শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৭ জুন 

০৪ জুন ২০২৬, ০১:৪৪ PM , আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০১:৫০ PM
মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা

মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা © সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের অভিযোগের বিষয়ে আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক  শেষে রায়ের জন্য আগামী রবিবার ৭ জুন নির্ধারণ করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিন সকাল ৮ টা ৪০ মিনিটে  আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়।পরে সকাল ১১টা ২১ মিনিটে সোহেল রানাকে ও পরবর্তীতে স্বপ্নাকে  শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। পরে  ১১টা ৪৫ মিনিটে আদালতে বিচারক উঠলে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। পরবর্তী দুপুর ১টা পর্যন্ত একটানা চলতে থাকে এই যুক্তি তর্ক। 

যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্র পক্ষের এ মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে  শুনানি করেন।এসময় তিনি আসামি সোহেল ও স্বপ্নাকে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগ পড়ে শোনান। একই সাথে মামলার বাদী ও রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার অভিযোগ আদালতে পড়ে শোনান। একই সাথে মামলার সকল সাক্ষীদের জবানবন্দি পড়ে শোনান।

আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী বলেন, মামলার প্রত্যেকটা সাক্ষী রামিসার গলাকাটা লাশ দেখেছেন বলে এখানে জবানবন্দি দিয়েছেন। ডলারের নাম আসার বিষয় আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, এ আসামি জবানবন্দিতে বলেনাই ডলারের নাম । এটা মূলত সে যখন অন্যান্য আসামিদের সাথে কারাগারে থেকেছে সেকান থেকে অন্যান্য আসামিদের কাছ থেকে এ বুদ্ধি-পরামর্শ পান। তবে একই সাথে যেটা বলতে হয়, আল্লাহর পক্ষ থেকে আসামি সোহেল গতকাল কিন্তু সেচ্ছ্বায় নিজের দোষ স্বীকার করে  মাফ চেয়েছেন।বলা যায় এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়েছে। 

মামলায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নার সম্পৃক্তা সম্পর্কে আইনজীবী দুলু আদালতে বলেন, সে কিন্তু রামিসার এই অবস্থা দেখে বাইরে এসে চিৎকার করে জানাতে পারতো কিন্তু তিনি তা করেননি। শুধু সোহেলাকে জানালা থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন এমনটি না পুরো ব্যপারে স্বপ্না সেখানে অবস্থান করে সহায়তা করেছেন। কারন তিনি কাউকে জানাতে পারতো যদি সে নিরপরাধ হতো। কিন্তু তিনি তা করেননি।

আরও পড়ুন: মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেছিলেন দীপেন পরিবারের মনিস্বপন দেওয়ানও, কেন?

আইনজীবী আরও বলেন,তদন্ত কর্মকর্তা সেই এলাকার সিসি ফুটেজে না পাওয়ার কারণ হচ্ছে, পল্লবী এলাকা এত ডেভেলপ না। এজন্য সিসিফুটেজে পাওয়া যায়নি। বেলা দেড়টা পর্যন্ত একটানা শুনানি করেন রাষ্ট্র পক্ষের পিপি আজিজুর রহমান দুলু। পরে এ মামলায় রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী

পরবতীতে ১টা ৩১ মিনিট থেকে মুছা কালিমুল্যাহ যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু করেন। তিনি আদালতে বলেন, শুধুমাত্র জবানবন্দির আলোকে চার্জশিট দিয়ে আসামিকে শাস্তি দেওয়া যায় না। একজন নেশাগ্রস্ত আসামি কি জবানবন্দি দিয়েছেন তা গ্রহণ করা যায় না।এটা বলে সে শুনানি শুরু করেন। পরে আইনজীবী দুলু বলেন, ঘটনার সময় সোহেল নেশাগ্রস্ত ছিল সেটা কোথাও প্রমানিত না। 

এ সময় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী ও উপস্থিত ছিলেন। 

গত ১ জুন পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে গতকাল  ১৬ জনের  সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে, গত ২৪ মে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। এরপর চার্জশিটটি আমলে গ্রহণ করে বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। একইদিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগ পত্র আমলে নিয়ে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান।

ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের (০৮) মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। 

আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী আসামি মো. সোহেল রানা (৩০) হীন কামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে। 

এ ঘটনায় ১৯ মে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।  মামলার দায়েরের প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একইদিন আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।

দুপুরের মধ্যে ৮ জেলায় ঝড়ের আভাস
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে …
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
সরকারি ত্রাণ দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিতরণ, বিএনপির ২ নেতার …
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
খাগড়াছড়িতে পাহাড় কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
রথযাত্রা থেকে ফিরে বাসায় মিলল নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
৩ মাসের শিশুর পা ভেঙে দেওয়া সেই চাচি গ্রেফতার
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence