২১শে ফেব্রুয়ারি নয়, নতুন মাতৃভাষা দিবস চায় বিজেপি

২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:২৪ AM
পশ্চিমবঙ্গে মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে সামিল শিশুরাও

পশ্চিমবঙ্গে মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে সামিল শিশুরাও © বিবিসি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি ওই রাজ্যে ২০ সেপ্টেম্বর ‘মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করেছে। দলীয় নেতৃত্ব এজন্য সোশ্যাল মিডিয়াতে জোরালো প্রচারণাও চালিয়েছে। তারা বলছে, দু’বছর আগে এই দিনটিতেই উত্তর দিনাজপুর জেলার একটি স্কুলে উর্দু শিক্ষক নিয়োগের প্রতিবাদে জনতার বিক্ষোভে পুলিশ গুলি চালায়। এতে বিজেপির দু’জন কর্মী নিহত হন- তাদের স্মৃতিতেই এই দিনটি মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্মরণযোগ্য।

তবে উর্দু বা আরবির প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষা বিপন্ন বলে বিজেপি যে যুক্তি দিচ্ছে, রাজ্যের সাহিত্যিক বা ভাষাবিদরা অনেকেই তার সঙ্গে একমত নন। ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসও মনে করছে, ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের জায়গায় নতুন এই দিবসের আমদানি স্রেফ ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বস্তুত পূর্ব পাকিস্তানে বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে জাতিসংঘ যে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, বাংলাদেশ তথা বাকি বিশ্বের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গও সেই দিনটিকেই মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করে থাকে।

এছাড়া ৬১ সালে বরাক উপত্যকার ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রতি বছরের ১৯ মেও পশ্চিমবঙ্গে বেশ কিছু অনুষ্ঠান হয়। তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ গত কয়েকদিন ধরেই ফেসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়াতে জোরালো প্রচার চালান, এখন মাতৃভাষা দিবস পালন করা উচিত ২০ সেপ্টেম্বর।

কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, রাজ্যে উর্দুর আগ্রাসনের প্রতিবাদে এই দিনেই পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছিলেন দাড়িভিটের বিজেপি সমর্থক দুই যুবক, তাপস বর্মন ও রাজেশ সরকার। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রধান মুখপাত্র ও সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর কথায়, ‘এ রাজ্যে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে মাতৃভাষা দিবস করেছে বামপন্থী ও কংগ্রেসিরা। ওটা বাংলাদেশের ঘটনা, তার সঙ্গে এ রাজ্যের কোনও সম্পর্ক ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘যদিও আমরা ২১শে ফেব্রুয়ারিকে অস্বীকার করছি না, তবু সাম্প্রতিককালে রাজ্যে উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে দাড়িভিটে রাজেশ-তাপসের বলিদানের ঘটনাই কিন্তু আমাদের বেশি মনোযোগ দাবি করে। এই যে আজ পশ্চিমবঙ্গে জলের পরিবর্তে পানি, রামধনুর পরিবর্তে রংধনু, আকাশের পরিবর্তে আসমান বা পিসির পরিবর্তে ফুপি চাপিয়ে দেওয়ার মতো ব্যাপার-স্যাপার চলছে, তাতেই বোঝা যায় বাংলা ভাষা আক্রান্ত! তৃণমূলের আমলে উর্দু আর আরবির এই দাপটের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতেই আমাদের উদ্যোগ।’

বাংলা ভাষার সুপরিচিত লেখিকা জয়া মিত্র মনে করেন, অন্য কোনও ভাষাকে আক্রমণ করে কখনওই কোনও মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা যায় না। তার প্রশ্ন, ‘যদি এটার নাম মাতৃভাষা দিবস দেয়া হয়ে থাকে তাহলে এ রাজ্যে যাদের যাদের মাতৃভাষা উর্দু, তাদের কী হবে? কিংবা যাদের মাতৃভাষা তামিল বা হিন্দি, তাদেরই বা কী হবে?’

তিনি বলেন, ‘আসলে মাতৃভাষা দিবস উদযাপন মানে অন্য কোনও ভাষাকে ঘৃণা করা কিছুতেই নয়।তার পরের প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গে মাতৃভাষা বিপন্ন কি না? জবাবে বলব, মাতৃভাষা হয়তো ততটা নয় - কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিশেষত শহরাঞ্চলে বাংলা ভাষা অবশ্যই বিপন্ন।’

তিনি আরো বলেন, ‘একটা ভাষা বেঁচে থাকে তার চলনের ওপর, তাকে কেন্দ্র করে যে জীবন চলে সেই চর্যার ওপর। ভাষা কোনও অ্যাবসোলিউট জিনিস নয় যে একটা কৌটায় ভরে রাখলাম আর ইচ্ছেমতো বের করে ব্যবহার করলাম। আর ঠিক এই জায়গাটাতেই বলব, বাংলা ভাষার সঙ্গে যে ঘনিষ্ঠ জীবনচর্যা, তা সাম্প্রতিককালে ভীষণভাবে আহত হচ্ছে, আক্রমণের শিকার হচ্ছে।’

এই প্রবীণ সাহিত্যিক আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে হিন্দি বলয়ের অবাঙালি সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার এই দায় মূলত বিজেপিরই। পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুরের যে স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে পুলিশের গুলি চলেছিল, তাতে উর্দুর পাশাপাশি একজন সংস্কৃতর শিক্ষকও চাকরি পেয়েছিলেন- সে কথাও তিনি মনে করিয়ে দিচ্ছেন।

আর রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের সিনিয়র এমপি ও মুখপাত্র কাকলি ঘোষদস্তিদার বলছেন, নতুন তারিখে মাতৃভাষা দিবস পালন আসলে বিজেপির একটা পুরনো কৌশলের অংশ। তার কথায়, ‘বিজেপি যেভাবে ইতিহাস বদলে দেয়ার খেলায় নেমেছে, এটাও সেরকমই একটা চেষ্টা। এমন কী, গান্ধীর নামে যে সব সামাজিক প্রকল্প চালু আছে সেগুলোও তারা নিজেদের ভাবাদর্শের অনুসারী লোকজনের নামে নামকরণ করছে। ভাষা দিবস চালুর ব্যাপারটাও সেরকমই।’

মূলত হিন্দি বলয়ের দল বিজেপির প্রধান নেতারা কেউ বাঙালি নন, বাংলার সঙ্গেও দলটার কোনও আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি বলে কাকলি ঘোষদস্তিদারের দাবি। তিনি বলেন, ‘ওনারা বাংলায় আসেন এবং হিন্দি বা গুজরাটিতে ভাষণ দিয়ে চলে যান- পশ্চিমবঙ্গের মানুষ মোটেও সেটাকে ভাল চোখে দেখেন না। কেন না মানুষের হৃদয়ে পৌঁছতে গেলে তার ভাষা, আচার, রীতিনীতি দিয়েই পৌঁছতে হয় যেটা তারা এখনও শিখে উঠতে পারেননি। ওনাদের ভাষণও তাই অর্ধেক লোকে বোঝেন না।’

‘কিন্তু তাদের প্রচুর টাকা আছে বলে লোকসভা নির্বাচনে প্রচুর অর্থ ছড়াতে পেরেছেন। আর এখন রাজ্যে নিজেদের পায়ের তলায় জমি খুঁজতে বাঙালি আবেগে সুড়সুড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছেন’, বলছিলেন তৃণমূলের ওই এমপি।

জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে উদ্ধৃত করে, দিনাজপুরের ‘ভাষা-শহীদ’দের স্মরণ করে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে নতুন একটা মাতৃভাষা দিবস চালু করতে চাইছে ঠিকই- কিন্তু বিজেপি যে শুধু হিন্দি-ভাষাভাষীদের দল নয় রাজ্যে সেই ধারণাটা প্রতিষ্ঠা করা তাদের কাছে এখনও বিরাট চ্যালেঞ্জ।

রমজান-ঈদের টানা ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে কবে?
  • ২৩ মার্চ ২০২৬
এসএসসি পাসেই চাকরি আড়ংয়ে, আবেদন শেষ ৩১ মার্চ
  • ২৩ মার্চ ২০২৬
ইরানের সাথে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার দাবি ট্রাম্পের; ৫ দিনের জন্য …
  • ২৩ মার্চ ২০২৬
উত্তর ইসরায়েলে সেনাবাহিনীর ছোড়া গোলায় ১ জন নিহত
  • ২৩ মার্চ ২০২৬
টেরিটরি সেলস ম্যানেজার নিয়োগ দেবে এসিআই মটরস, আবেদন শেষ ৪ এ…
  • ২৩ মার্চ ২০২৬
এখন থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী …
  • ২৩ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence