আদালতে অধ্যাপক কার্জন © সংগৃহীত
সংবিধানের ৩৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রের কাছে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন।
তিনি অভিযোগ করেন, আইনজীবী নিয়োগে বাধা দেওয়া হয়েছে, থানায় ও কারাগারে ফ্যান ও সাবানের মতো ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও ছিল না। এসব দুর্ভোগের কারণে পুরো রাত ঘুমাতে পারেননি বলেও আদালতে উল্লেখ করেন তিনি। এই ‘হেনস্তার’ প্রতিকার হিসেবেই তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক কার্জনসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ আসামিদের আদালতে হাজির করে। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক তৌফিক হাসান তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানিতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. শামসুদ্দোহা সুমন আসামিদের আটক রাখার পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন।
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অধ্যাপক কার্জন বিচারকের উদ্দেশে বলেন, "মাননীয় আদালত, আপনি অনুমতি দিলে কিছু বলব।" অনুমতি পেয়ে তিনি হাতে থাকা সংবিধানের বই উঁচু করে বলেন, "আমাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। সংবিধানের ৩৩ নম্বর অনুচ্ছেদে যে অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে তা দেওয়া হয়নি। আইনজীবী নিয়োগ করতে দেওয়া হয়নি। থানায় কিংবা কারাগারে কোনো ফ্যান বা সাবান ছিল না। আমি সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। আমরা ভিক্টিম। অথচ পিপি যা বলেছেন সবই মিথ্যা। আমি প্রতিকার চাই। আমাদের সঙ্গে যেভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাঁচ কোটি টাকা চাই। আর এখনই জামিন চাই।"
তিনি আরও বলেন, "গতকাল সকাল ১০টায় ডিআরইউতে মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান ছিল। সেটির আহ্বায়ক জহিরুল হক পান্না, যাকে সবাই চেনেন। মঞ্চের সদস্য সচিব একজন মুক্তিযোদ্ধা, আর সেখানে প্রধান অতিথি হওয়ার কথা ছিল ড. কামাল হোসেনের। আমি আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। হঠাৎ একদল সন্ত্রাসী মঞ্চে হামলা চালায় এবং আমাদের তুলে নিয়ে যায়। আমরা আসল ভিক্টিম। কিন্তু যারা অপরাধী তাদের না ধরে আমাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"
শুনানি শেষে কারাগারে নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে সংবিধানের বই উঁচু করে ধরে তিনি বলেন, "এই সংবিধান ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। এটাকে রক্ষা করতে হবে।"
অধ্যাপক কার্জনের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী সাংবাদিকদের জানান, "গ্রেপ্তারের পর লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে যে পরিবেশে রাখা হয়েছে, সেখানে একটি ফ্যান পর্যন্ত নেই। ধুলোবালির মধ্যে তাদের রাখা হয়েছে, খারাপ আচরণ করা হয়েছে। সংবিধানের ৩৩ নম্বর অনুচ্ছেদে যেসব অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে।"