বাম দিক থেকে- ভুক্তভোগী আবু নাসের ও অভিযুক্ত শাহেদ খান © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
বরিশাল মহানগর ছাত্রশিবিরের সাহিত্য সম্পাদক শাহেদ খানের বিরুদ্ধে সংগঠনটির বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সভাপতি আবু নাসেরকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি কলরেকর্ড দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস-এর হাতে এসেছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুজনের মধ্যে এ কথোপকথন হয়। বরিশাল মহানগর ছাত্রশিবিরের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যথাসময়ে পলিটেকনিক শিবিরের ষাণ্মাসিক রিপোর্ট প্রদান করতে না পারাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত।
ভুক্তভোগী শিবির নেতা আবু নাসেরের বাড়ি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি গ্রামে। তার বাবা মাওলানা আতাউর রহমান সরকার খানসামা উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর। আবু নাসেরের ভাই মুজাহিদুল ইসলাম ২০১২ সালের ৩ ডিসেম্বর দিনাজপুরের রানীরবন্দরে এক মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ছাত্রশিবির তাকে সংগঠনটির ১৪১তম ‘শহীদ’ হিসেবে প্রতিবছর স্মরণ করে।
মহানগর ছাত্রশিবির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পারিবারিক কারণে মহানগর সভাপতির অনুমতি নিয়ে আবু নাসের দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার নিজ গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ অবস্থায় তার কাছে বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রশিবিরের ষাণ্মাসিক রিপোর্ট চাওয়া হয়। তবে তিনি বাইরে অবস্থান করায় রিপোর্ট দিতে অপারগতার কথা জানান।
এ নিয়ে শাহেদ খানের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে শাহেদ খান আবু নাসেরকে বরিশালে না আসার হুমকি দেন। এর জবাবে আবু নাসের জানতে চান, তিনি বরিশাল ‘লিজ’ নিয়ে ফেলেছেন কিনা?
এর প্রতিক্রিয়ায় শাহেদ খান আবু নাসেরকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি বারবার জিজ্ঞেস করেন, বরিশাল লিজ নিলে তোর অনুমতি নিতে হবে? এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘একদম চাপ দিয়া তেলাপোকার মতো মাইরা ফালামু। ব্যাটা পাগলের বাচ্চা।’
বরিশাল মহানগর শিবির নেতারা জানান, প্রায় ৬ মাস আগে আবু নাসেরের শিক্ষাজীবন শেষ হয়। এ সময় তিনি চাকরিজীবনে গিয়ে পরিবারের হাল ধরতে চাইলেও শিবির নেতাদের অনুরোধে ক্যাম্পাসে থেকে যান। তবে পারিবারিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় সম্প্রতি ছুটি নিয়ে বাড়ি গিয়েছেন।
ভুক্তভোগী আবু নাসের দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি সাংগঠনিক ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছি। এ সময়ে রিপোর্ট দিতে না পারায় এমনটা ঘটেছে। তিনি আমার সঙ্গে যে ভাষায় কথা বলেছেন, তা সাংগঠনিক ভাষা না। সম্প্রতি সংগঠনে এমন পরিস্থিতি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রুপিং ও সিন্ডিকেট এত বেশি হয়েছে, আমার পরিবারের সবাই জামায়াত ও শিবির থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। অথচ আমার ভাই সংগঠনের জন্য নিজের জীবন দিয়েছে।
অভিযুক্ত বরিশাল মহানগর ছাত্রশিবিরের সাহিত্য সম্পাদক শাহেদ খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আবু নাসের আমার খুব কাছের ছোট ভাই। এখন রাগের মাথায় এটা বলে ফেলেছি দেখে ও সেন্টি খেয়ে বসে আছে। আমরা মিউচুয়াল করার চেষ্টা করছি। এটা একেবারে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, নিউজ হওয়ার মতো কিছু না।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি আতিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি আজকেই মহানগর সভাপতি হিসেবে ঢাকা থেকে বরিশাল এসেছি। এখন বিষয়টি জানার পর আমি মহানগর সাহিত্য সম্পাদককে ডেকেছি এবং কেন্দ্রকে বিষয়টি অবহিত করেছি। পলিটেকনিক সভাপতির সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ হয়নি। তাকে বেশ কয়েকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, শুনলাম পলিটেকনিক সভাপতি কিছুদিন থেকে নিষ্ক্রিয়। তবে আমি তার বক্তব্য জানতে পারিনি। কিন্তু তিনি যদি নিষ্ক্রিয়ও হন, এ ধরনের শব্দচয়ন আমাদের সাথে যায় না, এটি সংগঠন এলাও করে না।
মহানগর শিবির সভাপতি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সাহিত্য সম্পাদককে আত্মপক্ষ সমর্পণের সুযোগ দিচ্ছি। তবে প্রাথমিকভাবে তার সদস্যপদ মুলতবি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তীতে কার্যকরী পরিষদের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।