শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি © ফাইল ছবি
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আজ সব প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে সব অসত্য আর ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আমাদের পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্বপ্ন আজ সত্যি। বুধবার (৮ জুন) একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে আনা সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ পদ্মা সেতু নিয়ে শেখ হাসিনাকে, তার পরিবারকে, তার সহকর্মীদেরকে হেয় করা সব প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনার সততা, দেশপ্রেম দৃঢ়তা, সাহস, প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতার কাছে পরাজিত হয়েছে সব ষড়যন্ত্র। এই পদ্মা সেতু বাঙালির আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। বাঙালির সাহস আর দৃঢ়তার প্রতীক।
তিনি বলেন, যারা আমাদের মতো উন্নয়নের জন্য সংগ্রামরত দেশগুলোকে প্রতিনিয়ত স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির ছবক দেন, তাদের নেতৃস্থানীয় একটি রাষ্ট্রের ঢাকাস্থ রাষ্ট্রদূত এবং তাদের পররাষ্ট্র দফতরের প্রায় উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে আসেন।
‘‘স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করবার জন্যে নয়, আসেন স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অনুসন্ধানের যে কাজ আমরা হাতে নিয়েছিলাম, তা বন্ধ করে দিতে। দুর্নীতির অনুসন্ধানকে উৎসাহিত করতে নয়। দুর্নীতির অনুসন্ধানকে বরং বন্ধ করে দিতে তারা চাপ প্রয়োগ করতে আসেন।’’
আরও পড়ুন: স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে হাঁটলেন প্রধানমন্ত্রী
মন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের জানিয়ে দেই, আমাদের আইনুযায়ী আমরা যে কোনও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অধিকার রাখি এবং অনুসন্ধানে তথ্য-প্রমাণ প্রাপ্তি সাপেক্ষে সুষ্ঠু তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই রাষ্ট্রদূতসহ সেই দেশের অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট আমার সঙ্গে দেখা করে।
দীপু মনি বলেন, আমি তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম এবং ফোন করেও তারা বারবার চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। কখনও প্রচ্ছন্নভাবে, কখনও বা স্পষ্টভাবে যে, গ্রামীণ ব্যাংক এবং তার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিষয়ে অনুসন্ধান বন্ধ করা না হলে পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্বব্যাংক যে অর্থায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এরপরই সব বায়বীয় অভিযোগ উত্থাপন করা হতে থাকে সরকারের বিরুদ্ধে এবং দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়। তারা তাদের কথা রেখেছিলেন, কোনও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে, কোনও দাতা সহযোগিকে না জানিয়ে আকস্মিক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন করার যে সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাংক নিয়েছিল, সেটিকে তারা বন্ধ করে দেন। অর্থায়ন না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।