তিনবস্তি বাসিন্দাদের সমস্যা জানলেন
ডা. জোবায়দা রহমান © সৌজন্যে প্রাপ্ত
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জোবায়দা রহমান বলেছেন, আমাদের সবারই নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। তবে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমেই এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় রাজধানীর হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটারে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পেশাজীবী বিভাগের আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাম্ফিথিয়েটারে উন্মুক্ত গ্যালারিতে কড়াইল-ভাষানটেক-সাততলা বস্তি এলাকার রিকশাচালক, বাসচালক, পোশাককর্মী, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, ব্যাংকার্স, সিস্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। ডা. জোবায়দা রহমানের স্বামী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ডা. জোবায়দা রহমান বলেন, আমাদের রাজনীতি হলো সুষ্ঠু পরিকল্পনার রাজনীতি। আজ আমাদের সামনে গৌরবের নতুন সূর্যোদয়। আমরা বিশ্বাস করি— আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা; সবার আগে বাংলাদেশ। ভেদাভেদের আগে সমতা।
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা উল্লেখ করে জোবায়দা বলেন, কড়াইল সাততলা এলাকা থেকে আসা তিনজন নারী, দুইজন পোশাকশ্রমিক এবং একজন পরিবহন শ্রমিকের কাছ থেকে তাদের হৃদয়বিদারক সমস্যার কথা তিনি শুনেছেন। এসব সমস্যা সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবার জন্য সমান সুযোগ, শ্রমের মর্যাদা ও মেধার মূল্যায়নে বিশ্বাস করে। মেধাভিত্তিক চাকরি, ন্যায্য অধিকার এবং শোষণের আগে সুবিচার প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য। এমন একটি সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায় বিএনপি, যেখানে নেতার আগে জনতা।
সভায় উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডা. জোবায়দা রহমান বলেন, আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় দিয়ে এখানে এসেছেন, আমাদের কথা শুনেছেন এবং নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। আমরা আপনাদের সমস্যাগুলো আরও মনোযোগ দিয়ে শুনবো, জানবো এবং সমাধানের পথ খুঁজবো। আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। একটি সমতাভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক ও শ্রমের মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
এর আগে, ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল, ভাষানটেক ও সাততলা বস্তি এলাকার বাসিন্দাদের নানা সমস্যার কথা শুনে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী জোবায়দা রহমান। তিনি বলেন, আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় নিয়ে এখানে এসেছেন, আমাদের কথা শুনেছেন এবং সমস্যাগুলো আমাদের বলেছেন। আমরা আমাদের সাধ্যমতো আপনাদের সমস্যাগুলো আরো শুনব, আরো জানব। আমরা একে অপরকে আরো জানতে চেষ্টা করব, যাতে সমস্যাগুলো সুষ্ঠুভাবে সমাধান করে একটি সুন্দর সমতাভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক ও শ্রমভিত্তিক রাষ্ট্র উপহার দেওয়া যায়।
জোবায়দা রহমান বলেন, করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। সেজন্য আমাদের সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, পরিচালক সৈয়দা তাজনীন ওয়ারিস সিমকী, ভাষানটেকের বাসিন্দা গৃহিণী তানিয়া আখতার, তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী কড়াইল আদর্শ নগরের ফাতেমা আখতার বিধি, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাততলার এলাকার নার্গিস আখতার এবং পোশাক কর্মী মির্জা আল শামীম, ফাতেমা খাতুন ও পরিবহন শ্রমিক রুহুল আমিন বাবু।
স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ নিজ এলাকার সমস্যা বিশেষ করে রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা, খেলার মাঠ নির্মাণ, হাসপাতাল স্থাপন, শিল্প প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার তৈরি, শিল্পে নারী কর্মীদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতন বন্ধ, যানজট নিরসন, বস্তিবাসীর স্থায়ী পুনর্বাসন, গণপরিবহণের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তিতে দুর্নীতি দূর করা ও রাস্তাঘাটের লাইটিং ব্যবস্থা উন্নত করাসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালন ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী তারেক রহমানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আবদুস সালাম বক্তব্য দেন।