চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবির শিরীষতলায় কান্নার ‘উন্মুক্ত উৎসবের’ আয়োজন হয় © সংগৃহীত
চট্টগ্রামে তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে কান্নার ‘উন্মুক্ত উৎসব’ আয়োজন করা হয়েছে। সামাজিক উন্নয়নকর্মী টুটুল চৌধুরীর উদ্যোগে এটি আয়োজিত হয়।
শনিবার বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নগরীর সিআরবির শিরীষতলায় অনুষ্ঠিত এ কান্না উৎসবে ২৫ জন বিভিন্ন বয়সের তরুণ-তরুণী অংশ নিয়েছেন। তারা সবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ উৎসবটির বার্তা পেয়েছিলেন।
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগে স্নাতকোত্তর করা টুটুল চৌধুরী নামে এক যুবক এ উৎসবের আয়োজন করেছেন।
কান্না উৎসবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিআরবির শিরীষতলায় গোল হয়ে বসে আছেন ২৫ জন তরুণ-তরুণী। চারিদিকে মাস্ক, পেঁয়াজ, স্যালাইন ও হেডফোন দিয়ে সাজানো হয়েছে। আর মাঝখানে তারা সবাই কান্না করছেন। প্রত্যেকের চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এ সব ব্যবহার করা হয়েছে প্রতীকী অর্থে। মানুষ মুখ বন্ধ করে লজ্জায় যে কষ্ট চেপে রাখে এ জন্য মাস্কগুলো চারপাশে টাঙ্গিয়ে রাখা হয়েছে। আর পেঁয়াজের দাম নিয়ে মানুষের যে চাপা কান্না সেটি বুঝাতেই প্রতীকি অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে এটি। আর কান্না চেপে মানুষের শরীর থেকে ডোপেমিন জাতীয় হরমোন অতিরিক্ত ক্ষয় হয়। যার কারণে ক্লান্ত হয়ে যায় শরীর, সে কারণেই রাখা হয়েছে স্যালাইন।
কান্না উৎসবে অংশ নেওয়া কলেজপড়ুয়া চৈতী চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের অনুভূতিগুলো যদি প্রকাশ না করি, তাহলে ভেতরে এক ধরনের বিষণ্ণতা তৈরি হবে। একসময় এটি মানুষকে আত্মহত্যার দিকে নিয়ে যায়। এ জন্য অনুভূতি প্রকাশ করা প্রয়োজন।’
আয়োজকরা জানান, কান্না করা অনেক আবেগের মধ্যে একটি। যা অনেকটা হাসির বিপরীত। কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে মানুষ কান্না করে না। সমাজে প্রচলিত আছে কান্না করাটা লজ্জার, গোপনীয়, গ্লানিকর, হীনমন্যময়। কিন্তু এমন আচরণের কারণেই সমাজের মধ্যে অস্থিরতা, মানসিক চাপ, সামাজিক বন্ধনহীনতা, আগ্রাসী মনোভাবসহ নানা মনোজাগতিক বৈকল্য ব্যাপক হারে বাড়ছে। তাই এ অস্থিতিশীলতাকে দূর করতে উন্মুক্ত কান্না উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।