ডাকসু নির্বাচন: আশা ও শঙ্কা

৩১ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৪০ AM
কায়সার সুমন

কায়সার সুমন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছুটা আমেজ, উদ্দীপনা আর উৎসাহে মেতেছে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। ইতোমধ্যেই ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল বেশ কয়েকটি ছাত্রসংগঠন তাদের নিজস্ব পলিসি অনুযায়ী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন, অপরাজেয় বাংলাসহ বিভিন্ন হলে হলে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে ছাত্রসংগঠনগুলো এবং তাদের নিজস্ব প্রতিনিধিরা প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

যেহেতু ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে; সেজন্য স্বভাবতই এ নির্বাচন নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আমেজের মাত্রা একটু বেশি। ব্যক্তিগত কাজে ক্যাম্পাসে ঘুরতে গিয়ে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আমেজ যেমন চোখে পড়ছে; তেমনি পরিচিত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে তাদের ভীতি ও আতঙ্কের বিষয়টিও জানতে পেরেছি। সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন নির্বাচনী পরিবেশ-প্রতিবেশ নিয়ে শতভাগ আশাবাদী হলেও বেশিরভাগ ছাত্রসংগঠনের নেতারা শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। কারণ হিসেবে তারা যেটা চিহ্নিত করেছেন; সেটা হলো- বিগত ১০ বছরের অধিক সময় ধরে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একচেটিয়াভাবে একপ্রকার জোরপূর্বক হলের দখলদারিত্বসহ ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রলীগ ব্যতিরেকে কোনো সংগঠনে যুক্ত থাকলে বিভিন্নভাবে হেনস্তা, গেস্ট রুমে ডেকে শিক্ষার্থীদের মানসিক নিপীড়ন করা হয়। সেই সঙ্গে হলে সিট পেতে তাদের ছাত্রসংগঠন করা, জোরপূর্বক সভা-সমাবেশে যেতে বাধ্য করাসহ ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে হলে সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠন ব্যতীত অন্যদের কাজ করা বেশ কঠিন।

বৃহত্তর দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও বিএনপির জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের ক্যাম্পাসে সরব উপস্থিতি, নিয়মিত মধুর ক্যান্টিনে আসা এবং তাদের সাংগঠনিক কাজকর্ম অবাধে চালানোর সুযোগ পেলেও আরেক বৃহত্তর ছাত্রসংগঠন বলছে ভিন্ন কথা। ছাত্রদল নেতারা বলছে, ক্যাম্পাসে আসলে তাদের উপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হামলা করে। এমনও অভিযোগ রয়েছে, যদি কোনো শিক্ষার্থী ছাত্রদলের সাথে যুক্ত থাকে তাহলে তাকে গেস্ট রুমে ডেকে অপমান, অপদস্থ এবং নির্যাতন করা হয়।

এদিকে এ বিষয়গুলো একেবারেই উড়িয়ে দিয়ে ছাত্রলীগ নেতারা বলছে, এমন ঘটনা আসলে ইতিপূর্বে কখনো ঘটেনি। ছাত্রলীগের মান ক্ষুণ্ণ করতে ওরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এদিকে, এবারের ডাকসু নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। ইতিমধ্যেই তারা ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে যেতে সক্ষম হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে তাদের আন্দোলন সফল হয়েছে।

ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই তারা অনলাইনের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সরব উপস্থিত থেকে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষায় ডাকসু নির্বাচন সঠিক এবং স্বচ্ছভাবে প্রশাসন উপহার দিতে পারলে এবং ভোটাররা ভোট দিতে পারলে তাদের জয় নিয়ে তারা শতভাগ আশাবাদী। এছাড়াও ক্যাম্পাসে সক্রিয় বাম ঘরানার রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারাও তাদের শঙ্কার এবং আশার কথা বিভিন্ন সময় সভা সমাবেশে তুলে ধরেছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব ধরনের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব প্রশাসনের। সেটা নিশ্চিত করলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের জয় হবে বলে জানান তারা।

এদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও পরিচ্ছন্ন করতে আবাসিক হলে ভোটকেন্দ্র না দেয়ার দাবি বেশিরভাগ ছাত্র সংগঠন করলেও তাদের দাবিকে অগ্রাহ্য করে হলেই ভোটকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে ঢাবি প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেটাকে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল বেশিরভাগ ছাত্রসংগঠন। তারা বলছে, একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র না করলে তারা আন্দোলনে যাবে। যাই হোক সবার প্রত্যাশা একটা ভালো নির্বাচন। অবাধ, সুষ্ঠু এবং পক্ষপাতহীন নির্বাচন। আর সে নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা যাকে পছন্দ করবে তারাই নির্বাচিত হবে। হোক সে যেকোনো সংগঠনের কিংবা যেকোনো দলের। কী হবে! কেমন নির্বাচন হবে সেটা সময়ই বলে দেবে। যদিও বেশ কয়েক বছর ধরে ঢাবি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনার চেয়ে সমালোচনা বেশি হয়েছে। তবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য আছে। গর্ব করার মত নানা ইতিহাস আছে। আশা করছি এবারেও ২৮ বছর পরে হতে যাওয়া ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জয় হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারবে। আর নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রশাসন যদি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে পারে তবে এ প্রশাসনই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিতে পারবে। সে সুযোগ টুকু তাদের রয়েছে। এখন দেখার পালা তারা কী করেন! ঢাবি প্রশাসন যদি ব্যর্থ হয় তবে পরাজয় শিক্ষার্থীদের হবে না। ভেবে নেব, এ পরাজয় হয়েছে আমাদের সবার প্রিয় বাংলাদেশের।

লেখক: কায়সার সুমন, গণমাধ্যমকর্মী

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেপ ভার্দের হয়ে মাঠে নামতে পারতেন রোনা…
  • ২৯ জুন ২০২৬
দক্ষিণ আফ্রিকার হৃদয় ভেঙে শেষ ষোলোয় কানাডা
  • ২৯ জুন ২০২৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি শাকিল, সম্পাদক…
  • ২৯ জুন ২০২৬
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি যেভাবে বদলে দিয়েছেন জাপানি ফুটবল
  • ২৯ জুন ২০২৬
ব্রাজিল ম্যাচের আগে জাপানের বড় চিন্তা একটাই
  • ২৯ জুন ২০২৬
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, বিএম কলেজে আটক শতাধিক অটোরিকশা ও সিএনজি 
  • ২৯ জুন ২০২৬