সংবাদ সম্মেলনে শিশির মনির © টিডিসি ফটো
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেছেন, গণভোট অধ্যাদেশ ও নির্বাচনী তফসিল পরস্পরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। তাই গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল বা কার্যকারিতা হারালে নির্বাচনী তফসিলও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর হয়ে যাবে। সোমবার (৩০ মার্চ) হাইকোর্টের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
শিশির মনির বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ৬ নম্বর ধারা এবং নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল—সবগুলোই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি এগুলোকে ‘অবিচ্ছেদ্য যমজ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “একটি থেকে আরেকটিকে আলাদা করার সুযোগ নেই।” তার মতে, গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল করা হলে তা সরাসরি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও এর প্রস্তাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
তিনি আরও জানান, গণভোট অধ্যাদেশের তফসিলে জাতীয় ঐক্যমতের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই অধ্যাদেশ বাতিল হলে জুলাই সনদ এবং সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাই যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে গণভোট অধ্যাদেশ, বাস্তবায়ন আদেশ, জুলাই সনদ ও নির্বাচনী তফসিল—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। অন্যথায় দেশে আইনি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, সরকার গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন, দুদক এবং বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক অধ্যাদেশগুলোতেও পরিবর্তন বা বাতিলের প্রস্তাব করেছে। এসব ‘ব্রেকথ্রু’ অধ্যাদেশ বাতিল করা হলে রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল তা ব্যাহত হবে এবং জনগণ হতাশ হবে।
তিনি সরকারকে অযৌক্তিক ও অসাংবিধানিক সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদে কোনো অসাংবিধানিক আইন পাস হলে তা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে।