আনসারীর জানাজায় জনসমুদ্র: ওসি বললেন- আমাদের কিছু করার ছিল না

১৮ এপ্রিল ২০২০, ০১:৩৬ PM

ইসলামী আলোচক আল্লামা মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন উপেক্ষা করে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখেই লাখো মানুষ জানাজায় অংশ নেন। শনিবার সকালে জামিয়া রহমানিয়া বেড়তলা মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে জানাজা মাদরাসা মাঠ ছাড়িয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশে ছড়িয়ে যায়।

একদিকে বিশ্বরোড মোড় হয়ে সরাইলের মোড় পর্যন্ত অন্যদিকে আশুগঞ্জের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকে লোকজন। এ ছাড়া ওই এলাকার বিভিন্ন ভবনের ছাদেও মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। সেখানে উপস্থিত ‍কিছু পুলিশ ছিল একপ্রকার নীরব দর্শক।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার এ প্রসঙ্গে বলেন, এটা থেকে বুঝা যায় যে আমাদের মাঝে সচেতনতার অভাব রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ দিয়ে এমন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া মোটেও সম্ভব না।

সরাইল থানার ওসি মো. শাহাদাৎ হোসেন টিটু লাখে মানুষ সমাগমের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও ঢাকা থেকে লোকজন আসে। আমরা চিন্তাও করতে পারিনি যে এত লোক হবে। লোকজন আসতে শুরু করার পর আমাদের আর কিছু করার ছিল না। তবে বলার পর উপস্থিত লোকজন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ান বলে দাবি করেন ওসি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেশে করোনাভাইরাস বিস্তার ঠেকাতে সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। আর চলাচলের জন্য বড় ধরণের কোন যানবাহন নেই। তবুও মাওলানা জুবায়েরের জানাজার নামাজে অংশ নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশপাশ থেকে যেভাবে পারে মানুষ দলবদ্ধ হয়ে অথবা একাকি চলে এসেছেন। তাঁকে শেষ বিদায় জানাতে এবং দোয়ায় অংশ নিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা-কর্মীসহ ভক্তরা সকাল থেকে জড়ো হন। যদিও আশপাশে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী নিয়োজিত ছিলেন। তবে তারা জানাজায় অংশগ্রহনকারীদের বাধা দেননি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে জানাজায় অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে বিশেষ সুরক্ষামূলক কোন ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়নি। কিছু মানুষের মুখে মাস্ক দেখা গেলেও অধিকাংশরা এসেছেন কোন ধরণের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ছাড়া। এছাড়া পরস্পরের মাঝে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের গাইডলাইনে নির্দেশিত তিন ফুট বা ১ মিটারের দূরত্ব বজায় রাখতেও সচেতনতা ছিল না।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়াস্থ নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, চার কন্যা ও অসংখ্য ভক্ত-ছাত্র-গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। দীর্ঘ তিন যুগের বেশি সময় ধরে তিনি দেশ-বিদেশে ওয়াজ-মাহফিলে অংশগ্রহণ করেছেন। আকর্ষণীয় কোরআন তেলাওয়াত ও চমৎকার কোরআনের তাফসিরের জন্য তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।

মরহুম মাওলানা জুবায়ের আহাম্মদ আনসারী জামিয়া রাহমানিয়া বেড়তলা, সরাইল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অগণিত মসজিদ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রতিভাবান এই আলেমের মৃত্যুর সংবাদে আলেম সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা যায়, ২০১৬ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দেশের বাইরে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েছিলেন তিনি। ।

তার মৃত্যুতে ওয়ায়েজদের বৃহৎ সংগঠন ‘রাবেতাতুল ওয়ায়েজিন বাংলাদেশ’-এর সভাপতি মাওলানা আবদুল বাসেত খান সিরাজী ও মহাসচিব হাফেজ মাওলানা হাসান জামিল শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এই সংগঠনের উপদেষ্টা ছিলেন।

ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ রুয়েটে ছাত্রদলের দেয়াল লিখন, শিক্ষার্থ…
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালন করুন: অ্যাডভোক…
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া দুই রাষ্ট্রদূতের নিয়োগ …
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বিকল, লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ফল দেখুন এখানে
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
বহুল কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬