জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী ও মো. সারওয়ার আলম © সংগৃহীত
সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের বদলির সঙ্গে মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ বা অন্য কোনো বিষয়কে যুক্ত করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি কোনো জায়গায় ‘অপরিহার্য’ নন। তাছাড়া শিগগিরই তাকে নতুন পদায়ন দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রোববার (২১ জুন) সরকার সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে। এদিন তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে ওই প্রজ্ঞাপনে তাকে কেন ডিসির পদ থেকে সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
সারওয়ার আলমের বদলি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, বদলি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কোনো কারণ নেই। সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। একজন কর্মকর্তা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাবেন, আবার অন্য কর্মকর্তা এসে দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই সরকারের নিয়মিত কার্যক্রম।
সিলেটের মাজারের আয়-ব্যয়ের অনিয়ম নিয়ে সারওয়ার আলমের পদক্ষেপের পরপরই তার বদলি হওয়ায় ঘটনা দুটির মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘লোকের এভাবে মেলালে তো হবে না। মাজারের সঙ্গে এ বদলির কী সম্পর্ক আছে? বদলি তো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, হতেই পারে। এর সঙ্গে অন্য কিছু মেলানোর কোনো কারণ নেই।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বদলি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে- এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি সরকারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সরকারি কর্মকর্তা কোনো পদে স্থায়ী নন। তিনি আসবেন, যাবেন এবং তার কাজ করবেন। কোনো ব্যক্তি কোনো জায়গায় অপরিহার্য নন। একজন কর্মকর্তা ভালো কাজ করলে মানুষ তাকে পছন্দ করবে, ভালোবাসবে, সেটাই স্বাভাবিক। সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্বই হলো ভালো কাজ করা।’
সারওয়ার আলমকে নতুন কোনো পদে পদায়নও করা হয়নি- এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের কোনো দপ্তর থেকে আনা হয়, তাদের প্রথমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরে তাদের পদায়ন দেওয়া হয়। সারওয়ার আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আনা হয়েছে, এখান থেকে তাকে নতুন পদে পদায়ন করা হবে।’
২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আলোচিত ছিলেন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে সারাদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হন তিনি। ভেজাল, অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আলোচিত এবং মানুষের প্রশংসাও কুড়ান।