দিল্লিতে মণিপুরী সংগীতশিল্পীকে পিটিয়ে হত্যা

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৭ AM
চোংথাম বিক্রম সিং

চোংথাম বিক্রম সিং © সংগৃহীত

রাজধানী দিল্লিতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে মণিপুরের প্রবীণ সংগীতশিল্পী ও গিটারিস্ট চোংথাম বিক্রম সিংকে। ৫৪ বছর বয়সী এই শিল্পী মণিপুরের রক সংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। বাড়ির বাইরে একদল মানুষের হইচই ও চিৎকার-চেঁচামেচির প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয় বলে পুলিশ ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির কিলোকরি এলাকায় রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় সাতজন প্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার এবং একজন কিশোরকে আটক করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে স্থানীয় ধাবা ও খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা রয়েছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিক্রম সিং রাতে বাসার বাইরে ময়লা ফেলতে বের হলে সেখানে একদল ব্যক্তি উচ্চস্বরে কথা বলছিলেন এবং হইচই করছিলেন। তিনি তাঁদের এমন আচরণ না করতে বলেন। এ নিয়ে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাকে অনুসরণ করে ভবনের ভেতরে গিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সিসিটিভি ফুটেজেও হামলার পর একদল ব্যক্তিকে ভবন থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় বিক্রম সিংকে তার ছেলে ইয়াইফাবা চোংথাম হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের প্রতিবেদনে ভোঁতা আঘাতজনিত কারণে হেমোরেজিক শকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ইম্ফল ওয়েস্টের থাংমেইবন্দ লৌরুং পুরেল লেইকাই এলাকার বাসিন্দা বিক্রম সিং তরুণ বয়সেই মণিপুরের ওয়েস্টার্ন ও রক সংগীতের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি আল্ট্রা ভাইরেস, ফিনিক্স ও ইস্টার্ন ডার্কের মতো ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং ফিনিক্স ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট হিসেবে পরিচিতি পান।

প্রায় ১৭ বছর আগে দিল্লিতে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে সংগীত শিক্ষক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি নিজেও একটি মিউজিক স্কুল পরিচালনা করতেন। দিল্লি স্কুল অব মিউজিকেও শিক্ষকতা করেছেন এবং তরুণ সংগীতশিল্পীদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়েছেন।

বিক্রম সিংয়ের পরিবারও সংগীতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তার মা চোংথাম কমলা মণিপুরের খ্যাতিমান শাস্ত্রীয় ও প্লেব্যাক সংগীতশিল্পী। তাকে মণিপুরি চলচ্চিত্রের লতা মঙ্গেশকর হিসেবেও অভিহিত করা হয়েছে। বিক্রম সিং বুং সিনেমার পরিচালক লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবীর চাচাতো ভাই ছিলেন। বুং ভারতের প্রথম বাফটা পুরস্কারজয়ী চলচ্চিত্র।

আরও দেখুন: ময়লার স্তূপে মিলল দুই নবজাতকের মরদেহ

মৃত্যুকালে বিক্রম সিং স্ত্রী জোৎস্না এবং ছেলে ইয়াইফাবাকে রেখে গেছেন।

বিক্রম সিং হত্যার ঘটনায় মণিপুরি ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস সোসাইটি, দিল্লি ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন মহল ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় জাতিগত বিদ্বেষের কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও আলোচনায় এসেছে; তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত এমন কোনো উদ্দেশ্য নিশ্চিত করেনি। তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কোনো নিষিদ্ধ বই নয়: আসিফ নজরুল
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাকৃবির গেস্ট হাউসে ইয়াবাসহ চারজন আটক
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হজযাত্রীদের জন্য নতুন প্যাকেজ ঘোষণা সৌদি আরবের
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় পর্যায়ের নগর উন্নয়ন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় কুয়েট …
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘মিজানের ভাতের হোটেল’ ফের উচ্ছেদ করল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরে…
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদা চেয়ে রাবির পাঁচ শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬