প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী © সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে নৌকা মার্কায় ভোট দরকার। তিনি বলেছেন, একমাত্র নৌকা মার্কা স্বাধীনতা দিয়েছে, অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়েছে। আমি আপনাদের এলাকার পুত্রবধূ। কী বাহে, একখান ভোট কি মুই পামু না? হামাক একখান ভোট দিবান না? হামাক একখান ভোট দিবা।
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে রংপুরের পীরগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জনসভায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের নৌকার প্রার্থী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর হাত তুলে উপস্থিত জনতাকে দেখিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমার মেয়ে শিরীন শারমিনকে দিয়ে গেলাম। সে জয়ের বোন, পুতুলের বোন। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করা মানে আমাকে ও জয়কে ভোট দেওয়া। নির্বাচিত হলে আমি আবার আসব, এই মাঠেই আবার জনসভা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, দেশের কল্যাণে ও জনগণের জন্য কাজ করে। গত ১৫ বছর আমরা টানা ক্ষমতায় আছি বলেই দেশের এত উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতাকে রক্ষা করতে সবাইকে নৌকায় আবারও ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জনগণকে দেওয়া ওয়াদা পূরণ করতে পেরেছি। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশের উন্নয়ন হয়। পনের বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। শিক্ষা-দীক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে দেশ এখন অনেক এগিয়ে গেছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে এখন্ আর মঙ্গা হয় না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর ঘোষণা দিয়েছিলাম, দেশকে ডিজিটাল করবো। আমরা এটা করেছি। এখন প্রত্যেক মানুষের হাতেহাতে মোবাইল ফোন দেখা যাচ্ছে। এটা আমরাই দিয়েছি। বেকার যুবকরা এখন মোবাইল ফোন দিয়ে টাকাও আয় করছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পনের বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। শিক্ষা-দীক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে দেশ এখন অনেক এগিয়ে গেছে। আমরা ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বিনামূল্যে ঘর করে দিচ্ছি। দেশের প্রত্যেকেরই একটা ঘর হবে। রংপুর যেভাবে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত হয়েছে, ঠিক এমনিভাবে আমরা সারা দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের একটা করে ঘর করে দিচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা দেশের স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য কমদামে নিত্যপণ্য কেনার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল পায় সেই ব্যবস্থাও করে দিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের জন্য আমরা রাজনীতি করি। মানুষকে হত্যা করে, খুন করে কী আন্দোলন সেটাই আমরা প্রশ্ন। তরুণ সমাজ, ছাত্রসমাজসহ প্রত্যেককে সজাগ থাকতে হবে। যারা অগ্নিসন্ত্রাস করে তাদেরকে ধরে আগে উপযুক্ত শাস্তি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করতে হবে। মানুষের জীবন নিয়ে কাউকে আর খেলতে দেব না। আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করি। দিনরাত পরিশ্রম করে এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করছি। সেখানে তারা আসছে ধ্বংস করার জন্য।
নাশকতা সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে সজাগ হতে হবে, সচেতন হতে হবে। প্রয়োজনে বাড়ির কাছে রেললাইন থাকলে পাহারা দিতে হবে। বাসে কেউ আগুন দিতে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ধরতে হবে। জনগণকে এটা প্রতিরোধ করতে হবে। ২০১৪ সালে জনগণ এ ধরনের অগ্নিসন্ত্রাস প্রতিরোধ করে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিল, আমরা সরকারে এসেছি। এই অগ্নিসন্ত্রাস রুখতে সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।