হাতিরঝিল থেকে পানি নিচ্ছে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার © সংগৃহীত
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত আগুন নেভাতে অনেক সময় হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। যখন অগ্নি দুর্ঘটনার স্থানে ফায়ার ব্রিগ্রেডিয়ারদের সঞ্জাম পৌঁছাতে দেরি হয় অথবা পানির স্বল্পতা দেখা যায় তখন আগুন নেভাতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে একটি পাত্র দিয়ে পানি ঢালতে দেখা যায়। সে পানি ঢালার পাত্রটিকেই ‘বাম্বি বাকেট’ বলা হয়।
আজ মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর বঙ্গবাজারের মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে হাতিরঝিল থেকে বাম্বি বাকেটে পানি নিতে দেখা গেছে। অনেকেই এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। সেনাবাহিনীর এমন কার্যক্রমকে প্রশংসাও করছেন নেটিজেনরা।
বাম্বি বাকেটকে আবার হেলিকপ্টার বালতি বা হেলিবাকেটও বলা হয়। অনেকেই মনে করে যে এই বাম্বি বাকেটে বেশি পানি ধারণ করা যায় না। তবে এটি একটি ভুল ধারণা। দেশ ও অপারেটর ভেদে বাম্বি বাকেটের ধারণ ক্ষমতা ৩ হাজার থেকে ৯ হাজার লিটার পর্যন্ত।
আরও পড়ুন: বঙ্গবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টারে নেয়া হচ্ছে হাতিরঝিলের পানি
এই বিশেষায়িত বালতি তারের উপর ঝুলে থাকে, যা আকাশ থেকে অগ্নিনির্বাপণের জন্য পানি সরবরাহ করতে পারে। মুহুর্তের মধ্যে কয়েক হাজার লিতার পানি নিয়ে এসে আগুনের ওপর ফেলা হয়। যাতে করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বিশ্বের ১১৫টি দেশের এক হাজারের বেশি হেলিকপ্টার অপারেটর এই বাকেট ব্যবহার করেন।
এই বাকেটের ধারণাটি এসইআই ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা ডন আর্নি থেকে এসেছে। তিনি একটি কোম্পানির জন্য কাজ করছিলেন, যেটি নৌকা এবং জাহাজ উদ্ধারের জন্য ব্যবহৃত পানির নিচের স্যালভেজ বেলুনের শক্তি পরীক্ষা করছিল। সেখানে ডন আর্নি কয়েক হাজার পাউন্ড জল ধারণ করা একটি ক্যানভাস ব্যাগের দিকে তাকিয়ে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে একটি বালতি দিয়ে জল তোলা এবং ফেলে দেওয়ার কাজ কিভাবে করা যায় ভাবতে শুরু করেন। পরবর্তীতে বাম্বি বাকেট ১৯৮২ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে।