আর এক বছর পরই ডাক্তার হওয়ার কথা ছিল মেডিকেল ছাত্রী নিঝুমের

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৪০ PM
সামিয়া নিঝুম

সামিয়া নিঝুম © সংগৃহীত

এক বছর পরই ডাক্তার হওয়ার কথা ছিল কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী সামিয়া নিঝুমের (২০)। কিন্তু সেই স্বপ্নপথ হঠাৎই থেমে গেল। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং ই-ব্লক এলাকার একটি বহুতল ভবনের চতুর্থ তলার একটি কক্ষ থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সামিয়া নিঝুম পাবনা জেলার চাটমোহর থানার ছোট শালিখা এলাকার আবদুস সালামের মেয়ে। তিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। কুষ্টিয়া শহরের ওই ভবনে তিনি একাই একটি কক্ষ সাবলেট নিয়ে থাকতেন।

বাড়ির কেয়ারটেকার রিয়াজ উদ্দিন বলেন, নিঝুমের বাবা আমাকে কল দিয়ে বলেন আংকেল আমার মেয়ে ফোন ধরছে না, একটু দেখেন তো রুমে থাকলে ডেকে দেন। আমি তখন এসে নিঝুমের পাশের রুমের এক মেয়েকে ডেকে নিঝুমের রুমে গিয়ে নক করি যে তোমার বাবা ফোন দিয়েছে কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ নেই, ঘর খোলে না। চিৎকার করে ডাকলাম, কোনো সাড়াশব্দ নেই, তখনও ওই মেয়ের বাবা কলে ছিলেন। তখন নিঝুমের বাবা বলেন, দরজা ভেঙে দেখেন। তখন আমিসহ পাশের সাবলেটে থাকা মেয়েরা দরজা ভাঙার চেষ্টা করি। উপরে ছিটকানি দেওয়া থাকার কারণে দরজার নিচের দিকে হালকা ফাঁকা হয়ে গেলে আমরা দেখি সে বিছানায় নেই, জানালার সঙ্গে ঝুলছে। তখন সাবলেটে থাকা অন্য মেয়েরা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত নিঝুমের বাবা আব্দুস সালাম বিলাপ করে বলেন, গত মাসের ২৩ তারিখে আমার মেয়েকে এই বাসায় দিয়ে যাই। আমার মেয়ে মেসে একসঙ্গে থাকার কারণে পড়াশোনা ঠিকমতো হচ্ছিল না। মেয়ে আমাকে আলাদা রুম নিয়ে থাকার কথা জানালে সব ঠিকঠাক করে মেয়েকে দিয়ে যাই। গতকালও (শনিবার) সন্ধ্যায় আমার মেয়ের সাথে আমার কথা হয়। রোববার পরীক্ষা থাকায় সারাদিন কথা না হলে সন্ধ্যার পর থেকে ফোন দিলে সে আর ফোন রিসিভ করে না। পরে এই বাড়ির লোককে ফোন দিলে আমার মেয়ের এই ঘটনা জানতে পারি। আমার বাড়ির অন্য মেয়েরা এই ঘটনা জানে না। আমি এখন তার মাকে কী জবাব দেব?

পাশের রুমের সাবলেটে থাকা মেডিকেল কলেজের একজন ছাত্রী বলেন, বাড়ির দেখভালের দায়িত্বে থাকা নানা এসে আমাদের নক করে বলেন নিঝুম আপুর বাবা ফোন দিয়েছে তাঁর খোঁজ নেওয়ার জন্য। আমরা নানাসহ নিঝুম আপুর রুমে বেশ কয়েকবার ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করি। পরে দরজার কিছুটা ফাঁকা জায়গা দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া দেখে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে আপুর মরদেহ উদ্ধার করে। নিঝুম আপু গত জানুয়ারি মাসের ২২ তারিখের দিকে আমার পাশের এক রুম সাবলেট নিয়েছেন।

নিহত নিঝুমের সহপাঠীরা বলেন, রোববার আমাদের ক্লাস ও পরীক্ষা ছিল। নিঝুম সকালে ক্লাস-পরীক্ষা শেষ করে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়। আমাদের সাথে যতক্ষণ ছিল স্বাভাবিকভাবেই ছিল। হঠাৎ সে কেন এরকম করল আমরা বুঝতে পারছি না।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম জানান, মেয়েটা পড়াশোনায় খুবই ভালো ছিল। সে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। আর এক বছর থাকলেই সে ডাক্তার হয়ে বের হতে পারত। আজ একটি ভুলের কারণে মেয়েটির জীবন শেষ হয়ে গেল। এরকম ভুল যেন আর কোনো শিক্ষার্থী না করে এটাই আমাদের কাম্য।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন মাতুব্বার জানান, খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। আমি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে আত্মহত্যা করেছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন আজ
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কিশোর অপরাধ দমনে আড্ডা থেকে ৩১ কিশোর আটক, মুচলেকায় ছাড়
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ল নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাশবন
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নারী কর্মচারী-শিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ প্রধান শিক্ষ…
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কিশোর অপরাধ দমন অভিযানে লক্ষ্মীপুরে আটক ১৮২
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নবম পে স্কেলের পে-ফিক্সেশন সুষ্ঠুভাবে করতে অনলাইন প্রশিক্ষণ…
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬