উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষা যেমন হওয়া উচিৎ

২৯ আগস্ট ২০১৮, ১১:৩৫ AM
মো. আশারাফ হোসেন

মো. আশারাফ হোসেন © টিডিসি ফটো

আমি একজন শিক্ষার্থীকে জানি যিনি প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষা; পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। সে বরাবরই ক্লাসে প্রথম হতেন। কিন্তু উচ্চ শিক্ষার জন্য সে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মিলিটারী ইনস্টিটিউট অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজি, ইসলামিক ইউনির্ভাসিটি অফ টেকনোলজিতে ইঞ্জিনিয়ারিংসহ উচ্চতর কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হননি। আমি এজন্য কাকে দায়ী করবো ? ক্রমাগত চারটি পাবলিক পরীক্ষায় খুব ভাল ফল অর্জন করেও ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য না হওয়ার কারণ কী হতে পারে?

আমার মতে আমাদের দেশে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরিতেই গলদ রয়েছে। প্রশ্ন পত্র এমনভাবে প্রস্তুত করা উচিৎ যেন প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা এতে উর্ত্তীর্ণ হতে পারে।

আমরা জানি, জ্ঞারে ক্ষেত্র অসীম। তাই নির্দিষ্ট পাঠ্যসূচীতে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নসমূহ সীমাবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। এসএইচসি পরীক্ষার সাধারণ পাঠ্যসূচীর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নসমূহ সীমাবদ্ধ থাকা উচিৎ। দীর্ঘ তিন ঘন্টা ব্যাপি ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া দরকার। এক অথবা দেড় ঘন্টার সংক্ষিপ্ত সময়ে মেধা যাচাই করা যৌক্তিক পদ্ধতি হতে পারে না। কেবল গোলক পূরণ করে বিকল্প উত্তর হতে উত্তর বাছাই পদ্ধতি প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। এজন্য আমার কিছু প্রস্তাবনা রয়েছে:

কিছু প্রশ্ন এমন হওয়া প্রয়োজন যার উত্তর প্রদান করতে হলে অন্তত একটি পূর্ণ বাক্য লিখতে হবে। কিছু প্রশ্ন এমন হওয়া প্রয়োজন যার উত্তর প্রদান করতে হলে চার-পাঁচটি বাক্য লিখতে হবে। কিছু প্রশ্ন এমন হওয়া প্রয়োজন যার উত্তর লিখতে হলে একটি অনুচ্ছেদ লিখতে হবে। প্রশ্ন প্রস্তুতকারীদের নিজস্ব জ্ঞানের উপর নির্ভর করে প্রশ্ন প্রস্তুত না করে এইচএসসি এর সাধারণ পাঠ্যসূচীর মধ্যে প্রশ্ন সীমাবদ্ধ রাখা নিশ্চিত করতে হবে।

বিগত কয়েক বছর উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষা দেখা গিয়েছে যে, ভর্তির জন্য যে সকল শিক্ষার্থী বেসরকারী কোচিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা গ্রহণ করেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারাই ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। দিনে দিনে কোচিং সেন্টারগুলো এতে উচ্চ হারে ফি ইত্যাদি নির্ধারণ করছে। ফলে সাধারণ তো দূরের কথা উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও তা পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

যে সকল শিক্ষার্থী অধিক খরচের কোটিং সেন্টার থেকে সেবা ক্রয় করতে পারছে না তারা উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ভর্তির প্রতিযোগীতায় পিছিয়ে পড়ছে। যে সকল শিক্ষার্থী কোচিং সেন্টারের সেবা ক্রয় করে ভর্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারাই উচ্চ শিক্ষা প্রদানকারী সরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহে বেশী হারে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের সিলেবাসের অধ্যয়ন ভর্তি পরীক্ষায় খুব বেশী অবদান রাখতে পারছে না।

আমরা জানি জ্ঞানের শেষ নেই। কোন একজন শিক্ষার্থীকে মূল্যায়ন করার জন্য নির্দিষ্ট পাঠসূচী থাকা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় যারা প্রশ্ন প্রণয়ন করেন তাদের কোচিং সেন্টালসমূহের প্রশ্নগুলো সংগ্রহ করা প্রয়োজন। তাদের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সময় কোচিং সেন্টারগুলো প্রশ্ন এড়িয়ে কেবল বোর্ডসমূহের সাধারণ পাঠসূচী অনুসরণ করে প্রশ্ন প্রণয়ন করা উচিৎ।

কয়েক বৎসর এ কৌশল অবলম্বন করলে কোচিং সেন্টারসমূহের উপর শিক্ষাত্রীদের নির্ভশীলতা হ্রাস পাবে। প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবে। দেশ উপকৃত হবে। কোচিং ব্যবসায় ভাটা পড়বে।

৮ ব্যাংকের ‘অফিসার’ নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ও আসনবিন্যাস প্রক…
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ওসি-এসআইকে কান ধরে উঠবস করালেন জনতা
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাবিতে ভর্তি নিয়ে জরুরি নির্দেশনা, না মানলে মনোনয়ন বাতিল
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
জবিতে বৃত্তির দাবিতে ভবনে তালা, রাতভর অবরুদ্ধ ভিসিসহ ৩০ কর্…
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
ফিলিপাইনে ৩৪২ জন আরোহী নিয়ে ফেরি ডুবি, নিহত ১৫
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
চানখাঁরপুলে ৬ জনকে হত্যা মামলার রায় আজ
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬