সাক্ষাৎকার

ডাকসু নির্বাচনকে ঢাবির একাডেমিক ক্যালেন্ডারভুক্ত করতে না পারা ছাত্ররাজনীতির সামগ্রিক ব্যর্থতা

হাসিব আল ইসলাম

হাসিব আল ইসলাম © টিডিসি সম্পাদিত

ছাত্ররাজনীতির হালচাল, পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন, হলে হলে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির প্রত্যাবর্তনের শঙ্কাসহ ক্যাম্পাসের সমসাময়িক নানা ইস্যু নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা...
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিসবাহুর রশীদ মাসুম
আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৫ PM

ছাত্ররাজনীতির হালচাল, পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন, হলে হলে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির প্রত্যাবর্তনের শঙ্কাসহ ক্যাম্পাসের সমসাময়িক নানা ইস্যু নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সভাপতি হাসিব আল ইসলাম—

পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন কবে হওয়া উচিত বলে মনে করেন?
হাসিব আল ইসলাম: জাতীয় ছাত্রশক্তি শুরু থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু নির্বাচনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডার কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে। আমরা মনে করি, ডাকসু নির্বাচনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্যালেন্ডার কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করতে না পারা ছাত্ররাজনীতির সামগ্রিক ব্যর্থতা। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত আয়োজন করা জরুরি। এটি কোনো বিশেষ পরিস্থিতি বা রাজনৈতিক সংগঠনের সুবিধা-অসুবিধার ওপর নির্ভর করতে পারে না।

যেহেতু বর্তমান ডাকসুর মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাই জাতীয় ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে আমরা অবিলম্বে পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি। ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরও দায়িত্ব ছিল মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবিতে প্রয়োজন হলে আন্দোলনে নামা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা সেই ভূমিকা পালন করেননি।

বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা শুনতে পাচ্ছি, ছাত্রদলের কমিটি গঠনে বিলম্বের কারণে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের সাংগঠনিক সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্বের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে তা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সুমহান আদর্শের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা। আমরা মনে করি, শিক্ষার্থীদের অধিকার কোনো সংগঠনের রাজনৈতিক সুবিধার কাছে জিম্মি হতে পারে না।

আমাদের দাবি স্পষ্ট, অবিলম্বে পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে এবং ভবিষ্যতে ডাকসু নির্বাচনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্যালেন্ডার কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চাও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।

৫ আগস্টের পর ছাত্ররাজনীতিতে গুণগত কোনো পরিবর্তন এসেছে কি? এলে সেই পরিবর্তনগুলো কেমন?
হাসিব আল ইসলাম: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ছাত্ররাজনীতিতে যে ইতিবাচক পরিবর্তন আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, বাস্তবে তা অর্জিত হয়নি। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির একটি নতুন ধারা প্রতিষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীদের অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সহাবস্থান এবং জবাবদিহির ভিত্তিতে ছাত্রসংগঠনগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং ক্যাম্পাসগুলোতে আবারও পুরোনো ধারার সহিংস রাজনীতি ফিরে এসেছে।

আমরা মনে করি, এই ব্যর্থতার দায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ফ্যাসিবাদবিরোধী সব ছাত্রসংগঠনের নেতাদের নিতে হবে। গণ-অভ্যুত্থানের পর ছাত্ররাজনীতি কোন নীতিতে পরিচালিত হবে, শিক্ষার্থীদের অধিকার কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে এবং ক্যাম্পাসে সহিংসতা কীভাবে প্রতিরোধ করা হবে এসব বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেই রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে আমরা প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখতে পাইনি।

ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আসে না; বরং রাজনৈতিক চর্চা, সাংগঠনিক সংস্কৃতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ববোধের পরিবর্তনও জরুরি। পুরোনো ধারার আধিপত্যবাদী ও সহিংস রাজনীতি বন্ধ করে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হবে না। ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি কার্যকর রূপরেখা তৈরির ব্যর্থতার পরিণতি সমগ্র শিক্ষার্থী সমাজকে ভোগ করতে হবে।

হলগুলোতে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরে আসার যে শঙ্কা রয়েছে, তা কতটা বাস্তব? এ ধরনের সংস্কৃতি প্রতিরোধে আপনারা কী ভূমিকা রাখছেন?
হাসিব আল ইসলাম: আমরা ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হল দখল এবং পুরোনো সন্ত্রাসী রাজনৈতিক সংস্কৃতি পুনরায় চালু করার প্রবণতা লক্ষ্য করছি। আমাদের আশঙ্কা, এ ধরনের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের আবাসন ও স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন আবারও রাজনৈতিক প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।

গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি শুধু আবাসন সংকটের বিষয় নয়; এর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নও জড়িত। অতীতে এ ধরনের সংস্কৃতির কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং হলের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে। আমরা চাই না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবারও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হোক।

জাতীয় ছাত্রশক্তি কখনোই ছাত্রদলের হল দখলের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হতে দেবে না। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে হল দখল ও সন্ত্রাসী রাজনীতির যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। আমরা মনে করি, হলগুলো শিক্ষার্থীদের আবাসস্থল; কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জায়গা নয়। আবাসন নিশ্চিত করা এবং হলের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

হলের আবাসনসংকট, খাবারের মান ও লাইব্রেরির পরিবেশে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি? এসব সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা কীভাবে দেখছেন?
হাসিব আল ইসলাম: হলের আবাসন সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো আসন বণ্টনের নীতিমালা চূড়ান্ত করতে পারেনি। আমাদের আশঙ্কা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ইশারায় হয়তো এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ছাত্রদলের হল দখলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করতেই আসন বণ্টনের নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে না বলে আমরা মনে করি। তবে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে স্বচ্ছ ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি। আসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে নিয়ম, যোগ্যতা ও প্রকৃত প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে হবে।

খাবারের গুণগত মানের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি। হল প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির ঘাটতিকে আমরা এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছি। শিক্ষার্থীদের খাবারের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে খাবারের গুণগত মানের উন্নতি নিশ্চিত করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলে থেকে পড়াশোনা করেন। তাই তাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী খাবার নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত তদারকি, খাবারের মান পরীক্ষা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে, লাইব্রেরির পরিবেশে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। তবে আমাদের দৃষ্টিতে, লাইব্রেরিকে শুধু চাকরির প্রস্তুতির কেন্দ্র হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; এটিকে গবেষণার হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে লাইব্রেরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সে জন্য পর্যাপ্ত গবেষণাসামগ্রী, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিগুলো চাকরির প্রস্তুতির পাশাপাশি জ্ঞান উৎপাদন ও গবেষণার প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠুক।

৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রশাসন ও বর্তমান প্রশাসনের মধ্যে বড় কোনো পার্থক্য দেখছেন কি? শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় বর্তমান প্রশাসনের ভূমিকা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
হাসিব আল ইসলাম: আমাদের মূল্যায়নে, বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুরোপুরি বিএনপি প্রশাসন হিসেবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে ছাত্রদলের স্বার্থ রক্ষাই তাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে আমরা মনে করি। একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব হলো সব শিক্ষার্থীর অধিকার নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং ক্যাম্পাসে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের কার্যক্রমে আমরা সেই নিরপেক্ষতার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি না।

আমাদের অভিযোগ, বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আওয়ামী লীগ আমলের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে। শাহবাগে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি। আমাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মী হওয়ায় প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এ ধরনের আরও অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যাবে।

আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় কোনোভাবেই প্রভাব ফেলতে পারে না। কোনো শিক্ষার্থী বা ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। একইভাবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বা সাংবাদিক যে রাজনৈতিক পরিচয়েরই হোন না কেন, তাঁদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মূল দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা। প্রশাসন যদি কোনো নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়, তাহলে অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য ও অনাস্থা তৈরি হবে। আমরা চাই, প্রশাসন দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করুক এবং ক্যাম্পাসে সংঘটিত হামলা ও অনিয়মের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনুক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মব কালচার বন্ধ হয়েছে কি? এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন?
হাসিব আল ইসলাম: না,মব কালচার প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো ঘটনা ঘটলে সেটিকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার না করে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

আমরা মনে করি, ক্যাম্পাসে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা গেলে এবং অপরাধের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের সংস্কৃতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রশাসনের দায়িত্ব হলো, কোনো পক্ষের প্রতি পক্ষপাত না করে সব শিক্ষার্থীর অধিকার রক্ষা করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা।

আগামী ডাকসু নির্বাচনে জয়ী হলে শিক্ষার্থীদের কোন ধরনের ম্যান্ডেটকে প্রাধান্য দেবেন? আপনাদের অগ্রাধিকার কী হবে?
হাসিব আল ইসলাম: আগামী ডাকসু নির্বাচনে জয়ী হলে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রধান অগ্রাধিকার হবে ডাকসু নির্বাচনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্যালেন্ডার কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা। আমরা মনে করি, ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত আয়োজনের ব্যবস্থা করা গেলে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি হবে। কোনো প্রশাসন বা ছাত্রসংগঠনের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর যেন শিক্ষার্থীদের এই অধিকার নির্ভর না করে, সে জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

আমাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হবে নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে আমরা শুধু সাময়িক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করতে চাই না; বরং নিরাপদ ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে চাই। শিক্ষার্থীদের আবাসন, নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ এবং স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সমান অধিকার ভোগ করতে পারেন। হলগুলোতে আসন বরাদ্দ, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হবে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে ডাকসুকে কার্যকর শিক্ষার্থী প্রতিনিধিত্বের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।

যেভাবে অফিস সহায়ক ও কম্পিউটার অপারেটরের কাছ থেকে ছড়িয়ে পড়ে …
  • ১৬ অক্টোবর ২০২৬
বঙ্গভঙ্গ, নবাব সলিমুল্লাহর জীবন বাজি এবং রাজধানী ঢাকার পুনর…
  • ১৬ অক্টোবর ২০২৬
সিন্ডিকেট করে পেয়াজের দাম বৃদ্ধি, ৬ কোম্পানিকে ২১০ কোটি টাক…
  • ১৬ অক্টোবর ২০২৬
উড়ন্ত কার উন্মোচন করলেন ইলন মাস্ক, বাজারে আসতে পারে ২০২৮ স…
  • ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ডাকসু নির্বাচনকে ঢাবির একাডেমিক ক্যালেন্ডারভুক্ত করতে না পা…
  • ১৬ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষার্থীদের চাঁদায় শিক্ষক দিবস, পার্টি স্প্রেতে ছাত্রীর চ…
  • ১৬ অক্টোবর ২০২৬