রাজধানীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা

সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ

০২ জুন ২০২৬, ০১:১৯ PM , আপডেট: ০২ জুন ২০২৬, ০১:২০ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশুকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন শেষে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা, ফুফুসহ মোট ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এই সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেন। ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ বিচারক বিরতি দেন দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটের দিকে।

এদিন সকাল ৯টার দিকে আসামি দুজনকে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে এনে হাজত খানায় রাখা হয়। পরে ১০টা ১২ মিনিটে সোহেল রানাকে ও ১০টা ২৪ মিনিটে স্বপ্না আক্তারকে আদালতের কাঠগড়ায় উঠানো হয় পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায়। 

পরবর্তী সময়ে ১০টা ৩৫ মিনিটে বিচারক আসে এজলাসে। এরপর সঙ্গে সঙ্গেই শুনানি শুরু করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। শুরুতেই তিনি আসামি সোহেলের মিডিয়াতে এলোপাতাড়ি কথা বলার বিষয়ে অভিযোগ তোলেন। এ সময় তিনি আদালতের নিকট আবেদন জানান আসামির যাতায়াতের সময় আসামি যেন মিডিয়াতে কথা বলার সুযোগ না পায়। এ সময় তিনি প্রসিকিউশন পুলিশদের আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।

এরপর সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। বিচারকের প্রশ্নে তিনি তার বাবা ও বাসা নাম্বার বলেন আদালতে। এ সময় তিনি অসুস্থতার জন্য আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে চেয়ারে বসে সাক্ষ্য দেন। চেয়ারে বসার পরে তিনি বিচারকের প্রশ্নের জবার দিতে থাকেন।

বিস্তারিত বর্ননায় তিনি বলেন, ‘আমি সকাল বেলা অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্য বের হই। আনুমানিক সাড়ে ৯টা নাগাদ বের হই বাসা থেকে। আমি ক্যান্টমেন্ট হয়ে বনানী কাকলীতে যায়। পৌঁছানো মাত্রই আমার স্ত্রীর ফোন পাই। ১০টা ১৫ মিনিটে আমি ফোন পাই এবং বাসায় চলে আসি। এসে দেখি আমার বাসার সামনে মানে মেইন গেটে অনেক লোক জড়ো হয়ে যাছে। তারপর আমি দৌড় দিয়ে আমার ফ্ল্যাটের সামনে যায়। দেখি অনেক লোক জড়ো হয়ে আছে এবং আমার স্ত্রী পারভীন আকতার বলে রামিসা পাশের ফ্ল্যাটে আটকা পড়ে আছে। আশপাশে থেকে আসা লোকজন জড়ো হয়। তারা ডাকাডাকি করে সাড়া না পাওয়াই তালা ভাঙার চেষ্টা করে একটা হাতুড়ি দিয়ে। দরজা পুরোপুরি লক ছিল। আমি দরজার লক ভাঙার চেষ্টা করি। পাশাপাশি অন্যরাও ভাঙার চেষ্টা করে। পরে লক ভেঙে  দরজা খুলে যায়। এরপর সবাই ভেতরে ঢুকে কমন রুমের দরজা খুলে দেখি শুধু রক্ত আর রক্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাসার ভেতরে ঢুকে দেখি ২ নম্বর আসামি স্বপ্না খাতুন দাড়িয়ে আছে রক্তের ওপর। তারা যেই রুমে বসবাস করত সেই রুমেও দেখি রক্ত। তাদের স্টিলের খাট ছিল, সেই খাটের নিচে আমার রামিসার লাশ ছিল মাথা থেকে বিচ্ছিন্ন। এরপর আর কিছু মনে নেই। এরপর আমি থানায় গিয়ে এজাহার লিখি আমার মেয়ে হত্যার বিচারের জন্য।’

আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় তিনি বলেন, ‘ওই মুহূর্তে আমি অফিসে ছিলাম। ফোন মেয়ে আমি বাসায় চলে আসি। আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ মিনিট লাগে বাসায় আসতে ‘ এ সময় আসামি পক্ষের আইনজীবী তাকে জেরা করে বলেন আপনি তো পুরো ঘটনাটা নিজের চোখে দেখেছেন কি? উত্তরে তিনি বলেন, না। এরপর জিজ্ঞাসা করেন এই আসামিকে আপনি আগে থেকে চিনতেন কি না, উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি আগে চিনতাম না। কোনো পূর্বশত্রুতাও ছিলো না।’

মায়ের সাক্ষ্য
১১টা ২ মিনিটে সাক্ষ্য দিতে কাঠগড়ায় উঠেন রামিসার মা পারভীন আক্তার। এ সময় তিনি যাহা বলিব সত্য বলিব, সত্য বলিব মিথ্যা বলিব না বলে শপথ করেন। এরপর তিনি বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তার নাম, ঠিকানা ও বয়স উল্লেখ করেন। 

তিনি বলেন, ‘আমি রান্না করছিলাম। আমার রান্না প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিলো। আনুমানিক ১০টার দিকে আমার বোর মেয়ে রাইসা ও ছোট মেয়ে রামিছা বড় চাচার বাসায় যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছিল। এরটু পর আমি রান্নাঘর থেকেই শব্দ পায়। পাশের বাসায় এই লোকেরা থাকে এটা আমি জানতাম না। আমি বারান্দায় তাকিয়ে ছিলাম ওরা কখন আসবে। একটু পর বড় মেয়ে রাইসা আক্তার বাসায় বাসে একা। তখন আমি জিজ্ঞাসা করি তুমি একা কেনো রামিসা কোথায়। তখন আমার বড় মেয়ে বলে রামিসা তো আমার সাথে যায় নাই। তখন আমি নিচে চলে যায়  খুঁজতে। আর লোকজনকে জিজ্ঞাসা করতে থাকি। লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে রামিসাকে দেখিনি। পরে আরও খোঁজাখুঁজি করার পর না পেয়ে দোতলায় ও তিন তলায় দরজা ধাক্কায়। তিনতলায় ছিল আসামির। তখন খেয়াল করে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখি আমার মেয়ের একটা জুতা। তখনও আমি চিৎকার শুনছিলাম। তখন চারতলা থেকে একটা হাজবেন্ড ওয়াইফ আসে। এরপর পাশের থেকে আরো লোকজন আসে। আসমা নামে একজন ও মনির নামে একজন এসে তারা পাশ থেকে আরও লোকজন আনে। এর মধ্যে আমি আমার হাজবেন্ডকে ফোন দিতে থাকি। তিনি বলেন, খুঁজে দেখো। তারপর অনেক জোরে বাইড়া বাইড়ি কইরা দরজা ভাঙি। অনেক বার দরজা খুলতে বললেও দরজাটা খুলে নাই ভিতর থেকে। দরজা ভেঙে খুলে দেখি আরে রক্তপাত। আর আমার আর মেয়ে নাই। ভেতরে ঢুকে দেখি মাথা কাঠা। মাথা একজায়গায় দেহ এক জায়গায়। খাটের নিচে লুকিয়ে রেখেছে। আর আর ২ নম্বার আসামি স্বপ্না দাড়িয়ে ছিল। তখন রাজু নামে একজন ভিডিও করছিলো। এসময় অঝোরে কান্না করে দেন রামিসার মা। কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন, পরে পুলিশ এসে আমার মেয়েকে দেখে, জামা কাপড় পরীক্ষা করে।’

এ সময় স্বপ্না আক্তার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি ওই মহিলাকে বারবার বলেছি দরজা খুলে দে, কিন্তু সে দরজা খুলে নাই। কাঠগড়ায় দাড়িয়ে থাকা স্বপ্নাকে দেখিয়ে বলেন এই সেই মহিলা।’

এ সময় সোহেলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময়ে আসামি সোহেলকে আমি দেখিনি। আমি অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম। পরে শুনি আসামি পালিয়ে গেছে। এই সেই আসামি।’

আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় পারভীন বলেন, ‘সিঁড়ি দিয়ে উঠে বামে আমার ফ্ল্যাট। আসামিদের ফ্লাট ডানে। তাদেরকে সাবলেট ভাড়া দেয়া হয়। তারা একরুম নিয়ে থাকতো। আমার মেয়ের জুতাটা দেখি রুমের দরজার বাইরে।’

এরপর তার মায়ের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে হলে ১১টা ৩০ মিনিটে অন ক্যামেরায় সাক্ষ্য দেন রামিসার বোন রাইসা আক্তার। এ সময় আদালত থেকে সবাইকে বের হওয়ার নির্দেশনা দেন বিচারক। ১১টা ৪৫ মিনিটে অন ক্যামেরায় তার বোনের সাক্ষ শেষ হলে। সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন রামিসার ফুফু। 

একে একে আদালতে সাক্ষ্য দেন রামিসার ফুফু মাহমুদা, মিজানুর রহমান লিটন, মনির হোসেন, জাকিরুল ইসলাম রাজু, শেখ আবু শামা, মনিরুজ্জামান শাহীন ও রুমা আক্তার।

নদীভাঙনে ২৬ পরিবারের ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীনের পথে
  • ০২ জুন ২০২৬
চার জেলায় ৫টার মধ্যে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির সতর্কবার্তা, ঘরে থাকা…
  • ০২ জুন ২০২৬
নিহত ৫ জনের মধ্যে ৪ জন মা-মেয়ে ও দুই ছেলে
  • ০২ জুন ২০২৬
এনসিসি ব্যাংকে চাকরি, কর্মস্থল ঢাকা, আবেদন ১৫ জুন পর্যন্ত
  • ০২ জুন ২০২৬
লম্বা ছুটি শেষে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ফিরছে পাবলিক …
  • ০২ জুন ২০২৬
সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ
  • ০২ জুন ২০২৬