বুথফেরত সমীক্ষায় ইঙ্গিত ছিলই। কার্যত প্রায় সব সমীক্ষা মিলিয়ে কেন্দ্রে ফের সরকার গড়তে চলেছে টিম মোদী। দেশজুড়ে ফের গেরুয়া ঝড়। আর সেই ঝড়ে বেসামাল হিন্দি বলয় থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার-ওড়িশা, এমনকি উত্তর-পূর্ব। এককভাবে বিজেপি আগের বারের ২৮২ টপকে যাওয়ার মুখে। ৩০০ আসন পার করার ইঙ্গিত এনডিএ জোটের। উল্টো দিকে বিরোধী শিবিরে শুধুই হতাশা।
দেশজুড়ে এখন চলছে ভোট গণনা। মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা, এরপরেই জানা যাবে কে বসতে যাচ্ছেন দিল্লির মসনদে। একরম বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে আছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় শুরু হয় এই ভোট গণনা।
ভারতভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, দেশটির মধ্য প্রদেশ, কর্ণাটক, রাজস্থান ও গুজরাটে এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে বেশ এগিয়ে আছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট। এছাড়া তামিল নাড়ুতে এগিয়ে আছে ডিএমকে-কংগ্রেস জোট। আর পাঞ্জাবে এগিয়ে আছে কংগ্রেস। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মোট ৪২টি আসনের এখন পর্যন্ত ৫টিতে তৃণমূল কংগ্রেস, ৪টিতে বিজেপি এবং ৩টিতে কংগ্রেস এগিয়ে আছে।
এদিকে এগিয়ে থাকায় ‘মেরে দোস্ত’ হিন্দিতে মোদীকে ট্যুইট করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বন্ধুত্ব আরও শক্ত হওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। লিখেছেন,’ভোটের ফলাফলই বুঝিয়ে দিল যে বিশ্বের সব থেকে বড় গণতন্ত্রকে কীভাবে নেতৃত্ব দেন আপনি।
অভিনন্দন জানিয়েছেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানিও। ভারতের মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সঙ্গে এও বলেছেন, ‘আগামিদিনে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে।’ ফোন এসেছে জাপান থেকে। মোদীকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।
বার্তা এসেছে বন্ধু দেশ রাশিয়া থেকেও। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিনন্দন জানিয়েছেন মোদীকে। বিজেপির জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। চিনের প্রেসিডেন্ট জি জিংপিং, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগাল ওয়াংচুকও অভিনন্দন জানিয়েছেন মোদীকে।
এর আগে, গত ১৯ মে বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশ করা হয় যেখানে প্রায় সব জরিপে বেশ এগিয়ে বিজেপি। তবে বুধবার কংগ্রেসের পক্ষ বুথফেরত জরিপ্রে ফলাফলকে ভুয়া ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সেই জরিপের ফলাফল প্রত্যাহার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, বুথফেরত জরিপের ফলাফল তিনি মানছেন না। এবার মোদি নয়, দিল্লির মসনদে বসবে জনগণের সরকার।
উল্লেখ্য, ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার ৫৪৩ আসনে মোট সাত ধাপে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সেই হিসেবে কোনো দলকে সরকার গঠন করতে হলে পেতে হবে ২৭২টি আসন।