প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ফুটবল খেলা বেশ জনপ্রিয়। এবারের বিশ্বকাপেও বাংলাদেশী ভক্তদের তুমুল উচ্ছ্বাস এই দুই দেশকে ঘিরে। এই দলের ভক্তরা প্রায়ই নিজেদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনায় মেতে উঠছেন।
শুধু ফুটবল নয়, এই দেশগুলোর সাথে রয়েছে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। যদিও আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে কম, এ দেশে রপ্তানি করে বেশি। ফুটবলের পাশাপাশি বাণিজ্যেও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল। আর্জেন্টিনার চেয়ে ব্রাজিলে ১০ গুণ বেশি পণ্য রপ্তানি করে থাকে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে এমন দেশ গুলোর মধ্যে ব্রাজিলের অবস্থান ৮ এবং আর্জেন্টিনার অবস্থান ১৯।
আরও পড়ুন: গাছে পেরেক ঠুকে লাগানো ব্যানার-ফেস্টুন সরাচ্ছে রাবি প্রশাসন
বাণিজ্য তথ্য সূত্রে জানা যায়, ব্রাজিলে রপ্তানির চেয়ে আমদানি ২০ গুণ বেশি : গত অর্থবছরে ব্রাজিল থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ ছিল ২২৫ কোটি ডলার এবং রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১১ কোটি ডলার। বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি রপ্তানি করে ব্রাজিল। অন্যান্য দেশের মতো ব্রাজিলেও তৈরি পোশাকই বেশি রপ্তানি হয়ে থাকে বাংলাদেশ থেকে। ব্রাজিল থেকে সাধারণত চিনি, তেলবীজ, খাদ্যশস্য, বিভিন্ন ধরনের ফল, আয়রন ও স্টিল আমদানি করে বাংলাদেশ।
ডিজাইন টেক্স নিটওয়্যার ব্রাজিলে সোয়েটার রপ্তানি করে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর সহ-সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে ব্রাজিল বেশ সম্ভাবনাময়। প্রচলিত বাজারের ওপর অতিনির্ভরতা কমাতে ব্রাজিলের মতো বাজারে এখন মনোযোগ দিচ্ছেন তাঁরা।
বাংলাদেশে ব্যাংক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে আর্জেন্টিনা থেকে বাংলাদেশ পণ্য আমদানি করেছে ৭৯ কোটি ডলারের। আর রপ্তানি করেছে মাত্র ৯৭ লাখ ডলার। আর্জেন্টিনা বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ আমদানি করে, তার চেয়ে ৮১ গুণ বেশি রপ্তানি করে এ দেশে। আর্জেন্টিনা থেকে সাধারণত তুলা, খাদ্যশস্য, বিভিন্ন ধরনের তেল আমদানি করা হয়। আর বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় তৈরি পোশাকের নিট ক্যাটাগরির পণ্য।
বিকেএমইএর সহ-সভাপতি ও বুন বক্স অ্যাপারেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আক্তার হোসেন অপূর্ব গণমাধ্যমকে বলেন, আর্জেন্টিনা তৈরি পোশাকের বড় বাজার হতে পারে। প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাজার বৈচিত্র্য আনার চেষ্টায় আর্জেন্টিনা থেকে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ক্রমেই দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বাড়ছে।