সাক্ষাৎকার

দালানকোঠার শহরে অবলা প্রাণীদের মুখে হাসি ফোটান আইনজীবী বায়েজীদ

কুকুরদের খাবার দিচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ বি এম বায়েজীদ

কুকুরদের খাবার দিচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ বি এম বায়েজীদ © টিডিসি ফটো

যে শহরে দালানকোঠা বৃক্ষ থেকেও বড়, সে শহরে পাখিদের খবর রাখে বা কয়জন? যে শহরে মানুষ মরে প্রতিদিন, সে শহরে অবলা প্রাণীদের খবর রাখে কয়জন! তবুও এই ব্যস্ত নগরীর বুকেই দেখা মেলে গুটিকয়েকজনের, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ বি এম বায়েজীদ। কোর্টের প্রাঙ্গণে অবলা ক্ষুধার্ত পশু-পাখির মাঝে প্রায়ই খাবার বিতরণ করতে দেখা যায় তাঁকে। নিজের শত ব্যস্ততার মাঝেও সময় বের করে সুপ্রিম কোর্টের প্রাঙ্গণে খাবার বিতরণ করেন সত্তরোর্ধ্ব এই পশু-পাখিপ্রেমী আইনজীবী।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তামজিদ হোসেন মজুমদার, ববি
আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৫ PM

যে শহরে দালানকোঠা বৃক্ষ থেকেও বড়, সে শহরে পাখিদের খবর রাখে বা কয়জন? যে শহরে মানুষ মরে প্রতিদিন, সে শহরে অবলা প্রাণীদের খবর রাখে কয়জন! তবুও এই ব্যস্ত নগরীর বুকেই দেখা মেলে গুটিকয়েকজনের, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ বি এম বায়েজীদ। কোর্টের প্রাঙ্গণে অবলা ক্ষুধার্ত পশু-পাখির মাঝে প্রায়ই খাবার বিতরণ করতে দেখা যায় তাঁকে। নিজের শত ব্যস্ততার মাঝেও সময় বের করে সুপ্রিম কোর্টের প্রাঙ্গণে খাবার বিতরণ করেন সত্তরোর্ধ্ব এই পশু-পাখিপ্রেমী আইনজীবী।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস-এর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি তামজিদ হোসেন মজুমদার-এর সাক্ষাৎকারে সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ বি এম বায়েজীদ তাঁর ব্যস্ত জীবনে পশু-পাখিপ্রেমী হয়ে ওঠার গল্প, এ পথ চলার প্রতিবন্ধকতা ও প্রাণীকল্যাণ আইন প্রসঙ্গে তাঁর মতামত তুলে ধরেন।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: আইন পেশার পাশাপাশি অবলা প্রাণীদের খাবার দেওয়ার চিন্তা কীভাবে এল?
অ্যাডভোকেট বায়েজীদ: আমি ছোটবেলা থেকে একটু মানবিক প্রকৃতির মানুষ, যার ফলে একটু মানবতাবোধ যেখানে প্রয়োজন আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করি। যখন আইন পেশায় এলাম, ঢাকায় এলাম, ধানমন্ডি লেকের পাড়ে অবলা প্রাণীদের পাশাপাশি পাখিদেরও খাবার দিই। এখানেও (সুপ্রিম কোর্ট) বিড়ালদের আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করি এবং খাবার দিই।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: কখন থেকে এ কাজটি শুরু করেছেন? প্রথম দিকের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
বায়েজীদ: ৯৬ সালের দিকে ধানমন্ডি লেকের পাড়ে আমি যখন হাঁটাহাঁটি করতাম, সে সময় থেকে আমি এসব কাজ শুরু করি। লেকের পাড়ে কুকুর, বিড়াল, পাখিদের আমি খাবার দিই। তবে কোভিড পিরিয়ডে আমি একটু স্পেশাল কেয়ার নিয়ে এ কাজটা শুরু করি।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: প্রতিদিন কোন কোন এলাকায়, কোন সময়ে খাবার দেন?
অ্যাডভোকেট বায়েজীদ: প্রতিদিন খাবার দেওয়া হয় না, শুক্র আর শনিবার বাদ যায়। আর বাকি দিনগুলোতে খাবার দেওয়া হয়। যেমন ধানমন্ডি লেকের পাড়ে, কোর্টের প্রাঙ্গণে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার কয়টি বিড়াল রয়েছে?
অ্যাডভোকেট বায়েজীদ: আমার বাসায় দুটি বিড়াল রয়েছে। আর এখানেও (সুপ্রিম কোর্ট) দুটি রয়েছে। তবে এখানে আরও অনেক বিড়াল রয়েছে, যারা আমার কাছে আসে, খাবার খায়, আবার চলে যায়।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যে সময় কীভাবে বের করেন?
অ্যাডভোকেট বায়েজীদ: পেশাগত ব্যস্ততার মাঝে এসব কাজ করতে একটু জটিল হয়, তবে আপনাকে কোনো কাজ করতে হলে সময়টা বের করে নিতে হয়। যেমন আমি রাতে বাসায় ফেরার পথে ওদের জন্য খাবার কিনে নিয়ে যাই। কারণ ভোর ছয়টা-পাঁচটার দিকে আমি ওদের খাবার দিই, তখন তো আর দোকান খোলা পাব না। আমার নিজের কাজের মধ্যেই অবসর টাইমটা খুঁজে বের করি।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার এ কাজে পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীরা কীভাবে সাড়া দেয়?
অ্যাডভোকেট বায়েজীদ: কিছু কিছু লোক আছে, খুবই উৎসাহিত করে। সুপ্রিম কোর্টের একজন চিফ জাস্টিস আমাকে প্রায় ধানমন্ডি লেকের পাড়ে লক্ষ করতেন। একদিন উনি আমাকে খাবার দেওয়া দেখে বললেন যে ‘আল্লাহ আপনাকে প্রতিদান দিন’। একটু পরে তিনি বলেন, আমি আপনার কাজটাতে একটু কন্ট্রিবিউট করতে চাই। এরপর তিনি পাঁচশো টাকা করে পরপর ৪ বার দিয়েছেন। কিন্তু আমি তো উনার কাছে টাকা চাইনি, উনি দিয়েছেন। এসব আমাকে উৎসাহিত করে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: এ কাজে প্রতি মাসে কত টাকার মতো খরচ হয়?
বায়েজীদ: আসলে আমি এটা কখনো বলতে চাই না। এটা একপ্রকার দান, এটা আমি বলব কেন, আমি এটা বলতে চাই না। এ কাজ আমাকে আনন্দ দেয়, এটুকুই। আমি এতে এনার্জি খুঁজে পাই।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: এ কাজ করতে গিয়ে কোনো বাধা বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন?
অ্যাডভোকেট বায়েজীদ: দু-একজন লোক আছে যারা পছন্দ করে না। তারা চায় এসব কাজ আমি বাসায় করি, এখানে যাতে না করি। এমন দু-একজন সব জায়গায়ই আছে, এখানেও আছে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: কোনো প্রাণী নির্যাতনের ঘটনায় আপনি কখনো আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন?
অ্যাডভোকেট বায়েজীদ: আমি একবার একটি জিডি করেছিলাম এবং রিকুয়েস্ট করেছিলাম, এটা যাতে দেখে এবং এই মামলার যত খরচ আসে তা আমি দেব। পরে ব্যস্ততার কারণে আর দেখা হয়নি।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: প্রাণীদের সঙ্গে বিশেষ বা হৃদয়বিদারক কোনো ঘটনা আছে কি?
অ্যাডভোকেট বায়েজীদ: প্রাণীদের সাথে আমার সব ঘটনাই বিশেষ, তবে একটি কষ্টদায়ক ঘটনা আছে। আমার দুটি বিড়ালের বাচ্চা ছিল, তারা একবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তাদের আমি দেখভাল করার জন্য চেম্বারে নিয়ে আসি। একপর্যায়ে দেখি একটি বিড়াল খাবার খাচ্ছে না। তখন আমি তাকে বাড়ি নিয়ে যাই, আমার মেয়ে তাকে অনেক যত্ন করা শুরু করে। তবে আমি লক্ষ করেছি, বিড়ালটি খুব আইসোলেট হয়ে পড়েছিল। একপর্যায়ে সে মারা যায়, তখন আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। আমি তাকে ধানমন্ডি লেকের পাড়ে সুন্দর করে কবর দিয়ে আসি। এবং ওখানে মাঝে মাঝে দেখতে যাই।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: এ কাজ আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে কী দেয়?
অ্যাডভোকেট বায়েজীদ: এসব কাজ আমাকে প্রশান্তি দেয়, এতে আমি স্যাটিসফ্যাকশন পাই। আর এ কাজ আমার ভালো লাগেই, আমি আনন্দ পাই। এদের খাবার দিতে গিয়ে আমার একটা আত্মতৃপ্তি আসে। এতে যদি আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হন, আমি নিজেও সন্তুষ্ট হই। যার ফলে আমি ওদের একটু খাবার দিতে গিয়ে নিজেও একটু প্রশান্তি পাই। কেউ যদি ওদের মারে, এতে আমি কষ্ট পাই।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: শহরের সাধারণ মানুষ রাস্তার প্রাণীদের প্রতি কতটা সংবেদনশীল বলে মনে করেন?
অ্যাডভোকেট বায়েজীদ: কিছু লোক অবলা প্রাণীদের যত্ন করে, খাবার দেয়। তবে অনেক লোক আছে যারা এটা পছন্দ করে না। এবং কিছু কিছু লোক আছে, এটাকে তারা তিরস্কার করে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: প্রশাসনের কাছে আপনার কী প্রত্যাশা?
অ্যাডভোকেট বায়েজীদ: বিশ্বের কিছু বিশেষ দেশ আছে, তারা অবলা প্রাণীদের খাবার দেয়, এবং অনেক দেশ আছে দুবেলা খাবার দেয়। আসলে এসব দেশ কিন্তু অনেক সভ্য। কর্তৃপক্ষের উচিত অবলা প্রাণীদের প্রতি একটু দৃষ্টি রাখা।

উল্লেখ্য, ২৪ সালে ৫৪ জন আইনজীবীকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত (এনরোলমেন্ট) করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট এ বি এম বায়েজীদ (৭৪)। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি মানবিক ও পশু-পাখিপ্রেমী ছিলেন। তবে কর্মজীবনে আসার পর থেকে শহরের পশু-পাখিদের প্রায়ই খাবার দেওয়া শুরু করেন। তাঁর এ কাজ চিফ জাস্টিসসহ নানা পেশাজীবী মানুষের দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

কোন ধর্মাবলম্বীদেরকেই ছোট করা যাবে না: ‍শিক্ষামন্ত্রী
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষকদের গবেষণা ও পাঠদান মূল্যায়নে রুয়েট শিক্ষার্থীর ‘ফ্যা…
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬
স্পিকারের সঙ্গে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সৌজন্য সা…
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬
২ মাসে স্কলারশিপ পেলেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ শিক্ষার্থী
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬
হাসিনার আগমন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে সকালে ছাত্রলীগের মিছিল…
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রাইভেট কারে মিলল ২১৫ বোতল ভারতীয় মদ, আটক ২
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬