রাজারবাগে হট্টগোল, সভা শেষ না করেই চলে গেলেন আইজিপি

১০ আগস্ট ২০২৪, ০৮:২২ AM , আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৫, ১০:২৮ AM
সভা শেষ না করেই চলে গেলেন আইজিপি

সভা শেষ না করেই চলে গেলেন আইজিপি © সংগৃহীত

আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যদের কাজে ফেরানোর জন্য রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় মতবিনিময় সভার। কিন্তু বিক্ষুব্ধ পুলিশ সদস্যদের হট্টগোলের মধ্যে সভা শেষ না করেই চলে যান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম। হট্টগোলের কারণে মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে ১১ দফা দাবিতে আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা।

শুক্রবার  (০৯ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে এ সভা আয়োজন করা হয়েছিল।

জানা গেছে, মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের। তবে তিনি যেতে পারেননি। সভায় পুলিশ সদস্যরা দাবি-দাওয়া তুলে ধরে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম ছাড়াও মতবিনিময় সভায় র‌্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান ও ডিএমপি কমিশনার মাইনুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি কথা বলা শুরু করলে পুলিশ সদস্যরা হট্টগোল শুরু করেন। এ সময় উত্তেজিত পুলিশ সদস্যরা একজন অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে সভা শেষ না করেই আইজিপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চলে যান।

সভায় আইজিপি ময়নুল ইসলাম বলেন, পুলিশের আহত সদস্যদের আধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। তাঁদের জন্য প্রয়োজনে বিদেশ থেকে পরামর্শক আনা হবে। পুলিশের নিহত সদস্যদের পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া হবে।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, ‘যে ১১ দফা দিয়েছেন, সেগুলো নিয়ে রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রতিনিধিদল নিয়ে বসা হবে। কোনো জুনিয়র পুলিশ সদস্য সিনিয়র পুলিশ সদস্যের কাছে হয়রানির শিকার হবে না।’ তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যরা আইজিপির এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁরা বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে রাজারবাগে আনতে হবে। আলোচনা হবে এখানেই।

আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যরা দাবি করেন, পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়নে আইজিপি যে ৮ সদস্যের কমিটি করেছেন, সেই কমিটির পাশাপাশি কনস্টেবল থেকে এসআই পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের আরেকটি কমিটি করতে হবে। তাঁদের সমস্যার সমাধানে এ কমিটি কাজ করবে। সভায় একজন কনস্টেবল বলেন, ৫ আগস্ট কনস্টেবল থেকে এসআই পদমর্যাদার যত পুলিশ সদস্য মারা গেছেন, গত ৫০ বছরে পুলিশের অফিসার পদমর্যাদার এত সদস্য মারা যাননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের কয়েকজন সদস্য গণমাধ্যমকে জানান, তাদের জীবনের নিরাপত্তা না পাওয়া পর্যন্ত কাজে ফিরবেন না। প্রয়োজনে পুলিশের নাম, পোশাক সব সংস্কার করতে হবে। অতীতের ভুলের জন্য আইজিপিকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এ ছাড়া পুরো পুলিশ বাহিনী সংস্কার করে নতুন বাহিনী করতে হবে। এই বাহিনীর ঘোষণা দেবেন ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা।

বৃহস্পতিবার (০৮ আগস্ট) পুলিশের সব ইউনিটের সদস্যদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে কর্মবিরতিতে থাকা পুলিশ সদস্যদের অধিকাংশই কাজে ফেরেননি। তাদের কাজে ফেরানোর জন্যই রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

পুলিশ সদস্যদের প্রতিনিধি নিয়ে রবিবার (১১ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি সভার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যরা আইজিপির এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ট্যাগ: জাতীয়
ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ রুয়েটে ছাত্রদলের দেয়াল লিখন, শিক্ষার্থ…
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালন করুন: অ্যাডভোক…
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া দুই রাষ্ট্রদূতের নিয়োগ …
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বিকল, লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ফল দেখুন এখানে
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
বহুল কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬