লক্ষ্মীপুর পৌরসভা
টিডিসি সম্পাদিত © সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার গরুবাজার এলাকার সড়কে দিনের পর দিন বর্জ্যের স্তূপ ফেলে রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা। দুর্গন্ধ, পরিবেশদূষণ এবং পচা বর্জ্যে পিচ্ছিল হয়ে ওঠা সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি; সামান্য বৃষ্টিতেই বর্জ্যমিশ্রিত নোংরা পানি আশপাশের বসতবাড়িতে ঢুকে দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গরুবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত ডাম্পিং স্থানের পরিবর্তে সড়কের পাশ ও অনেক ক্ষেত্রে সড়কের ওপরই বর্জ্য ফেলে রাখা হচ্ছে। ময়লার স্তূপ থেকে ছড়িয়ে পড়ছে পলিথিন, পচা আবর্জনা ও দুর্গন্ধ। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিনই পৌরসভার ময়লাবাহী গাড়ি এসে রাস্তার ওপর বর্জ্য ফেলে রেখে যায়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, একটু বৃষ্টি হলেই ময়লার সঙ্গে মিশে থাকা নোংরা পানি ঘরবাড়ি ও আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিশু ও বয়স্করা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। শুধু মানুষই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গবাদিপশুও।
স্থানীয় বাসিন্দা ফয়জুন নেছা বলেন, ‘এ ময়লার দুর্গন্ধ আর নোংরা পরিবেশের কারণে আমার দুটি গাভীর বাছুর মারা গেছে। অনেক ধরনের ওষুধ খাইয়েও বাঁচাতে পারিনি। আমরা গরিব মানুষ, তাই আমাদের কষ্টের কথা বলারও কেউ নেই।’
আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যার পর এখানে দুর্ঘটনা ঘটে। পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও পৌরসভার গাড়িগুলো রাস্তার ওপর ময়লা ফেলে রাখে। এতে দুর্গন্ধে পথচারীদের চলাচল যেমন কষ্টকর হয়ে পড়েছে, তেমনি সড়কটি সন্ধ্যার পর মরণফাঁদে পরিণত হয়।
তিনি আরও বলেন, গরুবাজারে একটি খোলামেলা মসজিদ রয়েছে। আগে নিয়মিত সেখানে নামাজ পড়তে যেতাম। এখন দুর্গন্ধের কারণে মসজিদের কাছেও দাঁড়ানো যায় না। দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা জরুরি।
রাস্তার পাশের আরেক বাসিন্দা বলেন, ময়লা এনে রাস্তার ওপর ফেলে রাখে। সামান্য বৃষ্টি হলেই নোংরা পানি ঘর ও আঙিনায় ঢুকে যায়। রোগবালাই লেগেই থাকে। দুর্ঘটনা তো এখন নিত্যদিনের ঘটনা।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পৌর প্রশাসক সম্রাট খ্রিসা বলেন, ‘পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বড় প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। সাময়িকভাবে গরুবাজার এলাকায় বর্জ্য স্টক করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের যেসব সমস্যার কথা শুনেছি, সেগুলো সম্পর্কে আমরা আগে অবগত ছিলাম না। এখন বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, সড়কের ওপর বর্জ্য ফেলা অবিলম্বে বন্ধ করে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য অপসারণ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং দুর্ঘটনা এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। তাদের অভিযোগ, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।