো নেতাকেই নির্বাচনে প্রার্থী করা বা সহযোগিতা করা হয়নি। এসব নিয়ে জোট শরিকরা বিএনপির ওপর ক্ষুব্ধ। 

এদিকে, যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজের আমন্ত্রণ পেয়েও যোগ দেবেন না বলে জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। 

জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত পেয়েছি, কিন্তু যাচ্ছি না। চিঠি দিয়ে কারণ জানিয়ে দিয়েছি। তবে জাতীয় কোনো সংকটের সময় ঐক্যের ডাক দিলে তাতে সাড়া দেবো আমরা। 

জেএসডির এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি সরকারের পাঁচ মাস হলো। এখন পর্যন্ত একবারও খবর নেয়নি। দেশের প্রবীণ জাতীয় নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক  আ স ম আবদুর রব দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সৌজন্যবশত আজ পর্যন্ত বিএনপি বা সরকারের কেউ ওনাকে দেখতে পর্যন্ত আসেনি। 

এদিকে, ছোট ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়ায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে অংশগ্রহণ নিয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি। 

গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, বিএনপি নিজেই বলেছিল–তারা একসঙ্গে আন্দোলন এবং একসঙ্গে সরকার গঠন করবে। এ কথা তারা বারবার বলেছে। কিন্তু এখন দুয়েকটি দলকে মন্ত্রিপরিষদে স্থান দেওয়া হলো, বাকিদের খবর নেই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়ে বিষয়টি তাদের স্মরণ করিয়ে দেব।

জানা গেছে, জোট শরিকদের ক্ষোভ নিরসন ছাড়াও আগামীতে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের বাইরে বিএনপির সঙ্গে বিগত যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের এ নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সরকার গঠনের পর শরিকদের সঙ্গে এটিই হবে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। এ উদ্যোগ কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে নয় বরং জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় জোরদার এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্পর্কের রূপরেখা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে বলে জানান শরিক দলের অনেক নেতা।

কারফিউ ভেঙে আরও জোরালো হয় আন্দোলন, একদিনে প্রাণ হারান ৩৭ জন
  • ২০ জুলাই ২০২৬
চুয়াডাঙ্গায় শিশু মরিয়ম ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদ…
  • ২০ জুলাই ২০২৬
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে পরিকল্পনা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও সমন্ব…
  • ২০ জুলাই ২০২৬
আর্জেন্টিনা সমর্থকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
  • ২০ জুলাই ২০২৬
অনলাইন জুয়ায় আসক্ত স্বামীকে ফেরাতে ব্যর্থ আর্তির পর প্রাণ গ…
  • ২০ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রাম বোর্ডে ১০ শিক্ষার্থীর ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল
  • ২০ জুলাই ২০২৬