রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন, সংবিধান কী বলছে?

২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৭ AM
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন © সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামির একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৩টা ২৭ মিনিটে দেওয়া ওই ফেসবুক পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের সামি দাবি করেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়েও ইঙ্গিত দেন।

এদিকে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন।

এ ছাড়া সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমান সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

এদিকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আস্থার কারণে তার নাম বিবেচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। দল ও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা করবেন বলেও জানা গেছে।

ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায়, পরবর্তী রাষ্ট্রপতিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতিও সামাল দিতে হবে। সরকার, বিরোধী দল ও বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা এবং গ্রহণযোগ্যতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সর্বশেষ গত ১৫ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বাণী দেন। এর আগে ২৫ জুন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এবং ৯ জুন মরক্কোর নতুন রাষ্ট্রদূত লালা বুতাইনা এল কেরদুদি এল কুলালির পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গত মে মাসে তিনি যুক্তরাজ্যে যান। পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, স্টাফ নার্স ও বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে ছিলেন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ফলোআপ পরীক্ষার অংশ হিসেবে ১২ মে কেমব্রিজের রয়্যাল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে তার এনজিওগ্রাম করা হয়। সে সময় হৃদযন্ত্রের একটি ধমনিতে গুরুতর ব্লক ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করে একটি স্টেন্ট বসানো হয়। পরে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: কয়েকদিনের মধ্যে পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি, নতুন পছন্দের তালিকায় এক সচিব

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যায়। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ, সংসদ বিলুপ্তি এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। গণ-অভ্যুত্থানের পর ছাত্রনেতারা তার অপসারণের দাবি জানান। বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পটভূমিতে ভিন্নতা তৈরি হয়। যদিও আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে সরকার পরিবর্তনের পরও তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করা হয়নি। এরপর থেকেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। তবে সরকার বা বিএনপি প্রকাশ্যে কখনো তার পদত্যাগ দাবি করেনি।

মো. সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন দেওয়ার সময়ও আওয়ামী লীগের ভেতরে আলোচনা-সমালোচনা ছিল। তিনি ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের উপদেষ্টা ছিলেন। সে সময় দুটি প্রতিষ্ঠানই এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে আলোচনা হয়েছে।

ব্যাংকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগের তৎকালীন শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তেই তাকে রাষ্ট্রপতি করা হয়েছিল বলে সে সময় দলটির ভেতরে আলোচনা ছিল।

বিমানবন্দরে যাত্রীর ব্যাগে মিলল ৭০৭ টি জীবিত কচ্ছপ, আটক এক
  • ২৩ জুলাই ২০২৬
বাবা হারানাে ইকনের দায়িত্ব নিলেন শিক্ষামন্ত্রী
  • ২৩ জুলাই ২০২৬
উড্ডয়নের ৯ মিনিটের মধ্যে আটলান্টিকে আছড়ে পড়ে বিমান, ৭৪ বছর …
  • ২৩ জুলাই ২০২৬
শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মধ্যেই কড়া বার্তা মোদির
  • ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে বড় নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
  • ২৩ জুলাই ২০২৬
দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মিলল নিখোঁজ যুবকের বিচ্ছিন্ন মাথা
  • ২৩ জুলাই ২০২৬