হুম্মাম কাদের চৌধুরী
বক্তব্য রাখছেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী © সংগৃহীত
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক নির্যাতিত হওয়ায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদল আর কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও গুমফেরত বিএনপি নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তবে আশা প্রকাশ করে বলেছেন, একই রকম নির্যাতনের শিকার হওয়ায় তার ওপর বিরোধীদলীয় সদস্যরা ভরসা রাখবেন।
আজ রবিবার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন হুম্মাম।
বক্তব্যের শুরুতে তার পিতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মিথ্যা মামলায় হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, এই সংসদে একটা ট্রাস্টের ল্যাকিংস চলে এসেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন, জুলাই সনদের মধ্যে যা যা লেখা আছে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব আমরা। তবে আমার বিরোধীদলের বন্ধুরা এটা বিশ্বাস করতে রাজি না। হয়ত এত বছর নির্যাতিত হওয়ার কারণে তারা এখন আর কাউকে বিশ্বাস করে না।
হুম্মাম কাদের বলেন, তবে আমি বলে রাখি, আপনারা যেভাবে ১৭ বছর নির্যাতিত হয়েছিলেন, আমরা এখানে যারা আছি (ট্রেজারি বেঞ্চ) আমরা সকলেই নির্যাতিত হয়েছিলাম। আপনারা যেভাবে সংসদ সদস্য আছেন, আয়নাঘরে অনেক বছর ছিলেন— আমিও সেই একই আয়নাঘরে ৭ মাস হয়ে এসেছি। বেশ লম্বা জার্নি ছিল আয়নাঘর থেকে এই সংসদ পর্যন্ত। আশা করি, আমার ওপরে তারা ভরসা রাখবে। আশা করি যারা যারা নির্যাতিত, এই গুমের শিকার, যারা এখনও প্রিয়জনকে ফিরে পায়নি, তাদের ওপর ওনারা ভরসা রাখবে।
আরও পড়ুন: পেশাদার খুনি দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, সংসদে নিরাপত্তা চাইলেন জামায়াতের এমপি
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি দল ও বিরোধীদলের সমন্বয়ে কমিটি গঠনে সম্মত হওয়ায় বিরোধীদলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। বলেন, আমরা একটা নতুন জিনিস দেখতে পেলাম। প্রথমবারের আমাদের প্রধানমন্ত্রী এই সংসদে বলল যে আপনারা আপনাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন, আমরা সেই সাহায্য চাই। সঙ্গে সঙ্গে কমিটি গঠন করে দেওয়া হল। এই ন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিসের মধ্যে আমরা তাদের সাহায্য কামনা করি এবং যেহেতু তারা সাহায্য করতে চেয়েছে, আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই।
আরও পড়ুন: নারী আসনের বিএনপির এক প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ছাত্রদল নেত্রীর আপিল
হুম্মাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, আমি একটি প্রোগ্রামে গিয়েছিলাম যেখানে মানবাধিকার নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছিল। সেখানে আমাকে বলা হল— মানবাধিকারের অর্ডিন্যান্সটি ল্যাপ্স কেন হল? আমি জবাব দিয়েছি, এটি দুর্বল অর্ডিন্যান্স ছিল। আমরা শক্তিশালী বিল আকারে এটি সংসদে উত্থাপন করব। আশা করি, তারা ভরসা রাখবে যে যে লোক সাত মাস নির্যাতিত হয়েছে, সে ব্যক্তি মিথ্যা বা অসৎ কথা বলছে না। আমরা গত দুমাস ধরে চেষ্টা করেছি এই সংসদে দাঁড়িয়ে তাদের (বিরোধীদল) ভরসা যেন আমাদের পক্ষে নিয়ে আসতে পারি। আশা করছি আস্তে আস্তে তারা আমাদের ওপর ভরসা রাখা শুরু করবে।