সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হয়েছে, আলোচিত ডাক্তার খোন্দকার ফেরদৌস আলম বঙ্গবন্ধুর খুনি খোন্দকার মোশতাকের ভাগ্নে। করোনা চিকিৎসা দিতে নিউইয়র্ক থেকে তিনি ঢাকায় আসছেন।
যা নিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। সঙ্গে এও বলেছেন, ‘ক্ষমা করো বাংলাদেশ; বুক ভরা আশা নিয়ে এসেছিলাম মা তোমার পাশে থাকবো বলে। মনে হয় এয়ারপোর্ট থেকেই অজানা উদ্দেশ্যে সব শেষ করে দিলো ওরা....’
এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুনি মোশতাকের সঙ্গে নিজের আত্মীয়তার ব্যাখ্যা দেন ডা. ফেরদৌস। তিনি লিখেন, প্রিয় বাংলাদেশ। দেশে এসেছিলাম নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে করোনা নিয়ে সবার পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে। তার জন্যে জীবনের ঝুঁকি নিতেও আমি পিছপা হইনি। যখন ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে আমি দেশে এসেছি, তখন একদল লোক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার শুরু করেছে।
বলা হচ্ছে, আমি নাকি খুনি খন্দকার মোশতাকের ভাতিজা কিংবা খুনি কর্ণেল রশিদের খালাতো ভাই। অথচ পুরো বিষয়টি কাল্পনিক। আমার বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বারে। কুমিল্লায় বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষের বাড়ি। কুমিল্লা বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য জেলা। কুমিল্লায় বাড়ি হলেই কেউ খুনি মোশতাকের ভাতিজা কিংবা কর্নেল রশিদের খালাতো ভাই হয়ে যায় না।
আমি স্পষ্ট করে বলছি, এই দুই খুনির সাথে আমার পারিবারিক কিংবা আদর্শিক কোন সম্পর্ক নেই। বরং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে আমি, তাদেরকে চরম ঘৃণা করি। ফলে যারা এই খারাপ কথাগুলো ছড়াচ্ছেন, বলছেন, তাদের উদ্দেশ্য পরিস্কার; ভালো কাজে বাধা দেয়া। এটা অন্যায়। আমি তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানাচ্ছি। সেই সাথে প্রমাণের জন্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছি। যদি মনে করেন আমার সেবা আপনাদের সরকার, তাহলে পাশে থাকুন।
আরেকটি স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘জানিনা কেন আমাকে নিয়া এসব অপপ্রচার চলছে। আমি বঙ্গবন্ধুর খুনীদের আত্মীয় না, আমার কোন আত্মীয় বঙ্গবন্ধুর খুনীদের আত্মীয় না। আমি এমপি বা মিনিস্টার হতে আসিনি, আমি চেয়েছি বাংলাদেশের মানুষকে সেবা করতে। আমার শিক্ষা এবং মেধা মানুষের কাজে লাগাতে। সেটা যদি অপরাধ হয় আমাকে আপনারা ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাকে অপমান করবেন না। এটা আমার প্রাপ্য না।’