‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দেশপ্রেমিক জনগণ’ ব্যানারে ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বামজোটের নেতাকর্মীরা © টিডিসি
‘চুক্তির নামে দেশবিরোধী কোনো চক্রান্ত মেনে নেওয়া হবে না’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা। তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা, রাখাইন করিডর খোলার উদ্যোগ এবং স্টারলিংক প্রযুক্তির কার্যক্রম সবই দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। এসব পরিকল্পনা জাতীয় স্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান তারা।
শনিবার সকালে (২৮ জুন) ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে রোড মার্চের অংশ হিসেবে ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দেশপ্রেমিক জনগণ’ ব্যানারে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশ তারা এ হুঁশিয়ারি দেন।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এলেও তারা এখন সেই আকাঙ্ক্ষার বিপরীত পথে হাঁটছে। দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে তারা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সঙ্গে একের পর এক চুক্তি করছে। জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা, পবিপ্রবির অধ্যাপকের পদ অবনমিত
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহুল হোসেন প্রিন্স বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ছিল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান। এর আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধাচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সরকার এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে করিডর দিতে ও বন্দর ইজারা দিতে চাইছে, যা দেশের জন্য বিপজ্জনক।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে এসব পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানাই এবং জনগণের মতামত উপেক্ষা করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তই দেশের স্বার্থ রক্ষা করে না। জাতীয় সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা ‘বন্দর বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’, ‘চুক্তির নামে দেশ বিক্রি চলবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দিতে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করেন। আজ বিকেল পাঁচটায় চট্টগ্রাম বন্দরের সামনে সমাপনী সমাবেশ করে রোডমার্চটি সমাপ্তির কথা রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সকালে (২৭ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে রোডমার্চটি শুরু হয়ে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা অতিক্রম করে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফেনীতে পৌঁছে। সেখানে শহরের একটি কনভেনশন হলে ছয় শতাধিক নেতাকর্মী রাত যাপন করেন।