খাবার চাই— পুলিশের ৯৯৯ এ দুই লাখ ফোনকল

২২ এপ্রিল ২০২০, ১১:১৯ AM

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে কাঁপছে বিশ্ব। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ঘরের ভিতর থাকতে বলা হয়েছে। ফলে স্থবিব হয়ে পড়েছে জনজীবন। এ অবস্থায় খাবার চেয়ে পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ প্রায় দুই লাখ ফোন এসেছে। এদের বেশির ভাগই নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে চান।

তবে বিষয়টি এই সেবার আওতায় না পড়লেও মানবিক দিক বিবেচনায় সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ সদস্যরা। আবার অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসক ও ইউএনওদের সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু ফোন কল তথ্যসেবা হেল্পলাইন-৩৩৩ কর্তৃপক্ষের কাছেও ট্রান্সফার করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রমতে, করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই ৯৯৯ এ কলের সংখ্যা বেড়ে যায়। এরপর গত মাসের ১৮ তারিখ থেকে বিষয়গুলো নথিভুক্ত শুরু করে পুলিশ সদর দপ্তরের এই শাখাটি। ২ লাখ ১১ হাজার কলের বিপরীতে ২ লাখ ৩ হাজার ৬১৫ কল যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে বেশির ভাগই করোনা নিয়ে তাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা জানায়। পাশাপাশি তারা সবাই ত্রাণের জন্য পুলিশ সদস্যদের সহায়তা চায়। অনেকে আবার কান্নাকাটিও করেন। এমন পরিস্থিতিতে মানবিক দিক বিবেচনায় এ ধরনের কলগুলো আলাদাভাবে মনিটরিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকে এ ধরনের কল আসার পর সেগুলো সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের কাছে ট্রান্সফার করা হয়। এরপর থানার ওসিরা নীরবেই এসব ব্যক্তির ঘরে ত্রাণ পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের এটুআই (একসেস টু ইনফরমেশন) প্রকল্পের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট ইকবাল হোসাইন সোহেল বলেন, '৩৩৩-এ ফোন পেয়ে আমাদের সাধ্যমতো মানুষকে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি। এ কাজে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে স্থানীয় প্রশাসন।' তবে আপৎকালীন কলার সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।

৯৯৯ এ কল করে ত্রাণের সহায়তা পাওয়া মিরপুরের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত ১৮ এপ্রিল তিনি ৯৯৯ এ কল করেন। এরপর বাসায় খাবার নেই বলে জানানো হয়। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা জানান, ৯৯৯ কাউকে ত্রাণের সহায়তা করে না। এরপর তিনি একটু অনুনয় করলে তাকে মিরপুর থানার ওসির কলে যুক্ত করে দেওয়া হয়। পরে তার মোবাইল ফোন নম্বর রেখে গভীর রাতে পুলিশ সাধ্যমতো চাল-ডাল-পেঁয়াজ, আলু, আটা ও তেল বাসায় পৌঁছে দেন।

৯৯৯-এর অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ তবারক উলস্নাহ বলেন, করোনা সম্পর্কিত অনেক কল পাচ্ছেন। এর মধ্যে বেশির ভাগ কলারই ত্রাণ চাচ্ছেন। কিন্তু পুলিশ সদরে বসে ওই ব্যক্তির আসলেই ত্রাণের প্রয়োজন আছে কি না তা যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে তারা কলগুলো সংশ্লিষ্ট থানার ওসি, জেলার এসপি ও ইউএনওদের কাছে ট্রান্সফার করছেন। তারা যাচাই-বাছাই করে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে ৩৩৩ তেও কল ট্রান্সফার করা হচ্ছে। যেহেতু জরুরি সেবায় আগে কখনো ত্রাণের সহায়তার কল আসেনি। এ কারণে বিষয়টি নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে এই ধরনের ফোনকলের সংখ্যা এখন থেকে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে।

পুলিশের এই জরুরী সেবাটি চালু হওয়ার পর থেকে নানা ধরনের সহায়তা প্রদান করে আসছে। পুলিশি সেবার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাই ৯৯৯-এর মূল উদ্দেশ্য। তারপরও ইভ টিজিং ও সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এই সেবা কার্যকরী ভূমিকা প্রদান করে আসছে। এর বাইরেও নানা ধরনের মানবিক কাজের সাথেও যুক্ত ৯৯৯। এ ধরনের সহায়তা প্রদান করায় দিনকে দিন মানুষের আস্থা অর্জন করেছে পুলিশের এই সেবাটি। এই আস্থা থেকেই মানুষ এখন করোনা রিলেটেড ফোন দিচ্ছে ৯৯৯ এ।

যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালন করুন: অ্যাডভোক…
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া দুই রাষ্ট্রদূতের নিয়োগ …
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বিকল, লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ফল দেখুন এখানে
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
বহুল কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
গুপ্ত রাজনীতি বন্ধের দাবিতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ‘…
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬