আজ ৩ অক্টোবর, বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড/প্রেমিক দিবস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই অনানুষ্ঠানিক দিবসটি মূলত প্রেমিক বা সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও বিশেষ অনুভূতি প্রকাশের উপলক্ষ হিসেবে পালিত হয়। এ দিন অনেকেই প্রিয় মানুষটির সঙ্গে ছবি প্রকাশ, শুভেচ্ছা জানানো কিংবা একসঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে দিনটি উদ্যাপন করেন।
তবে বয়ফ্রেন্ড দিবস কোনো সরকারি দিবস বা আনুষ্ঠানিক ছুটির দিন নয়। এর নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠাতা বা স্বীকৃত আন্তর্জাতিক সংস্থার নামও নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। বিভিন্ন সূত্রে দিবসটির প্রচলনের সময় নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। অভিধান ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়ফ্রেন্ডদের নিয়ে শুভেচ্ছা পোস্টের মাধ্যমে ৩ অক্টোবরের এই আয়োজনের প্রচলন শুরু হয়। আবার কিছু সূত্র ২০১৪ সালের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে।
তবে দিনটির জনপ্রিয়তা বাড়ার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এ দিনটি ঘিরে ছবি, শুভেচ্ছা, ভালোবাসার বার্তা ও নানা পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অনানুষ্ঠানিক এই দিবসটি ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশে পরিচিতি পায়।
ভালোবাসা প্রকাশের উপলক্ষ
বয়ফ্রেন্ড দিবসের মূল ভাবনা বেশ সহজ—প্রিয় মানুষটির প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। কেউ ছোট্ট একটি বার্তা পাঠিয়ে, কেউ পছন্দের খাবার খাওয়াতে নিয়ে গিয়ে, আবার কেউ একসঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়েই দিনটি বিশেষ করে তুলতে পারেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ দিনটির উদ্যাপন চোখে পড়ে বেশি। অনেকেই প্রিয় মানুষটির সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ করেন। কেউ ভালোবাসার কথা লেখেন, কেউ তুলে ধরেন সম্পর্কের নানা স্মৃতি। আবার অনেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছাড়াই ব্যক্তিগতভাবে দিনটি উদ্যাপন করেন।
দিবসটি পালনের নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। ফলে কে কীভাবে দিনটি পালন করবেন, সেটি পুরোপুরি ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। অন্যান্য ভালোবাসা-নির্ভর দিবসের মতো বয়ফ্রেন্ড দিবসও অনেকের কাছে উপহার দেওয়ার উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। তবে দিনটির গুরুত্ব শুধু উপহার বা বড় কোনো আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, যত্ন, বিশ্বাস এবং একে অপরকে সময় দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। তাই দামি উপহারের পরিবর্তে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো, তার কথা মন দিয়ে শোনা কিংবা একটি আন্তরিক বার্তাও হতে পারে এই দিনের বিশেষ আয়োজন।
কেন ৩ অক্টোবর?
৩ অক্টোবর কেন বয়ফ্রেন্ড দিবস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠিত ব্যাখ্যা নেই। এ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রচলিত থাকলেও নির্দিষ্ট কোনো কারণ বা প্রতিষ্ঠাতার সিদ্ধান্তের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
বর্তমানে বয়ফ্রেন্ড দিবসের সবচেয়ে দৃশ্যমান উদ্যাপন দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। প্রিয়জনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট, পুরোনো ছবি প্রকাশ, সম্পর্কের স্মৃতি তুলে ধরা কিংবা ভালোবাসার বার্তা—সব মিলিয়ে দিনটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয় আলাদা ব্যস্ততা।
তবে দিবসটি অনানুষ্ঠানিক হওয়ায় এর উদ্যাপনের ধরনও ব্যক্তিভেদে আলাদা। কারও কাছে এটি শুধু একটি পোস্ট দেওয়ার উপলক্ষ। আবার কারও কাছে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো নতুন করে মনে করার দিন।
সব মিলিয়ে, বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবস কোনো আনুষ্ঠানিক উৎসব নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই অনানুষ্ঠানিক দিনটি ভালোবাসার সম্পর্ককে উদ্যাপন এবং প্রিয় মানুষটির প্রতি যত্ন, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপলক্ষ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।