কানহাইয়া কুমার © সংগৃহীত
ভারতের সবচেয়ে গরীব রাজ্যগুলোর একটিতে একটি জেলা বারবার দেশটির সংবাদ শিরোনাম হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। এর কারণ হলো আলোচিত একজন ছাত্রনেতা সেখানকার একটি আসনের জন্য লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অথচ কানহাইয়া কুমার নামের এই প্রার্থী মাত্র দু'বছর আগেই কথিত ভারত বিরোধী স্লোগানের দায়ে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’র অভিযোগে জেল খেটেছেন। এবার লোকসভা নির্বাচনে বেগুসারাই নির্বাচনী আসন থেকে লড়াই করেছেন মিস্টার কুমার, যেখানে সোমবার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিহারের একটি গ্রাম বিহাট। সেখানেই নিজের বাড়ি থেকে যখন বের হন কানহাইয়া কুমার তখনি দেখা যায় তরুণরা তাকে ঘিরে ধরছেন কিংবা তার সাথে সেলফি তোলার চেষ্টা করছেন। অনেকের গায়ে দেখা যায় মিস্টার কুমারের ছবি সম্বলিত টি-শার্ট।
এ গ্রাম থেকে উঠে আসা মিস্টার কুমার ভারতের রাজনীতিতে আলোচিত হয়েছেন মূলত জেলে যাবার সময়। দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নেতা থাকার সময় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে তিনি ক্যাম্পাসেই একটি অনুষ্ঠানে ভারত বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।
কাশ্মীরের মোহাম্মেদ আফজাল গুরুর ফাঁসির বার্ষিকীতে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো।এর জের ধরে মিস্টার কুমারকে গ্রেফতার করা হলে তা নিয়ে তুমুল প্রতিবাদ শুরু হয় দেশজুড়ে।শুরু হয় বিজেপির তীব্র সমালোচনা। মিস্টার কুমার এখনো সেই মামলায় লড়ছেন। কিন্তু এর মধ্যেই দেশজুড়ে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেন তিনি।
স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিজ এর ডিরেক্টর সঞ্জয় কুমার বলছেন, ‘আসলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছেন কানহাইয়া।’ এর মধ্যেই নিজের পিএইচডি শেষ করেছেন কানহাইয়া কুমার।
সোমবার দেশের রাজনীতিতে কার্যত তিনি প্রবেশ করেছেন, কারণ কমিউনিস্ট পার্টির বা সিপিআই এর প্রার্থী হিসেবে যে আসনের জন্য তিনি লড়ছেন তাতে ওইদিনই ভোট হয়েছে। যদিও তিনি তাতে জয়ী হচ্ছেন কি-না সেটি জানা যাবে আগামী মাসে ভোট গণনার পর।
ওই আসনটি অবশ্য একসময় কমিউনিস্টদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিলো। ‘রাজনীতিতে আসা পছন্দের বিষয় নয়। এটা দায়িত্ববোধ,’ নির্বাচনী এক সমাবেশে বলছিলেন মিস্টার কুমার।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সংবিধান বলে ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ হবে। কেউ যদি একটি বিশেষ ধর্মকে সামনে আনার চেষ্টা করে বা দেশের চরিত্র বদলানোর চেষ্টা করে তাহলে আমরা সেটির প্রতিবাদ করবো।’ বিহার ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার রাজ্য। ৪০টি আসনের মধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিলো ২২টি।
সোমবারের নির্বাচনে মিস্টার কুমারের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপির গিরিরাজ সিংহ। যারা মোদীর বিরোধিতা করবে তাদের পাকিস্তান যাওয়া উচিত- এমন মন্তব্য করে একসময় আলোচনায় এসেছিলেন মিস্টার সিংহ।
এর বিপরীতে শিক্ষা, চাকরি, স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলোতে জোর দিয়েও বেশ পরিচিতি পেয়েছেন মিস্টার কুমার। এর মধ্যে সিভিল সোসাইটি, অধিকার কর্মীসহ বিভিন্ন ধরণের তারকাদের সমর্থন পেয়েছেন কানহাইয়া। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে তরুণদের এক ধরণের আগ্রহ তো দৃশ্যমানই।
সূত্র: বিবিসি বাংলা